চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৫ জুলাই, ২০২২ | ১:৪৮ অপরাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

এক জালিয়াতিতেই অস্থির স্বাস্থ্যখাত!

ভুয়া স্মারক ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের বিল ছাড়ানোর অপচেষ্টার ঘটনায় অস্থিরতা বিরাজ করছে পুরো স্বাস্থ্য খাতে। এই ঘটনার পর অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কাজে কঠোরতা পূর্বের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এতে জবাবদিহিতা বাড়লেও কাজের গতি কমে যেতে পারে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
স্বাস্থ্যখাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন- করোনা মহামারির সময় সম্মুখসারিতে থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক-কর্মকর্তা ও কর্মীরা যে সম্মান অর্জন করেছিলেন, তা এক জালিয়াতিতেই ক্ষুন্ন হয়েছে। এই কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা হতাশায়ও ভুগছেন। এদিকে এত বড় জালিয়াতির ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগের সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর। সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর আর্থিক কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর। বিভিন্ন স্বাস্থ্য দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জালিয়াতির মতো এতবড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সকল দপ্তরেই কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে আয়ন-ব্যয়ন কাজে সর্বোচ্চ সতর্ক নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাধিকবার যাচাই-বাছাইয়ের পর পত্র আদান প্রদান এবং স্বাক্ষর দিচ্ছেন তারা। তবে তাতে কাজের কিছুটা হলেও ধীর গতি লক্ষ্য করা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্যখাতের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতের এত সুনামের মধ্যেই একটিমাত্র ঘটনা পুরো স্বাস্থ্যখাতের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। তাতে হতাশা বিরাজ করা স্বাভাবিক।’
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৮ জুন) নগরীর দুই নম্বর গেটস্থ বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ক্রয় করা আইসিইউ শয্যা, ভেন্টিলেটরের ৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার একটি বিল ছাড়ের কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু হিসাব বিভাগের কাছে ধরা পড়ে ব্যয় মঞ্জুরী পত্রটি ছিল ভুয়া ও জাল। এ ঘটনায় শুরু থেকেই অভিযোগের আঙুল যায় হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ ফোরকানের দিকে। যদিও ফোরকান বরাবরের মত দাবি করে আসছেন আলোচ্য ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোন ধরণের সম্পৃক্ততা নেই। তবে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ তুলে ঘটনার দুই দিন পর হাসপাতালের প্রধান ফোরকানসহ চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগে ফোরকানের নাম চার নম্বরে রাখলেও বাকিরা হলেন: ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজের মুন্সি ফারুক হোসেন (৬০), সাজ্জাদ হোসেন (৫৫), কর্মচারী মুকিত মন্ডল (৩২)।
ঘটনার পর দিন তথা গত ২৯ জুন চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলা সিভিল সার্জন, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, ১০৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ বিভাগের পুরো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকের কাছে অফিস আদেশের চিঠি প্রেরণ করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর।
চট্টগ্রাম বিভাগের সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অবগতির কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘পরিশোধের নিমিত্তে হিসাব রক্ষণ অফিসে যেকোন বিল প্রেরণের পূর্বে আর্থিক ব্যয় মঞ্জুরী আদেশ/প্রশাসনিক অনুমোদন/ অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট হতে আর্থিক ব্যয় মঞ্জুরী আদেশ/প্রশাাসনিক অনুমোদন/ অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তির পর উক্ত আদেশের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে (প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে টেলিফোনিক যোগাযোগ করে) হিসাব রক্ষণ অফিসে প্রেরণের জন্য সংশ্লিস্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করা হলো। পরবর্তীতে আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনপ্রকার অপ্রিতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান-আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা ও হিসাব শাখায় দায়িত্বপালনকারী কর্মচারী দায়ী থাকবেন।’
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর পূর্বকোণকে বলেন, ‘সম্প্রতি একটি অনাকাক্সিক্ষত একটি ঘটনা ঘটে। এ ধরণের ঘটনা যেন দ্বিতীয়বার আর না ঘটে, সেজন্য সকলকে অধিকতর সতর্ক করার জন্যই বিভাগের সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এ ঘটনাটি ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য বিভাগের ভাবমুর্তি কিছুটা হলেও ক্ষুন্ন হয়েছে। আশা করছি সামনে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।’

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট