চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২৩ জুন, ২০২২ | ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে এনবিআরের ৬ স্ক্যানার ক্রয়

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পেরিয়ে গেছে ১৪ মাস

৪ বার টেন্ডার পিছিয়ে বছর শেষে পুনরায় নতুন টেন্ডারে গেল এনবিআর

কাজ পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েও সুবিধা করতে পারেনি এস্ট্রোফিজিক্স ইনকর্পোরেশন

 

চট্টগ্রাম বন্দরের ৪টিসহ মোট ৬টি নতুন অত্যাধুনিক ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার মেশিন বসানোর কার্যক্রম শুধু টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যেই পার করলো ১৪ মাস। গত বছরের ৩১ মার্চ দরপত্র আহ্বান করার পর বিভিন্ন গ্যাঁড়াকলে ৪ বার পিছিয়েছিল টেন্ডারের তারিখ। পরে সেটি আবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিভাগ ‘সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট’ হয়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয় ১৪ মাস সময়।
প্রায় ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এই কনটেইনার মেশিন স্থাপনের কাজে প্রথম টেন্ডার আহ্বান করা হয় ২০২১ সালের ৩১ মার্চ। একাজে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানদের ফিল্ড ভিজিটের পর দরপত্র জমাদানের বিষয়ে উৎসাহী করে এনবিআর। কিন্তু করোনাকালীন সময় ও দরদাতাদের অনুরোধে ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া ৪ বার পেছায় (২৪ জুন, ১৫ জুলাই, ৩ আগস্ট ও ২৫ আগস্ট) এনবিআর।
শেষ বার দরপত্র ক্রয় করেছিল করেছিল ২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং দরপত্র জমা দেয় মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ ২৫ আগস্টের টেন্ডার শেষে ওই তিন প্রতিষ্ঠানের দরপত্র পাঠানো হয় মূল্যায়ন কমিটির কাছে। কিন্তু তাদের মধ্যেও যোগ্য প্রতিষ্ঠান পাওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এনবিআর। এরই প্রেক্ষিতে এস্ট্রোফিজিক্স ইনকর্পোরেশন নামের এক দরদাতা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিভাগ ‘সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে (সিপিটিইউ)’ এক অভিযোগ দাখিল করে। তবে এনবিআরের বিপক্ষে ওই অভিযোগ বাতিল করে সিপিটিইউ। পরে ওই দরদাতা আশ্রয় নেয় উচ্চ আদালতের। সেখানেও রায় এনবিআরের পক্ষে যায় এবং কনটেইনার স্ক্যানার ক্রয়ের কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়।
এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস অডিট, মর্ডানাইজেশন এন্ড ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার) ড. আবদুল মান্নান শিকদার গত ২৬ মে পুনরায় একই দরপত্র আহ্বান করেন।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৬টি স্ক্যানার মেশিন বসানো হবে। যার মধ্যে ৪টি স্ক্যানারই বসবে চট্টগ্রাম বন্দরে। অন্য দুটির মধ্যে একটি বেনাপোল এবং অন্যটি ভোমরা স্থলবন্দরে স্থাপন করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির এসব স্ক্যানার এক্স-রে বা গামা-রশ্মি ইমেজিং প্রক্রিয়ায় কনটেইনার খোলা ছাড়াই এর ভেতরের রঙ্গিন ছবি তুলতে পারবে। এসব মেশিনে স্ক্যানার ছাড়াও কনটেইনারের ওজন পরিমাপ, রেডিও পোর্টাল মনিটর এবং ইমেজিং সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নতুন স্ক্যানারগুলো ‘বোথ ওয়ে’ স্ক্যান ডিরেকশনে স্ক্যানিং করতে সক্ষম। অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানি উভয় কনটেইনার স্ক্যানিং করা যাবে এই মেশিনগুলো দিয়ে।
প্রথম ধাপে এই ৬টি কনটেইনার স্ক্যানার সফলভাবে প্রতিস্থাপন ও চালুর পর দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ৭টি কনটেইনার স্ক্যানার ক্রয়ের কথা জানিয়েছে এনবিআর। সেই ৭টি থেকেও বেশ কয়েটি চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে বলেও জানিয়েছে এনবিআর ওই সূত্র।
সরকার, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটের ‘অর্থ আইন-২০১৯’ এ বোঝাই পণ্য কনটেইনার বাধ্যতামূলক বৈদ্যুতিক স্ক্যানিংয়ের আওতায় আনার বিধান চালু করে। বিধান অনুযায়ী, সরকারি আদেশে অব্যাহতি ব্যতিরেকে কোনও চালানকে বৈদ্যুতিক স্ক্যান ছাড়া কোনও শুল্ক বন্দর বা শুল্ক স্টেশনে থেকে ছাড়ানো যাবে না। বৈদ্যুতিক স্ক্যানিং সিস্টেমের অভাবে শারীরিক পরীক্ষা করে চালান খালাসের বিধানও রাখা হয়েছে। অপ্রতুল স্ক্যানার মেশিনের কারণে এখনো সারা দেশের কাস্টম হাউসগুলো আমদানি করা চালানের ১০-১৫ শতাংশ কায়িকভাবে পরীক্ষা করে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২টি গেটে স্ক্যানার আছে ৭টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ১ নম্বর গেট এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ৩ নম্বর গেটে আছে ‘এফএস ৬০০০’ সিরিজের অত্যাধুনিক ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ২, ৪ ও ৫ নম্বর গেটে আছে একটি করে ‘এফএস ৩০০০’ মডেলের ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। এছাড়া সিসিটি ২ ও জিসিবি ২ নম্বর গেটে রয়েছে একটি করে মোবাইল স্ক্যানার। তবে পুরোনো কয়েকটি স্ক্যানার মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে গিয়ে স্ক্যানিং কাজে ব্যঘাত ঘটায়।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট