চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৩ জুলাই, ২০২২ | ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দখলের পর প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে ম্যানোলা পাহাড়

রাতের আঁধারে দুই দফা লুটপাটের পর দখলে নেয়া সেই ম্যানোলা পাহাড় এবার কৌশলে কেটে ফেলা হচ্ছে। খুন্তি আর কোদালের কোপে বিলীন হওয়ার পথেই যাচ্ছে নগরীর মোহাম্মদ আলি রোডের শিল্পকলা একাডেমির পাশের ম্যানোলা পাহাড়টি। এক সময় হয়তো হারিয়ে যাবে নগরীর বুক থেকে।

জিইসির মোড় থেকে এমএম আলি রোডের প্রবেশমুখের মাঝখানে অবস্থিত তিন একর জায়গার উপর অবস্থিত ম্যানোলা পাহাড়ের আয়তন দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। পাহাড়ের দক্ষিণ পাশে টিনের ঘেরা দিয়ে দখলে নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে বাণিজ্যিক স্থাপনা। এবার উত্তর পাশে পাহাড়টির বুক কাটা হচ্ছে দিনে দুপুরে।

গত শুক্র ও শনিবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, শিল্পকলার একাডেমির দক্ষিণ পাশে তিন-চারজন শ্রমিক পাহাড়ের মাটি কাটছে। চালিয়ে যাচ্ছে নির্মাণ কাজ।

 

মামলার ১০ দিনেও অধরা দখলদার : গত ১৯ ও ২১ জুন দুই দফায় তাণ্ডব চালিয়ে পাহাড়ের উপরে থাকা বাসার লোকজনকে বের করে দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড রোজ ভিলা হাউজিং লি. নামের একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। দখলের ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন সৈয়দ হাম্মাদ রহমান। মামলায় আছদগঞ্জের এমটি মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলামসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। দখলের দশ দিনের মাথায় নগরীর বুকে অবস্থিত পাহাড়টি প্রকাশ্যে কাটা হলেও সিডিএ কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তর রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

পাহাড় কাটা প্রসঙ্গে জানতে গতকাল রাতে বাংলো দখল মামলার প্রধান আসামি নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গত ২৩ জুন চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে মামলার বাদী সৈয়দ হাম্মাদ রহমান বলেন, গত ১৯ জুন রাত ১২টা ২০ মিনিটের সময় আমি ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন আমাদের বসতভিটার গেটের দারোয়ার ফোন দিয়ে বলেন বাইরে পুলিশ এসেছে। ১০/১২ জন পুলিশ সদস্য আমাদের বাসায় আসে। সেখানে কয়েকজন মহিলা পুলিশও ছিল। একজন পুলিশ সদস্য আমাকে বলেন, তার কাছে ওয়ারেন্ট আছে। পুলিশকে বলি ওয়ারেন্টের কোন আসামি আমাদের বাসায় নেই। ঘরের সব রুম ও ছাদে পুলিশ তল্লাশি করে চলে যায়। পুলিশ চলে যাবার পর রাত একটা ২০ মিনিটের সময় সিসি ক্যামেরার কন্ট্রোল রুম থেকে এলার্মের আওয়াজ শুনতে পাই। কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘরের পেছনের দরজা ভেঙে মুখে মাস্ক পরা কয়েকজন লোক পিস্তল, রামদা, ছুরি হাতে ঘরে প্রবেশ করে। তারা আমার খালাতো বোনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে।

 

সৈয়দ হাম্মাদ রহমান বলেন, অস্ত্রধারীদের বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে পিস্তল তাক করে বলেন, সিসি ক্যামেরার কন্ট্রোলরুম কোন দিকে? তারা কন্ট্রোল রুমে গিয়ে মনিটর ও কন্ট্রোল বক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তারা অস্ত্রের মুখে আমি ও আমার খালাতো বোন নীসাকে আমাদের গাড়িতে উঠতে বাধ্য করে। গাড়ির পেছনের সিটে খালাতো বোনকে অস্ত্র ধরে আমাকে গাড়ি চালাতে বলে। গাড়ি চালিয়ে গেট দিয়ে বের হবার সময় দুটি সাদা ও একটি কালো প্রিমিও কার দাঁড়ানো দেখতে পাই। ওই সময় আসামি নুরুল ইসলাম ও হারুনুর রশিদ গাড়ির পাশে দাঁড়ানো ছিল। অস্ত্রধারীদের কথামতো গাড়ি চালিয়ে জিইসি ওআর নিজাম আবাসিকের একটি সড়কে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করাই। ওই সময় অস্ত্রধারীরা মুঠোফোনে অন্য একজন ব্যক্তির সাথে কথা বলে। ভোর চারটা ২০ মিনিটের সময় অস্ত্রধারীরা আমাকে বলে, তোমাদের বাড়িটা রোজ ভিলার নামে লিখে দাও। না দিলে জানে মেরে ফেলব। এরমধ্যে মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে আসলে আমাদেরকে ছেড়ে দিয়ে অস্ত্রধারীরা ওই মোটরসাইকেলে চলে যায়।

ভোর পাঁচটার সময় বাসায় ফিরে দেখি পুরো ঘরে তারা লুটপাট চালিয়েছে। স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ টাকা মূল্যের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

 

লুটপাটের ঘটনার দুইদিন পর ২১ জুন একই সন্ত্রাসীরা ম্যানোলা পাহাড়ের ওই বাসায় ফের হানা দেয়। রাত বারোটার সময় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পরিবারের সদস্যদের ঘরে থেকে বের করে দেয়।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, আছদগঞ্জের এমটি মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম (৫২), আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডের মৃত নুর আহমেদের ছেলে হারুনুর রশিদ (৪০), সোলেমান বাদশা (৩০), ইব্রাহিম সোহান (৩২), আরিফ (৩০) ও ঢাকাইয়া সোহেল (৩২)। এছাড়া মামলায় আরো ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। লুটপাটের ঘটনায় মামলা দায়েরের দশদিন পার হলেও আসামিদের হদিস পায়নি চকবাজার থানা পুলিশ।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট