চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩০ মে, ২০২৩

১ জুন, ২০২২ | ১:১৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ কাট্টলীর ‘গোটশিপ’ একের মধ্যে অনেক

দক্ষিণ কাট্টলীর শেষ প্রান্তে রেললাইন পেরিয়ে কয়েকশ’ গজ এগোলেই চোখে পড়ে দু’হাজার স্কয়ার ফিটের এক খামার। কর্দমাক্ত রাস্তা পেরিয়ে খামারে প্রবেশ করতেই দেখা গেল ঝকঝকে মেঝের উপর কাঠের পাটাতনে তৈরি ছোট ছোট অনেকগুলো ঘর। প্রতিটি ঘরেই রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় অনেকগুলো ছাগল। আবুল বশর নামে খামারের এক কর্মচারী ঘাস নিয়ে ঢুকতেই আনন্দে লাফালাফি শুরু করে দিচ্ছিল প্রাণীগুলো।

প্রায় দেড় বছর আগে গোটশিপ নামে এই খামারের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে শুধুমাত্র ছাগল লালন পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই এর কাজ। ক্রেতাদের কাছে অনলাইনের মাধ্যমে মাংস, দুধ সরবরাহ, খামারীদের কাছে উন্নত প্রজাতির ছাগল সরবরাহ, ছাগল পালনের ট্রেনিংসহ রয়েছে নানা কার্যক্রম। আনোয়ার আজিম নামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে ‘গোটশিপ’ পরিচালনা করছেন মনছুরাবাদ ডিটি রোড এলাকার বাসিন্দা মাকসুদুল আলম। নগরীতে অনেকগুলো খামার থাকলেও ছাগলের এত বড় খামার দেখা যায় না।

 

সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত এ খামারে বর্তমানে বিটল, হরিয়ানা, তোতামুখীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৬০টির অধিক ছাগল রয়েছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রজাতির সংমিশ্রণে উৎপাদিত হচ্ছে ছাগল। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে আনা হয় আরও বেশকিছু ছাগল। যাদের বেশিরভাগ সরবরাহ করা হয় ক্রেতাদের কাছে।

জানা যায়, বছর তিনেক আগে আজিম দেশে এলে ঘুরতে যান বন্ধুর গরুর খামারে। খামারে বন্ধুর ব্যস্ততা দেখে ভাল লাগে তার। এরপর বিভিন্ন সময়ে বন্ধুকে দেশের মাটিতে একসাথে কিছু করার আগ্রহের কথা বলে আসছিলেন। মাকসুদ গরুর খামার করলেও শখের বশে দু’একটি ছাগল পালতেন। প্রবাসী বন্ধুকে একসাথে নিয়ে ছাগলের খামার করার প্রস্তাব দিলে রাজি হয়ে যান। সেই থেকে শুরু গোটশিপের যাত্রা।

 

খামারের স্বত্বাধিকারী মাকসুদ বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই ইচ্ছে ছিল একটি ছাগলের খামার দেওয়ার। নগরীতে অনেকের ছাগল পালন ও খামার হতে মাংস সংগ্রহের ইচ্ছা থাকলেও তা পূরণ হয় না। এর জন্য হাট ও মাংসের দোকানের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু অনেকেরই ইচ্ছা থাকে খামার থেকে দেখে শুনে নিজে পছন্দ করে ছাগল কিনতে। সে আকিকার জন্য হোক অথবা বিয়ে-শাদীর জন্য হোক কিংবা মাংস খাওয়ার জন্যই হোক। সেই চিন্তা ভাবনা থেকে এ খামারের শুরু।

হালিশহর ও দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় গোটশিপের দুধ ও মাংসের চাহিদা বাড়ছে। অনলাইনে অর্ডার দিলে পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে ক্রেতার কাছে। এছাড়া বিয়ে, মেজবান, আকিকাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাংস। অনেকেই ছদকা হিসেবে ছাগল দিয়ে থাকেন। ক্রেতারা চাহিদা অনুযায়ী এসব ছাগলের মাংস সরাসরি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায়।

 

প্রতি মাসে গোটশিপের উদ্যোগে ছাগল পালনে আগ্রহীদের জন্য প্রতি মাসে রয়েছে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা। যাদেরকে পরবর্তীতে ছাগল পালনে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা দিয়ে থাকে গোটশিপ। মাত্র দেড় বছর আগে দেড়লক্ষ টাকা পুঁজিতে শুরু হয়েছিল এ খামার। পরবর্তীতে সফলতা দেখে পুঁজি আরও বাড়ান তারা।

বর্তমানে গোটশিপে বিনিয়োগ রয়েছে ১৫ লক্ষাধিক টাকা। বর্তমানে হালিশহর, দক্ষিণ কাট্টলী এবং এর আশেপাশের এলাকায় গোটশিপের মাংস ও দুধের জনপ্রিয়তা বাড়ছে প্রতিদিন। খামার মালিকের প্রত্যাশা স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনিয়োগ উঠার পাশাপাশি অন্যতম লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এ খামার।

পূর্বকোণ/এস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট