চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

১৭ জুন, ২০২২ | ১২:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মসলার দাম : পাইকারিতে কমলেও প্রভাব নেই খুচরায়

মসলার পাইকারি বাজারে ক্রেতা নেই। তাই পাইকারিতে মসলার বাজার ঠান্ডা। তবে খুচরায় গরম মসলার বাজার। খুচরা বাজারে প্রকারভেদে কেজিতে ২শ’ টাকা থেকে হাজার টাকারও বেশি ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে মসলা। কোরবানিকে কেন্দ্র করেই ধারাবাহিকভাবে বাজারে বাড়তে থাকে দাম। খুচরা বাজারে এ চিত্র এবারও ব্যতিক্রম নয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) নগরীর বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে দেখা যায়- গত এক সপ্তাহ ধরে পাইকারিতে কমেছে মসলার দাম। কিন্তু এ প্রভাব নেই খুচরা বাজারে। চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই- খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলেন, এবার মসলার বাজারের অবস্থা খারাপ। মসলা আমদানি করতে যে খরচ হচ্ছে সে তুলনায় কমছে দাম। প্রতিদিনই কমছে এ দাম। এখন মানুষের আয় কমেছে। আগে যেভাবে কোরবানি উপলক্ষে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে মসলা কিনতো এখন তা দেখা যাচ্ছে না।
খাতুনগঞ্জের প্রমি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ডলারের দাম বেড়েছে তাই এখন মসলার আমদানি খরচ বেশি। আগে ১০ শতাংশ মার্জিনে আমরা আমদানি করতাম। এখন ব্যাংকে ৫০ শতাংশ মার্জিন দিয়ে আমদানি করতে হচ্ছে। তারপরও পাইকারি বাজারে মসলার দাম কম। বাজারে আগের মত চাহিদা নেই। কোরবানি উপলক্ষে যে পরিমাণ মসলা মোকামে যাওয়ার কথা সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। তাই পাইকারিতে মসলার দাম কম।
একাধিক পাইকারি ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) পাইকারিতে উন্নতমানের এলাচ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১১৮০ টাকায়। এছাড়া উন্নতমানের জিরা বিক্রি হয়েছে ৩৭৫ টাকায়, গোলমরিচ ৫০০ টাকায়, লবঙ্গ ৯৮০ টাকায় ও দারুচিনি ৩২০ টাকায়।
এদিকে, নগরীর খুচরা বাজারগুলোতে মসলার দামে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। খুচরা বাজারে আলোচ্য এসব মসলা পাইকারির চেয়ে দ্বিগুণ- তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
গতকাল নগরীর দুই নম্বর গেট কর্ণফুলী কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, জিরা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৫১০ টাকায়। যা ছয় মাস আগেও বিক্রি হতো ৩৭০-৪০০ টাকায়। এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০০-৪৪০০ টাকায়। জত্রিক বিক্রি হচ্ছে ২২০০-২৪০০ টাকায়। দারুচিনি বিক্রি ৪৮০ টাকায়। জাইফল ৫২০-৫৫০ টাকায়, লবঙ্গ ১৫০০-টাকায়, হলুদ ২০০-৩৫০ টাকায়, শুকনোমরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০-৪০০ টাকায়। পোস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকায়। তবে দাম কমেছে আদা রসুনের। আদা প্রতিকেজি ১০০-১১০ টাকায়, রসুন ৭০- ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজের দাম। বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়।
খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, তিন-চার দিন ধরে পাইকারিতে মসলার দাম কমেছে। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা মসলা কিনেছেন আরো এক-দেড় মাস আগে। কারণ কোরবানি উপলক্ষে প্রতিদিনই মসলার দাম বাড়তে থাকে। এতে আমরা ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়ি।

পূর্বকোণ/এস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট