চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৫ জুলাই, ২০২২ | ১:০৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

চট্টগ্রামে গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং

উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিতরণ কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। এই কারণে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। একদিকে তীব্র গরম অন্যদিকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং- সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু-বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ। বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিল্প কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে এখন পিক আওয়ারে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। তবে গ্যাসের সঙ্কট থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে চাহিদার চেয়ে ৮০০-৯০০ মেগাওয়াট কম। অন্যদিকে এই সময়ে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি। তবে চাহিদার বিপরীতে ১০০-১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম মিলছে।
চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ‘ফোর্স লোডশেডিং’ দিতে হচ্ছে বিতরণ কোম্পানি পিডিবিকে। যে কারণে চট্টগ্রাম নগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে সবখানে। দেশ যখন শতভাগ বিদ্যুতায়নের পথে- তখন এরকম ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ সবাই।

যে কারণে গ্যাস সঙ্কট:
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে স্পট মার্কেটে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ৩৮ ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ সর্বশেষ যা ২৫ ডলারে কিনেছিল। দ্রæত দাম বাড়তে থাকায় ‘সাশ্রয় নীতি’ নিয়ে এখন স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনছে না সরকার। ফলে দেশে গ্যাসের সরবরাহ গত কয়েক দিনে ৩০% কমে গেছে। গ্যাস সঙ্কটের এই আঁচ পড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগেও।
পেট্রোবাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সোমবার দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৯১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু ২৯ জুন গ্যাস সরবরাহের এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ গত কয়েক দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৬৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমিয়েছে পেট্রোবাংলা। এই গ্যাস রেশনিংয়ের ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন কমে গেছে।

সহসা মুক্তি মিলছে না:
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিলে তেল বা কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানো হতো। তবে এবার সেটি করা হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে- জ্বালানি তেলের দাম চড়া থাকায় এখন দিনে ১০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান দিচ্ছে বিপিসি। তাই সেখানেও এখন সঙ্কট। তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোদমে চালানো যাচ্ছে না।
গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হবে না বলে আভাস দিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এই স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ‘গ্যাস স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক জায়গাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক হবে।’

সবখানে দুর্ভোগ আর দুর্ভোগ:
টেক্সটাইল এলাকায় থাকেন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন। হঠাৎ করে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দেখা দেওয়া লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি। জসিম পূর্বকোণকে জানান, শিল্প এলাকা হওয়ায় এখানে তেমন বিদ্যুৎ যায় না। তবে গত কয়েকদিনে পাল্টে গেছে এই দৃশ্য। ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ভয়াবহ এই লোডশেডিং বৃদ্ধা মা আর দুই শিশুকে বিপাকে ফেলেছে বেশি।
শুধু খুলশী বিতরণ বিভাগের অধীন টেক্সটাইল এলাকা নয়- গত ৩-৪ দিন ধরে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দেখা দেওয়া লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর পাথরঘাটা, স্টেডিয়াম, ষোলশহর, কালুরঘাট, বাকলিয়া, মাদারবাড়ি, আগ্রাবাদ, হালিশহর, পাহাড়তলী, খুলশী, রামপুর, নিউমুরিংসহ পিডিবির সব বিতরণ বিভাগের গ্রাহকরাও। ব্যাহত হচ্ছে শিল্প কারখানার উৎপাদনও।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট