চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২৩ জুন, ২০২২ | ৭:১১ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

‘পদ্মা সেতু হলে সমুদ্র বন্দরগুলোর কার্যক্রম বাড়বে’

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলসহ সমুদ্র বন্দরগুলোর কার্যক্রম বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল। এ সংক্রান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতির গতিশীলতা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে মিডশিপম্যান ২০১৯-বি ব্যাচ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২২-এ ব্যাচের গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

এর আগে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০১৯-বি ব্যাচের ৬২ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২২-এ ব্যাচের ৬ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ মোট ৬৮ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অসামান্য প্রজ্ঞা, দুরদর্শিতা ও দিক নির্দেশনায় নৌবাহিনী আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে সুপরিচিত। নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে এরইমধ্যে নৌবহরে সাবমেরিনসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার, মেরিটাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফটসহ আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজিত হয়েছে এবং সম্প্রতি নতুন ছয়টি যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে কমিশনিং করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে হেলিকপ্টার, উন্নততর জাহাজ এবং আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া নির্মাণাধীন ঘাঁটিগুলোর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে নবীন কর্মকর্তারা তাদের মনোবল অক্ষুণ্ণ রেখে যে উন্নত প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে নৌপ্রধান তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। নৌপ্রধান একইসঙ্গে কঠোর এ প্রশিক্ষণ দিতে যেসব কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও নৌ-সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের নবীন কর্মকর্তারা নেভাল একাডেমি থেকে অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে এই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে। তিনি পেশা হিসেবে দেশ সেবার এ পবিত্র দায়িত্বকে বেছে নেওয়ায় নবীন কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। সেই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর গর্বিত সদস্য হিসেবে দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলাবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।

 

নৌপ্রধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নবীন কর্মকর্তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারীদের হাতে পদক তুলে দেন। পরে নবীন কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন এবং তাদের র‍্যাঙ্ক পরিয়ে দেওয়া হয়।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা ও সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট