চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৮ জুন, ২০২৩

৩১ মে, ২০২২ | ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

মেলার স্থায়ী জায়গার প্রতিশ্রুতি শুধুই আলোচনাতেই 

সারোয়ার আহমদ

বিভিন্ন সময়ে বাণিজ্য মেলায় অতিথি হিসাবে আমন্ত্রিত হয়ে কিংবা ভিন্ন কারণে চট্টগ্রামে এসে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মেলার স্থায়ী জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। কিন্তু বছরের পর বছর গড়ায় প্রত্যাশিত সেই জায়গা আর মেলে না। শুধু আলোচনার মধ্যে দেয়া প্রতিশ্রুতি বন্দী হয়ে যায়। চট্টগ্রামের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী আর নাগরিকদের এখন একটিই প্রশ্ন, কবে মিলবে মেলা করার মতো একটি স্থায়ী জায়গা। সেই প্রশ্ন জিইয়ে রেখেই নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে আজ মঙ্গলবার বিকেলে উদ্বোধন করা হবে ২৯তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২২। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে মাসব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করবেন। এদিকে, বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামে বছরে কয়েকটি আন্তর্জাতিক মেলা ও বহু স্থানীয় মেলা অনুষ্ঠিত হলেও এই মেলার জন্য স্থায়ী কোন জায়গার বন্দোবস্ত হয়নি এখন পর্যন্ত। বছরের পর বছর চট্টগ্রামে মেলার একটি স্থায়ী জায়গার দাবি তোলা হলেও এটি বাস্তবায়নে নেই কোন জোরালো পদক্ষেপ। বন্দরসহ চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও ভৌগলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম সব সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হওয়া সত্ত্বেও বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামে নেই কোন বাণিজ্য মেলার স্থায়ী জায়গা।
অন্যদিকে, বছরের পর বছর মৌসুম ভেদে খেলার মাঠকে রূপান্তর করতে হয় মেলার মাঠে। সেখানে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে মেলার আয়োজন করতে হয় আয়োজক কর্তৃপক্ষকে। আবার মেলা শেষে সেই অবকাঠামোকে ভেঙে মেলার মাঠকে আগের মতো খেলার মাঠের পূর্বেকার অবস্থায় নিয়ে যেতে হয়। বছরে একটি মাঠকে দুই/তিনবার রূপান্তরের কারণে ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকা। এর বাইরে মেলার স্থায়ী জায়গা না হওয়ায় নগরীর পলোগ্রাউন্ড, আউটার স্টেডিয়াম মাঠে মেলা চলাকালীন সময়ে বাধে তীব্র যানজট। মেলার স্থায়ী জায়গা প্রসঙ্গে চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি চট্টগ্রামে মেলার একটি স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা করা হোক। এজন্য আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। অনেকেই আশা দিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোন সুরহা হয়নি। শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
চট্টগ্রামে মেলার স্থায়ী জায়গার উপর গুরুত্বারোপ করে মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী। এখানে বন্দর, দুটি ইপিজেড ও একটি শিল্পাঞ্চল আছে। এর বাইরে হাজার হাজার কলকারখানা আছে। তাই চট্টগ্রামে বাণিজ্য মেলার যে গুরুত্ব আছে সেটি অন্য কোন জেলাতে নেই। তারপরও আমরা অবহেলিত। ঢাকায় মেলার স্থায়ী জায়গা হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামের জন্য কারো মাথা ব্যথা নেই।
এদিকে, চট্টগ্রাম চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বার ও ওমেন চেম্বার ছাড়াও চট্টগ্রামে বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান মৌসুমী মেলার আয়োজন করে। এসব মেলা করতে রেলওয়ের পলোগ্রাউন্ড মাঠ, আউটার স্টেডিয়াম, হালিশহরে আবাহনী মাঠ, আমবাগানে রেলওয়ের পাহাড়তলী স্কুল সংলগ্ন মাঠে মেলার আয়োজন করতে হয়। এছাড়া কমিউনিটি হল ভাড়া করেও মেলার আয়োজন করা হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে মেলার একটি পরিকল্পিত স্থায়ী জায়গা থাকলে এমন বিচ্ছিন্ন জায়গায় মেলার আয়োজন করার প্রয়োজন হতো না।
প্রসঙ্গত, দেশের পণ্য প্রদর্শনী ও বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর পূর্বাচলে গত বছরের (২০২১ সাল) ২১ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার। মোট ৩৩ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই জায়গায় এবছরের প্রথমদিন শুরু হয়েছিল ২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। তবে চট্টগ্রামে এবারও যত মেলার আয়োজন করা হবে তার জন্য নির্ভর করতে হবে সেই খেলার মাঠের ওপরেই।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি নগরীর রেলওয়ে আমবাগান রোডস্থ শহীদ শেখ রাসেল পার্কের মাঠে চিটাগাং উইম্যান চেম্বর অব কমার্স আয়োজিত সিএমএসএমই বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনীতে এসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের জন্য মেট্রোরেলের ব্যবস্থা করছেন, ইনশ আল্লাহ খুব সহসা তিনি চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্য মেলার ভেন্যু নির্ধারণ করে দিবেন’।
এর আগে ৫ জানুয়ারি কালুরঘাটের মোহরা এলাকায় জেলা প্রশাসনের সমন্বিত দপ্তর এলাকা পরিদর্শন করতে এসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের কালুরঘাটে ১৪ একর জায়গায় মেলার জন্য একটি স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে’।
সচিব কে এম আলী আজম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়েছেন চট্টগ্রামবাসী ও ব্যবসায়ী মহল। কিন্তু এর দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান তাঁরা।

পূর্বকোণ/এস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট