চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৬ জুলাই, ২০২২ | ৬:২৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কাঁঠাল থেকেই চিপস-আচার-দইসহ ১২ পণ্য, দেশে এই প্রথম

দেশে প্রথমবারের মতো কাঁঠাল থেকে ১২টি প্যাকেট এবং বোতলজাত পণ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআই)। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে- মুখরোচক জ্যাম, চাটনি, আচার, দই, চিপসও। বিআরআই’র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী জানান, দেশে প্রথমবারের মতো এসব পণ্য উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা কমানো সম্ভব।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা জানান। এতে ‌‘Postharvest Technologies of Jackfruits and its Marketing Strategy –Ways to Move Forward’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়েছে।

কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) অর্থায়নে এবং নিউভিশন সলিউশন্স লিমিটেডের সহযোগিতায় একদল গবেষক কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করে মুখরোচক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছেন।

 

কর্মশালায় ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী জানান, এ প্রকল্পের আওতায় কাঁঠালের প্রক্রিয়াজাত করে কাঁঠালের জ্যাম, আচার, চাটনি, চিপস, কাটলেট, আইসক্রিম, দই, ভর্তা, কাঁঠালস্বত্ব, রেডি টু কুক কাঁঠাল, ফ্রেশকাট পণ্যসহ আরও বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটজাত পণ্য তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। প্রক্রিয়াজাত পণ্যগুলো ঘরে রেখে সারাবছর খাওয়া যাবে। কাঁঠাল থেকে এসব পণ্য উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা কমানো সম্ভব।

মার্কেটিং ও সাপ্লাই চেইনবিষয়ক পরামর্শক অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, উদ্ভাবিত পণ্যগুলো বাজারজাত করার জন্য চট্টগ্রামসহ দেশের আটটি জেলা ও অন্যান্য উপজেলা শহরগুলোতে কাঁঠালের তৈরি পণ্যগুলোর বিপনণের কাজ চলছে।

নিউভিশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক (রিসার্চ) আতিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন জেলা–উপজেলায় কাঁঠালের প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরির কাজে বিএআরআই ও নিউভিশন যৌথ প্রয়াসে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ জন উদ্যোক্তা গঠনে সক্ষম হয়েছে। উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য প্রকল্পের আওতাধীন জেলা–উপজেলাগুলোর বিভিন্ন সুপারশপ ও মাঝারি ধরনের ডিপার্টমেন্টাল শপে পরীক্ষামূলকভাবে বিক্রি হচ্ছে।

 

বিআরআইয়ের প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হাফিজুল হক খানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোফাজ্জাল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিআরআইয়ের ইনচার্জ ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুনর রশীদ।

উপস্থিত ছিলেন নিউভিশন সলিউশন্স লিমিটেডের প্রকল্প ম্যানেজার কাইজার-ই-আলম, চট্টগ্রাম বিসিক এর উপ-ব্যবস্থাপক তানিজা জাহান, চট্টগ্রাম মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাধবী বড়ুয়া প্রমুখ।

 

পূর্বকোণ/এএস/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট