চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৬ জুলাই, ২০২২ | ১২:৪১ অপরাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ 

ছয় হাজার বন্দীকে আপ্যায়ন করা হবে পোলাও গরু-খাসির মাংসে

পবিত্র ঈদ উল আজহা উপলক্ষে পোলাও গরু ও খাসির মাংস দিয়ে আপ্যায়িত করা হবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ছয় হাজারের বেশি বন্দীকে। ছয় হাজার চল্লিশজন বন্দী এবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদ উল আজহা উদযাপন করবেন। করোনার মহামারীতে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্বজনের সাথে দেখা করতে পারেননি বন্দীরা। সাম্প্রতিক সময়ে পনেরো দিন পর পর বন্দীর স্বজনদের সাথে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছে। এবারের ঈদ উল আজহা উপলক্ষে বন্দীদের জন্য উন্নতমানের খাবারের আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। ঈদকে কেন্দ্র করে বিগত সময়ে কারাগারে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত। করোনার এ দুই বছরে কিন্তু তা নেই। গত বছরও সাদামাটা ঈদ উদযাপন করেছেন বন্দীরা। কারাকর্তৃপক্ষ জানিয়েছে করোনার কারণে দেড় বছর ধরে স্বজনের সাথে বন্দীদের সাক্ষাৎ বন্ধ ছিল। মাঝখানে একমাস সাক্ষাৎ কক্ষ খুলে দেয়া হয়েছিলো। পরে আবারো বন্ধ করে দেয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ১৫ দিন পর পর নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে স্বজনদের সাথে দেখা করছেন বন্দীরা। করোনায় বন্দীদের নিরাপদ রাখতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে কোন বন্দী চাইলে কারাগারে থাকা সরকারি ফোনে স্বজনের সাথে কথা বলতে পারেন। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার দেওয়ান মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, করোনা প্রকোপ থেকে বন্দীদের নিরাপদ রাখতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে

কারাগারে। সাক্ষাৎ কক্ষে দর্শনার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বিধায় আপদকালীন সময়ে আপাতত সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়েছিল। কারাগারের ২৪টি ওয়ার্ডকে কোয়ারেন্টিন ওয়ার্ড হিসাবে তৈরি করা হয়েছে। সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন বন্দীদের হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজ করার পর ১৪দিন কোয়ারেন্টিন ওয়ার্ডে রেখে তারপর সাধারণ ওয়ার্ডে পাঠানো হচ্ছে।

জেলার জানান, অন্য সময়ে ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন বন্দীদের জন্য স্বজনরা বাড়িতে রান্না করা খাবার নিয়ে আসার সুযোগ পেতো। করোনার শুরু থেকে এ সুযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। এবারের ঈদ উল আজাহায়ও বাড়িতে রান্না করা খাবার দিতে পারবেনা স্বজনরা। তবে কারাগারে উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে লঘু অপরাধে দন্ডিত দুই একজন আসামি সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি দেয়া হলেও এবারে এ ধরনের কোন আসামি মুক্তি পাচ্ছেন না। কারণ যে সব লঘু অপরাধে সাধারণ ক্ষমায় বন্দী মুক্তি দেয়া হয় ওই ধরনের আসামি চট্টগ্রাম কারাগারে নেই।

কারাকর্তৃপক্ষ জানান, গতকাল রবিবার কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ছিল ছয় হাজার ৪০ জন। ঈদের দিন কারাগার অভ্যন্তরে বন্দীরা ঈদের নামাজ পড়বেন। নামাজের পর ঈদের দিন সকালে প্রত্যেক বন্দীকে সেমাই আর মুড়ি দেয়া হবে। দেশের অন্যান্য কারাগারে গুড় আর মুড়ি দেয়া হলেও চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দীরা সেমাই, মুড়ি পছন্দ করেন। বন্দীদের পছন্দের কথা চিন্তা করে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুপুরে বন্দীদের পোলাও, খাসি, গরু, কোমল পানীয়, পান-সুপারি ও শসার সালাদ দেয়া হবে। মুসলিম বন্দীদের জন্য গরু ও অন্য ধর্মলম্বী বন্দীদের জন্য খাসির ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতের বেলায় বন্দীদের সাদা ভাত, ডাল আর রুই মাছ দেয়া হবে।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট