চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২০ জুলাই, ২০২২ | ১:০৪ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী 

চট্টগ্রামের ২৮২ শিক্ষার্থী বৃত্তির আওতায়

প্রবাসীর সন্তানদের মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি

চট্টগ্রামের ২৮২ শিক্ষার্থী দুই কোটি ২৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সবাই প্রবাসীদের মেধাবী সন্তান। এর মধ্যে ৮৫ জন ২০২০ সালে এইচএসসি/সমমান এবং ১৯৭ জন ২০২১ সালে এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়। প্রবাসী সন্তানদের মেধাবী শিক্ষা বৃত্তির আওতায় সরকার এ টাকা দিচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এ রেজাল্ট ঘোষণা করে। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত শিক্ষা বৃত্তির জন্য আবেদনকৃত দরখাস্ত যাচাই-বাছাইশেষে এ রেজাল্ট ঘোষণা করে। বাছাইকৃত শিক্ষার্থীর মধ্যে এসএসসি/সমমানে পাস ১৯৭ শিক্ষার্থী বার্ষিক ২৭ হাজার ৫০০ টাকা করে দুই বছর এবং এইচএসসি/সমমানে পাস ৮৫ শিক্ষার্থী বার্ষিক ৩৫ হাজার টাকা করে চার বছর বৃত্তি পাবে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২১ সালে এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে প্রবাসী সন্তানদের যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা ডিপ্লোমা (প্রথম সেমিস্টার) শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মূলত তারাই এ আবেদনের যোগ্য হয়। একই সাথে ২০২০ সালে এইচএসসি/সমমান ক্যাটাগরিতে বিশ^বিদ্যালয়/মেডিকেল (প্রথম সেমিস্টার/বর্ষে) অধ্যয়নরত তারাও অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পায়। এ ক্ষেত্রে এসএসসি কিংবা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ গ্রেড অথবা বাণিজ্য ও মানবিকে ৪.৭৫ গ্রেডে পাসের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া প্রবাসী মৃত হলে তার সন্তান পাসের গ্রেডে কিছুটা শিথিল করা হয়। বিজ্ঞান, বাণিজ্য কিংবা মানবিক বিভাগে জিপিএ-৪ গ্রেডে পাস করা শিক্ষার্থীরা আবেদনে সুযোগ পায়। অপরদিকে এসএসসি কিংবা সমমান পরীক্ষার তুলনায় এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় পাসের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়। ২০২০ সালে এইচএসসি অথবা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৪.৮০ গ্রেড অথবা বাণিজ্য ও মানবিকে ৪.৫০ গ্রেডে উত্তীর্ণরা আবেদন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসী মৃত হলে তার সন্তান পাসের গ্রেডে বিজ্ঞান, বাণিজ্য কিংবা মানবিক বিভাগে জিপিএ-৪ গ্রেডে উত্তীর্ণ হলেই আবেদনের সুযোগ পায়। একই সাথে এসএসসি কিংবা সমমান ও এইচএসসি/সমমান ক্যাটাগরিতে বৃত্তির সাথে বছরে এককালীন বই ও শিক্ষা উপকরণসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ যথাক্রমে আরো সাড়ে তিন হাজার ও চার হাজার মিলে সাড়ে ৭ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক প্রবাসী মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম শুরু করে সরকার। এ ক্ষেত্রে পিইসি পাস মেধাবী শিক্ষার্থী বার্ষিক ১৪ হাজার টাকা করে তিন বছর, জেএসসি পাস মেধাবী শিক্ষার্থী ২০ হাজার ৫০০ টাকা করে দুই বছর, এসএসসি পাস মেধাবী শিক্ষার্থী সাড়ে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা করে দুই বছর এবং এইচএসসি পাস মেধাবী শিক্ষার্থী বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করলে বার্ষিক ৩৫ হাজার টাকা করে ৪ বছর এবং মেডিকেলে অধ্যয়রত শিক্ষার্থী একই পরিমাণ টাকা ৫ বছর ধরে বৃত্তি পাচ্ছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা চেকের মাধ্যমে এ বৃত্তি পায়।

জানতে চাইলে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘প্রবাসীর মেধাবী সন্তানের আবেদনের পর যাচাই-বাছাই করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড শিক্ষা বৃত্তির এ টাকা চেকের মাধ্যমে প্রদান করে। এবার ২০২১ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় চট্টগ্রামের ১৯৭ জন এবং ২০২০ সালের এইচএসসি/ সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়।’

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট