চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২

২৭ মে, ২০২২ | ২:০৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অভিভাবকহীন রাসায়নিক পরীক্ষাগার !

দেশের বৃহৎ শুল্ক স্টেশন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে নেই কোন পরীক্ষক। সরকারি এই সংস্থার জনবল কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) অনুযায়ী ১২ জন পরীক্ষকের পদ থাকলেও এই পদটি শুন্য রয়েছে বহু বছর ধরে। অভিভাবকহীন এই পরীক্ষাগার এখন চলে একজন সহকারী পরীক্ষক দিয়ে। পর্যপ্ত দক্ষ লোকবল, সরঞ্জামাদি ও কাঁচামাল না থাকায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই পরীক্ষাগার। ফলে দু’একটি পরীক্ষা ছাড়া অন্যান্য ল্যাব থেকে পণ্যের পরীক্ষা করে রিপোর্ট নিয়ে সে পণ্য খালাস করতে হয় আমদানিকারকদের। এমনি কাস্টমসের এই পরীক্ষাগারের ভুল রিপোর্ট দেওয়ারও অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। যার করণে আটকে যায় অনেক প্রয়োজনীয় পণ্য।
দেশের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি-রপ্তানি যে কাস্টমস হাউস দিয়ে হয়ে থাকে, সেই কাস্টমসের রাসায়নিক পরীক্ষাগারটিও পড়ে আছে মূমুর্ষু অবস্থায়। নিয়োগ দেয়া হয়নি পর্যাপ্ত লোকবল। অভাব আছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের। আর এই পরীক্ষাগারে যে একজন সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক আছেন তিনি করতে পারেন না সব ধরনের রাসায়নিক পরীক্ষা। ফলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে ফরমালিন ও সাইট্রিক এসিড ছাড়া বর্তমানে কোনো ধরনের রাসায়নিক পরীক্ষা হচ্ছে না। এদিকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কাস্টমসের যে কেমিক্যাল ল্যাবটি যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন না হওয়ায় জটিল মিশ্রণের পরিমাণগত বিশ্লেষণের জন্য ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষেত্রে ছুটতে হয় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), সায়েন্স ল্যাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বুয়েটের ল্যাবে। এ ছাড়া এ ল্যাবে তরল কোকেনসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের পরিমাণগত বিশ্লেষণের পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও লোকবল নেই। এমন সংকটের বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি মাহবুব আলম বলেন, বিভিন্ন কলকারখানার কাচামাল হিসেবে নানা ধরণের কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য আমদানি করতে হয়। যেগুলো ছাড়া কারখানার উৎপাদন অসম্ভব প্রায়। সে সব পণ্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে গিয়ে আটকে যায়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লোকবল না থাকায় সঠিক পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। অনেক নমুনা পরীক্ষায় ভুল রিপোর্ট আসে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের পরীক্ষাগারের সঙ্গে বুয়েট বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের রিপোর্টের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না। এতে ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। তাই এটি দ্রুত সময়ের মধ্যে আধুনিকায়ন ও লোকবল নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন’। 
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, ‘সারাদেশে তৃতীয় শ্রেণির মাত্র দুজন সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক রয়েছে, বিষয়টি আশ্চর্যজনক। এটি ইজি অব ডুয়িং বিজনেসের ক্ষেত্রে বড় বাধা। আমরা রাসায়নিক পরীকাক্ষাগার আধুনিকায়নের জন্য প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠিয়েছি। আশা করি, এ সমস্যার সমাধান হবে। তবে এটির সমাধান পুরোপুরি এনবিআরের হাতে নেই। এই কাজগুলো সম্পাদন হতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ অনেকগুলো মন্ত্রণালয় ঘুরতে হয়। তাই কাজ হতে সময় লাগছে।’

পূর্বকোণ/এস  

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট