চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৬ জুলাই, ২০২২ | ৫:৪০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে গৃহবধূ পিংকি হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পিংকি দাশ নামে এক গৃহবধূ হত্যার বিচার দাবিতে মাননবন্ধন করেছে পটিয়া নাগরিক কমিটি। বুধবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে নিহত পিংকি দাশের শিশু কন্যা অপসরা ও ছেলে অর্জুন কান্নায় ভেঙে পড়ে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলেন, মা এসো আমরা বাড়ি যায়, ও মা তুমি আমাদের সাথে যাবে না, আমাদের আদর করবে না, আমাদের ভাত খাওয়াবে না!

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দাদু রতন বিশ্বাস, সুব্রত কানুনগো, লোকমান হোসেন বাপ্পা, নিহতের ভাই দিপংকর বিশ্বাস, দুলাল বিশ্বাস, মানুশুকলা দাশ, চন্দন শুকলা দাশ, স্বপ্না বিশ্বাস, শান্তা বিশ্বাস, গৌরি বিশ্বাস, মিরা বিশ্বাস, টুনু চক্রবর্তী, লিপি চক্রবর্তী, জুয়েল দত্ত প্রমুখ।

নিহতের ভাই দীপংকর বলেন, গত ২৫ জুন বিকেলে আমার বোন পিংকি দাশকে তার স্বামী অলক দাশ, মুন্নি দাশ, ভগ্নিপতি শিমুল দাস এবং সন্তোষ দত্ত মিলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে নির্মমভাবে নিজ ঘরে হত্যা করেছে। হত্যার পর তারা সেটাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চেষ্টা করে। আমার বোনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আমরা দেখেছি। ছাড়াও ফাঁসি খেয়ে আত্মহত্যা করেছে বললেও আমার বোনকে পুলিশ কিংবা কোন আত্মীয় স্বজন ফাঁসিতে ঝুলানো অবস্থায় দেখেনি। মুখে কিংবা গলায় ফাঁসিতে আত্মহত্যার আলামতও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন নিহতের ভাই দিপংকর বিশ্বাস।

তিনি আরও বলেন, আমার বোনকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতো স্বামী অলক দাশ। বিয়ের পর থেকে সব সময় বোনকে জ্বালাতন করতো অলকের বোন মুন্নি দাশ ও তার স্বামী শিমুল বিশ্বাস। বোনের সুখের জন্য বিভিন্ন সময় নগদ অর্থদিয়েও অলককে সহযোগিতা করেছি। আমাদের টাকা দিয়ে অলককে বিদেশে পাঠিয়েছি।

দিপংকর আরও বলেন, অলক দাশ ভারতের বারসাতের রুমকী দে নামে এক নারীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কে রয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ১১ বছর আগে আমার বোনের সাথে অলক দাশের বিয়ে হয়। গত দুই মাসে আগে কাঁঠালের পাতা খাওয়ার সময় ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ফাঁস খেয়ে একটি ছাগলের মৃত্যু হয়। ননদের কথা মতো শাশুড়িকে না জানিয়ে ছাগলটি কেটে ফেলা হয়। অপরাধ ছিল এতটুকুই। এরপর থেকেই শুরু হয় তার বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দেড় মাস আগে স্থানীয় চার নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সন্তোষ দত্ত পিংকিকে যৌন নির্যাতন করায় তার বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাতকানিয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে আমার বোনকে অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এছাড়া এই মামলা প্রত্যাহার এবং দুটি লিখিত ও তিনটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দেয়ার জন্য অভিযুক্তরা পিংকিকে চাপ দেয়। পিংকি উক্ত মামলা প্রত্যাহার ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর না করায় অলক দাশ, মুন্নি দাশ, শিমুল দাশ ও সন্তোষ দত্ত মিলে পিংকিকে হত্যা করে।

পূর্বকোণ/পিআর/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট