চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৫ জুলাই, ২০২২ | ১২:০২ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

দুই সংস্থার কারণে আটকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

চট্টগ্রাম ওয়াসা ও রেলওয়ের কাজের ধীর গতিতে আটকে আছে নগরীর সবচেয়ে বড় ফ্লাইওভার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সী-বিচ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ দুই অংশে আটকে আছে। ওয়াসার পাইপলাইন না সরানো ও রেলওয়ের অনুমতি না মিলায় আটকে আছে এই ফ্লাইওভারের কাজ । নগরীর বারিক বিল্ডিং থেকে কাস্টমস অংশে ওয়াসার আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপলাইন এবং দেওয়ানহাট থেকে টাইগারপাস অংশে এখনো রেলওয়ের অনুমতি মিলেনি। ফলে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও এই দুই অংশে কাজ শুরু যাচ্ছে না দাবি প্রকল্প পরিচালকের। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে উঠার পরও এই দুই জটিলতার ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ফ্লাইওভারের মধ্যে সল্টগোলা থেকে সী-বিচ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সল্টগোলা থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত অবশিষ্ট ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু উক্ত কিছু অংশে চট্টগ্রাম ওয়াসার ভূ-গর্ভস্থ পানির পাইপ লাইনসমূহ স্থানান্তরের কাজ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে হতে সম্মতি প্রাপ্তির বিষয়টি বিলম্বিত হওয়ায় প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, দেওয়ানহাট থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত অংশে রেলওয়ের অনুমতি না মিলায় সেখানে এখনো কাজ শুরু করতে পারিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
টাইগারপাস থেকে যেভাবে ফ্লাইওভারে উঠা-নামা যাবে : সিআরবি ও পলোগ্রাউন্ড থেকে পতেঙ্গামুখী একটি র‌্যাম্প টাইগারপাসে যুক্ত হবে। এছাড়া, জিইসি এলাকার হোটেল পেনিনসুলা থেকেও একটি র‌্যাম্প মুল ফ্লাইওভারের সাথে যুক্ত হবে। যেখান থেকে সরাসরি পতেঙ্গা সি-বিচ পর্যন্ত যাওয়া যাবে। অন্যদিকে, আগ্রাবাদ ও দেওয়ানহাট থেকে লালখানবাজারমুখী একটি র‌্যাম্প আমবাগান এলাকায় নামবে। একইপথে অন্য একটি র‌্যাম্প ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির সামনে নামবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ফ্লাইওভারটি আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সাথে যুক্ত হওয়ায় আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার থেকে সরাসরি পতেঙ্গা যাওয়া যাবে।
জানতে চাইলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত মূল ফ্লাইওভারের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কয়েকটি বাধার কারণে আমাদের কিছু অংশে কাজের বিলম্ব হচ্ছে। বারিক বিল্ডিং থেকে কাস্টমস পর্যন্ত ওয়াসার আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপলাইনের কারণে ওই অংশে ফাউন্ডেশন ও কলামের কাজ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আমরা ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং এই পাইপলাইন সরানোর জন্য সব টাকা পরিশোধ করেছি। তারা বারবার সময়ক্ষেপণ করছে। তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, দেওয়ানহাট থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত এই অংশে রেলওয়ে আমাদের কাজের অনুমতি না দেয়ায় আমরা এখনো কাজ শুরু করতে পারিনি। এছাড়া, দেওয়াহাটে খান কমপ্লেক্স ও দেওয়ান কমপ্লেক্স নামের দু’টি বিল্ডিং ভাঙার প্রক্রিয়া চলছে। এরমধ্যে খান কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষকে আমরা ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে দিয়েছি এবং দেওয়ান কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষকেও ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তারা এখনো ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ করে আমাদের ভবন বুঝিয়ে দেয়নি। ভবন বুঝিয়ে দিলে আমরা কাজ শুরু করবো।
জানা যায়, “লালখান বাজার হতে শাহ্ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ” ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার প্রস্থ বিশিষ্ট ৪ লেন ফ্লাইওভার। কেইপিজেড, সিইপিজেড সল্টগোলা, নিমতলা, আগ্রাবাদ, টাইগারপাসসহ সর্বমোট ১৩টি র‌্যাম্পের মাধ্যমে মূল ফ্লাইওভারে যানবাহন উঠা-নামার ব্যবস্থা থাকবে।
উল্লেখ্য, বিমানবন্দর কেন্দ্রিক যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তিন হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৯ বছরের ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ উদ্ভোধন করেন।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট