চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

২৮ মে, ২০২২ | ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

৫০ শতাংশ উপজেলায় নেই পূর্ণাঙ্গ প্রসূতিসেবা

ইমাম হোসাইন রাজু    

সন্দ্বীপের বাসিন্দা কুলসুমা বেগম (৩০)। প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হন স্থানীয় একটি হাসপাতালে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় স্থানীয় চিকিৎসক কুলসুমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু সন্তান জন্ম দেয়ার আগেই পথিমধ্যে মৃত্যু হয় এ গর্ভবতীর। সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা থাকার পরও জটিল প্রসূতিদের সেবার জন্য ছুটতে হচ্ছে শহরের হাসপাতালে। তাতে করে মৃত্যুর ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনি শারীরিক সমস্যাতেও পড়ছেন প্রসূতিরা। জানা যায়, দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে গড়ে উঠেনি অস্ত্রোপচারের সুযোগ সুবিধা। যার কারণে কুলসুমার মতো প্রসূতিদের এখনও সাগর পাড়ি দিয়ে ছুটে আসতে হয় শহরে। শুধু সন্দ্বীপ উপজেলাই নয়, চট্টগ্রামের ১৪টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে ৭টি সরকারি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের সুবিধা গড়ে উঠেনি। যে কারণে সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে জীবন ঝুঁকিতে পড়ছেন অসংখ্য মা। অথচ নিরাপদ মাতৃত্ব দিবসের এবারের স্লোগান ‘মা ও শিশুর জীবন বাঁচাতে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হবে যেতে।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাম পর্যায়ে শতভাগ প্রসূতিসেবা কার্যক্রম যদি পৌঁছানো না যায়, তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার শতভাগ কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা শতভাগ পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি রাখতে হবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার বলেন, ‘চমেক হাসপাতাল হচ্ছে রেফারেল হাসপাতাল। এখানে দিনে প্রায় ৭০ জনের বেশি নারী ভর্তি হয়ে থাকে। যাদের সিংহভাগই হচ্ছে রেফারেল। অর্থাৎ জটিলতা নিয়েই এসব রোগী এ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকে। তাদের বেশিরভাগই হচ্ছে গ্রাম-উপজেলা পর্যায়ের। যদি উপজেলা পর্যায়ে শতভাগ প্রসূতিসেবা থাকত, তাহলে রেফারেল কেস কমে আসতো। তবে এটিও সত্য, আগের চেয়ে এখন গ্রাম পর্যায়ে এখন বেশি সেবা মিলছে।’
প্রাপ্ত তথ্য মতে, চট্টগ্রামের বেশ কিছু উপজেলাতেই এখন স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা বেড়েছে। এরমধ্যে প্রসূতিসেবায় দেশসেরা উপজেলার তালিকাতেও নাম লেখানোর মতো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও আছে চট্টগ্রামে। কিন্তু বাকি কয়েকটি উপজেলায় যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ না থাকাসহ নানা সমস্যার কারণে শতভাগ প্রসূতি সেবা দেয়া যাচ্ছে না।  
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, গত মার্চ মাসে ১৪টি উপজেলার মধ্যে ৭টি উপজেলাতেই কোন অস্ত্রোপচার হয়নি। যদিও একই মাসে সবগুলো উপজেলাতেই এক হাজারের বেশি প্রসব হয়। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসেও সমপরিমাণ প্রসব হয়। আর জানুয়ারি মাসে তার চেয়ে দুই শতাধিক বেশি প্রসব হয়ে থাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। যদিও এ তিন মাসে সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ধরনের অস্ত্রোপচার হয়নি। বাকি সাতটিতে নিয়মিতই অস্ত্রোপচার ছিল। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, ‘কিছু কিছু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন চালুই ছিল না। কিন্তু এখন বেশিরভাগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চালু হয়েছে। আরও কয়েকটিতে চালুর অপেক্ষায় আছে। মূলত অবকাঠামো, জনবল সংকট, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি না থাকায় চালু করা যাচ্ছে না। আশা করছি সবগুলোতেই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করা হবে।’  

পূর্বকোণ/এস 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট