চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৩ জুলাই, ২০২২ | ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার সংবাদদাতা

সম্মেলন থেকে ফেরার পথে কক্সবাজারে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন থেকে ফেরার পথে ফয়সাল উদ্দিন (২৫) নামে ছাত্রলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ফয়সাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের সভাপতি।

রবিবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় খুরুশকুল ডেইল পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ফয়সাল উদ্দিন ওই ইউনিয়নের কাউয়ারপাড়া এলাকার মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে।

রাত ৮টার দিকে মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আশিকুর রহমান।

প্রত্যদক্ষর্শীরা জানিয়েছেন, রবিবার দুপুরের দিকে খুরুশকুল ইউনিয়নের আওতাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলন চলছিল। সেখানে যোগ দিতে যান ফয়সাল। তাকে সম্মেলন স্থলের বাইরে দেখে ধাওয়া দেয় কাওয়ার পাড়ার আজিজ সিকদার ও জহিরের নেতৃত্বে একদল হামলাকারী। ধাওয়া খেয়ে মঞ্চে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে গিয়ে আশ্রয় চান। এক পর্যায়ে মঞ্চস্থলে যায় হামলাকারীরা। সেখানে হামলা করতে না পেরে বাইরে অবস্থা নেয় হামলাকারীরা।

এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতারা মঞ্চস্থল ত্যাগ করে। ফয়সালও মঞ্চস্থল থেকে বাইরে যায়। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা হামলাকারীরা ফয়সাল উদ্দীনের ওপর হামলে পড়ে। তারা তাকে উপর্যপুরি কোপায়।

হামলা করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা। পরে মুমূর্ষু ফয়সালকে কক্সবাজার আনা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণের তাকে মৃত্য ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এ ব্যাপারে কক্সবাজা স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন জানিয়েছেন, এক বছর আগে হামলাকারী আজিজ সিকদারের এক ভাতিজা খুন হয়। সে মামলার আসামি ছিলেন ফয়সাল উদ্দীন। পরে সে মামলা থেকে বাদ যায়। এই ঘটনার জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সদর মডেল থালার পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) শেখ মুনীরুল গিয়াস বলেন, হামলা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। তবে ততক্ষণে ঘটনা সংঘটিত হয়ে যায়।

তবে নিহতে স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, হামলার সময় অদূরেই পুলিশ ছিলো। হামলা করে পুলিশের সামনে বীরদর্পে চলে যায় হামলাকারীরা।

একইভাবে আওয়ামী লীগ নেতারাও ফয়সালকে একা পেলে নিরাপদ দূরত্বে মঞ্চস্থল ত্যাগ করে- এমন অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

পূর্বকোণ/আরফাত/মামুন

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট