চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৬ জুলাই, ২০২২ | ১২:২৫ অপরাহ্ণ

মিজানুর রহমান

ভাগে কোরবানি হবে, বাড়ি পৌঁছে যাবে মাংসও !

সিলেটের সন্তান রাসেল আহমেদ ব্যবসা করেন চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ এলাকায়। ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে-কপালে চিন্তার ভাঁজ তত বাড়ছে তার। এর বড় কারণ-ভাগে কোরবানি দিতে এখনও অংশীদার খুঁজে পাননি বায়েজিদের টেক্সটাইল এলাকায় পরিবার নিয়ে বাস করা এই যুবক। ভাগে কোরবানি করার জন্য অংশীদার খোঁজার ঝামেলা, গরু জবাই থেকে শুরু করে মাংস বন্টনের ঝাক্কি- এমন নানা সমস্যায় কেবল রাসেল নন, পড়েছেন নগরীর অনেকেই। তবে আশার কথা হচ্ছে- এসব কোরবানি দাতাদের জন্য এবার অফার নিয়ে এসেছে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি এগ্রো ফার্ম। প্রদর্শনী স্টলে গিয়ে গরু পছন্দের পর কেবল ভাগের টাকা জমা দিলেই জবাই থেকে শুরু করে সব প্রক্রিয়া শেষে মাংস কোরবানি দাতার বাসায় পৌঁছে দেবে এসব এগ্রো ফার্ম। এ জন্য দিতে হবে না অতিরিক্ত কোনো খরচ। মাংস পৌঁছে দেওয়া হবে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টার

মধ্যেই। নগরীতে ভাগে কোরবানি দাতাদের জন্য বড় অফার দিচ্ছে ডিসি রোডের হারুন ফুড এন্ড এগ্রো। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ‘গরুর ওজন অনুযায়ী আমরা ভাগের টাকা নির্ধারণ করেছি। কোরবানি দাতা ওই ভাগের টাকাই কেবল পরিশোধ করবেন। বাকি সব দায়িত্ব আমাদের’।
ভাগের টাকা কেমন পড়তে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে হারুন ফুড এন্ড এগ্রোর মালিক আরমান খান পূর্বকোণকে বলেন, আনুমানিক ৮০ কেজি ওজনের গরুর প্রতিভাগ ১৩৫০০, ৯৫ কেজি গরুর প্রতিভাগ ১৫৫০০, ১০৫ কেজি গরুর প্রতিভাগ ১৭০০০, ১২০ কেজি গরুর প্রতিভাগ ১৮৩০০ টাকা পড়বে।
তিনি বলেন, ভাগে কোরবানি দেওয়ার জন্য আমরা ২০টি গরু তৈরি করেছি। কোরবানির দিন সকালে গরু জবাইয়ের পর সব প্রক্রিয়া শেষ করে কোরবানি দাতাদের বাসায় দুপুরেই ভাগের মাংস পৌঁছে দেব আমরা। এ ক্ষেত্রে কোনো ডেলিভারি চার্জ বা হিডেন চার্জ দিতে হবে না কোরবানি দাতাকে।
ভাগে কোরবানি দাতাদের জন্য অফার দিচ্ছে এজেএস এগ্রো কর্তৃপক্ষও। নগরীর কল্পলোক আবাসিক এলাকা ও পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন মাঠে প্রদর্শনী স্টল রয়েছে এই এগ্রোর। ভাগে কোরবানি দেওয়ার জন্য তারা ২০টি গরু তৈরি করেছে। এরমধ্যে ৭টি গরুর ভাগ বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। এজেএস এগ্রোর এমডি সাজ্জাদ হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, ঈদের বন্ধে বহু মানুষ গ্রামে যেতে পারেন না। চাকরিজীবী থেকে শুরু করে অনেকেই নগরীতেই কোরবানি দেন। কিন্তু যারা ভাগে কোরবানি দিতে চান- তারা নানা ঝামেলায় পড়েন। তাদের কথা মাথায় রেখেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, ধরুন আপনি ২ ভাগ কোরবানি দিতে চান। ২ ভাগের টাকাই দেবেন। আরেকজন ৩ ভাগ দিতে চান। ৩ ভাগের টাকাই দেবেন। কেউ ১ ভাগ দিতে চান। ১ ভাগের টাকাই দেবেন। গরু জবাইয়ের পর সব প্রক্রিয়া শেষ করে মাংস ভাগ অনুযায়ী আমরা নিজেরাই কোরবানি দাতার বাসায় পৌঁছে দেব। সাজ্জাদ বলেন, মাঝারি আকারের গরুর জন্য ভাগপ্রতি ১৫০০০ ও বড় আকারের গরুর জন্য ভাগপ্রতি ১৮০০০ টাকা নির্ধারণ করেছি আমরা। কোরবানি দাতারা গরু দেখার পর ভাগের টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। চাইলে কোরবানির দিন পুরো কার্যক্রম তিনি নিজ চোখে দেখার সুযোগও নিতে পারবেন।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট