চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২৪ জুন, ২০২২ | ১:০১ অপরাহ্ণ

রায়হান উদ্দিন, চবি

পাল্টে গেছে হলের চেহারা

স্যার এ এফ রহমান। একজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি উপাচার্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে রয়েছে একটি আবাসিক হল। তার স্মৃতিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও (চবি) রয়েছে একটি আবাসিক হল। খাতা-কলমে হলটির নাম স্যার এ এফ রহমান হল হলেও যে কেউ দেখলে মনে করতে পারেন এটি ‘বিজয় হল’।

দেয়ালজুড়ে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয়ের চিকায় পাল্টে গেছে এ হলের চেহারা। কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চবিতে ঘুরতে এসেছিলেন এনামুল হক নাবিল। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনাদের এই হলের নাম কি বিজয়? প্রতিত্তোরে ‘না’ শোনে বলেন, তাহলে বিজয় কি? শুধু যে এনামুল হকের ক্ষেত্রেই বিষয়টি তাই নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছেও বিষয়টি দৃষ্টিকটূ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখা গেছে এটিকে নিয়ে ট্রল করতে। জানা যায়, আবাসিক হলগুলো বর্তমানে দখলে রয়েছে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপগুলোর কাছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে হলের বাইরে। অন্যথায় কোনো একটি গ্রুপের অনুসারী হিসেবে হলে উঠতে হয় শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন হলের আসন বরাদ্দ না হওয়ায় তৈরি হয়েছে এমন হল দখলের সংস্কৃতি।

 

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে চবিতে বগিভিত্তিক রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা মানছে না গ্রুপগুলো। চিকা মারা ছাড়াও বগি ভিত্তিক সংগঠনের নামে মিছিল মিটিংসহ নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন তারা।

বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয়ের দখলে রয়েছে সর্বোচ্চ তিনটি হল- এ এফ রহমান, আলাওল এবং সোহরাওয়ার্দী হল, সিক্সটি নাইনের দখলে শাহজালাল হল, সিএফসির দখলে শাহ আমানত হল, এছাড়া শহীদ আব্দুর রব হলে রয়েছে বাংলার মুখ, ভিএক্সসহ কয়েকটি গ্রুপের অনুসারীরা। সূর্যসেন হলে রয়েছেন এপিটাফ গ্রুপের অনুসারীরা। বছরের বিভিন্ন সময় বগি ভিত্তিক গ্রুপগুলো ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় চিকা মেরে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এএফ রহমান হলের চিত্রটা ভিন্ন। পুরো হলজুড়ে চিকা মারায় পাল্টে গেছে হলটি আসল রূপ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব বলেন, প্রথমদিন এসে ভেবেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চবিতেও বিজয় ৭১ হল রয়েছে। পরে জানতে পারি এখানে ছাত্রলীগের ‘বিজয়’ গ্রুপের অনুসারীরা থাকে বলেই হলটির চিত্র এমন।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফ উদ্দিন রুহান বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী হওয়ায় আবাসিক হলে ঢুকতেই ভয় লাগে। পড়াশোনার চেয়ে এখানে রাজনৈতিক গ্রুপগুলোর চর্চাই বেশি হয়। হলগুলোতে একবার ঘুরে আসলেই বোঝা যায় এখানে কোন গ্রুপের আধিপত্য রয়েছে। সবসময় মনে হয়, এই বুঝি মারামারি লাগলো!

এ বিষয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক নজরুল ইসলাম সবুজ বলেন, শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক রাজনীতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আগে থেকেই চর্চা হয়ে আসছে। আমরা বগিভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে নই, তবুও হলগুলোর দেয়ালে কর্মীরা হয়তো তাদের আবেগ থেকে চিকা মারে। সেটা শুধু আমাদের গ্রুপ না, প্রতিটি গ্রুপের কর্মীরা এটা করে থাকে। যদি এফ রহমান হলের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকে সেক্ষেত্রে বিষয়টা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবো। ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের পক্ষে কাজ করেছে।

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, বিষয়টা আমাদের চোখে পড়ার পর আমরা প্রশাসনকে বলেছিলাম বগি ভিত্তিক সংগঠনগুলোর চিকা মুছে দেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রশাসন এতদিনেও কেন এ বিষয়ে নীরব, এটা আমারও প্রশ্ন। যেহেতু বগি ভিত্তিক সংগঠন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে নিষিদ্ধ, তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করতে পারি না আমরা।

এএফ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কাজী এসএম খসরুল আলম কুদ্দুসী বলেন, হলের সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট