চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৪ জুলাই, ২০২২ | ২:০৮ অপরাহ্ণ

মিজানুর রহমান

রেলের পাঁচ হাজার কর্মী বিপাকে

তীব্র জনবল সঙ্কট থাকায় রেলওয়েতে দীর্ঘদিন ধরেই টিএলআর পদ্ধতিতে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ধরনের কর্মীরা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে (কাজ নেই, বেতন নেই) কাজ করে থাকেন। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে এসব কর্মীদের অব্যাহতি দিয়ে দিচ্ছে রেলওয়ে। তাদের জায়গায় আউটসোর্সিং’র মাধ্যমে লোক নিয়ে কাজ করাতে চায় সংস্থাটি।

এতে সরকারের অতিরিক্ত টাকা খরচের পাশাপশি বিশেষায়িত সেবা সংস্থা রেলওয়েতে দক্ষ শ্রমিকের সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে রেলওয়ে বলছে- এটি তাদের নয়, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। গত জানুয়ারিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত পরিচালন বাজেট নিয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওই সভায় জানানো হয়- ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে রেলওয়েতে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের ব্যয় অফিসভিত্তিক কোডের (শ্রমিক অনিয়মিত মজুরি) পরিবর্তে আউটসোর্সিং খাত থেকে ব্যয় করা হবে। এ কারণে টিএলআর পদ্ধতিতে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে রেলওয়েতে কর্মরত কর্মচারীদের ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ দিন ৩০ জুন অব্যাহতি দেওয়া হবে।

 

তবে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে গত জুনে রেল সচিব বরাবর একটি চিঠি দেন রেলওয়ের মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার। চিঠিতে তিনি জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে রেলওয়েতে ৪ হাজার ৮৯৬ জন অস্থায়ী কর্মী কাজ করছেন। বছরে খরচ হয় ৬০ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৬ হাজার অস্থায়ী কর্মী প্রয়োজন। খরচ হবে ৮০ কোটি টাকা।

আউটসোর্সিং’র মাধ্যমে কর্মীরা কাজ করলে বেশি টাকা ব্যয় হবে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়- আউটসোর্সিং’র মাধ্যমে কাজ করালে খরচ হবে ১৪০ কোটি টাকা। এছাড়া আউটসোর্সিং’র মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হলে সুষ্ঠু ট্রেন পরিচালনা ব্যাহত হবে। এসব কারণে চিঠিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরেও শ্রমিক অনিয়মিত মজুরি খাতে বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়।

এর মধ্যেই গত ৩০ জুন রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যালয়ে কর্মরত অস্থায়ী শ্রমিকদের অব্যাহতি দেওয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ। চাকরি হারানো অস্থায়ী কর্মচারীরা এখন আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কয়েকজন কর্মচারী জানান- ‘আমাদের অনেকে ১০-১৫ বছর কাজ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে অব্যাহতি দিয়ে দেওয়া হলো। আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।

 

একজন অস্থায়ী কর্মী পূর্বকোণকে জানান, রেলওয়ের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়ায় ১০ বছর ধরে রেলওয়ে থেকেই বেতন নিচ্ছি। আউটসোর্সিং’র মাধ্যমে নিয়োগ হলে ঠিকাদার যখন ইচ্ছে বেতন নেবেন। বেতন বন্ধ করে দেবেন। যখন তখন ছাঁটাই করবেন। দুর্নীতি করে সরকারি টাকা অপব্যয়ের জন্যই আমাদের বাদ দিয়ে আউটসোর্সিং’র মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের ষড়যন্ত্র চলছে।

রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, রেলওয়ে একটি বিশেষায়িত সেবা সংস্থা। এখানে আউটসোর্সিং’র মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দিলে শুধু বেশি টাকা ব্যয় হবে তা নয়- দক্ষ কর্মী সঙ্কটেও ভুগতে হবে। যেখানে সরকারের বেশি টাকা খরচ হবে, ট্রেন পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটবে, সেখানে আউটসোর্সিং’র মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ কার স্বার্থে?

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা-ব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, টিএলআর পদ্ধতিতে নিয়োগ পাওয়া অস্থায়ী কর্মীদের বিষয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তারাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট