চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

১৮ জুলাই, ২০২২ | ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা অমাবস্যার জোয়ারে আতঙ্কিত

গত পূর্ণিমার জোয়ারের সময় বৃষ্টিপাত ছিল না। তবুও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের অনেক দোকান, বাসা, আড়ত এবং গুদামে পানি প্রবেশ করে। তা দুপুরবেলায় হওয়ার কারণে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক অনেক কম হয়েছে। যদিও বৃষ্টি নেই, এখন চলছে বর্ষা মৌসুম। আগামী অমাবস্যার রাতে জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে পানির উচ্চতা আরো বাড়বে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাসা-বাড়ির সামনে দেয়া পানির প্রতিরোধক দেয়াল আর কাজ করবে না। সেই দুশ্চিন্তায় আছেন দেশের ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকালে তারা জানান, ২০১৭ সালে জলাবদ্ধতার শিকার হন চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। ওই সময় শত শত কোটি টাকার কাঁচামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। পানিতে ভিজে পণ্য নষ্ট হওয়ায় কোটি কোটি টাকা লোকসান দিয়ে কেউ কেউ সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এরপর প্রতিটি দোকানের সামনে নির্মিত পানি প্রতিরোধী দেয়াল আরো উঁচু করা হয়। পরবর্তীতে চাক্তাই খাল ও রাজাখালী খাল খনন এবং খালের মুখে স্লুইচ গেট নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তাতে ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু অত্যন্ত শম্ভুক গতিতে চলা কাজ কয়েক বছরেও শেষ হয়নি। গত পূর্ণিমার জোয়ারে তারা যে বার্তা পেয়েছেন তাতে সামনের অমাবস্যার জোয়ার তাদের মাঝে ভীতি ছড়াচ্ছে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, তারা জোয়ার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জোয়ারের পানির সাথে যদি ভারী বৃষ্টির পানি যোগ হলে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের কী অবস্থা হবে তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের রাজস্ব খাতে যে এলাকাটি সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে সেই চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজারের বেচা-কেনা যদি জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে করতে হয় তাহলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কি হতে পারে।

হামিদ উল্লা খান বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস পূর্বকোণকে বলেন, জলাবদ্ধতার ভয়ে প্রতিটি দোকান, গুদাম এবং আড়তের সামনে দুই থেকে তিন ফুট উঁচু পাকা দেয়াল তুলে দেয়া হয়েছে। গত কয়েক দিনের পূর্ণিমার জোয়ারের পানি প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনের প্রতিরোধী দেয়ালের সমান হয়েছে। কোন কোন দোকানে দেয়াল বেয়ে পানি প্রবেশ করেছে। তবে জোয়ারের পানি দিনের বেলায় আসার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তেমন বাড়েনি। আল্লাহ এর সবচেয়ে বড় রহমত ছিল সেদিন বৃষ্টিপাত হয়নি। অথচ এখন বর্ষা মৌসুম চলছে। তিনি বলেন, আগামী অমাবস্যায় কী হবে জানি না। সেদিন যদি বৃষ্টিপাত হয় তাহলে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন