চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২৬ মে, ২০২২ | ১১:৩০ অপরাহ্ণ

চকরিয়া-পেকুয়া সংবাদদাতা

পূর্বকোণে সংবাদ প্রকাশের পর আমির হোছন হত্যার ঘটনায় মামলা

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত দিনমজুর আমির হোছনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

সোমবার রাতে হত্যাকাণ্ডের পর বুধবার (২৫ মে) দুপুরে নিহত আমির হোছনের স্ত্রী ছকিনা ইয়াছমিন বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এই এজাহার ও বক্তব্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দৈনিক পূর্বকোণে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলে এজাহারটি বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে মামলা হিসেবে এন্ট্রি করা হয়।

এই মামলায় ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদরকে প্রধান আসামি করে ১০জনের নাম উল্লেখসহ আরো ১০-১২জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনদিন পেরোলেও ঘটনায় জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

আসামীরা হলেন- ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মকসুদ মিয়ার ছেলে হাসানুল ইসলাম আদর (৩৫), ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ডুমখালীর ইউছুপ মিয়ার ছেলে আবদুর রহমান (৩৬), ফরিদ আলমের ছেলে সালাহউদ্দিন (৩২), ছরওয়ার আলম (৩৬), ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উলুবুনিয়া এলাকার মৃত ছাবের আহমদের ছেলে সিরাজ মিয়া (৩০), ২ নম্বর ওয়ার্ডের ডুমখালীর ছাবের আহমদের ছেলে রেজাউল (২৯), মৃত আহমদ হোছনের ছেলে ও ইউপি সদস্য আবু ছালাম (৪৮), জামাল উদ্দিনের ছেলে বাহাদুর মিয়া (৪৪), টুক্কু মিয়ার ছেলে ছরওয়ার আলম (৩১) এবং আকবর আহমদের ছেলে বাবু মিয়া (২২)। এছাড়াও অজ্ঞাত আরও ১০-১২জনকে আসামি দেখানো হয়েছে।

মামলার বাদি নিহত আমির হোছনের স্ত্রী ছকিনা ইয়াছমিন এজাহারে দাবি করেন, সোমবার রাত ৮টার দিকে সন্ত্রাসী আবদুর রহমান আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিকটস্থ মাঠে নিয়ে যায়। যাওয়া মাত্রই চেয়ারম্যান আদরের নির্দেশে আবদুর রহমান ও সালাহউদ্দিনসহ অপরাপর সন্ত্রাসীরা আমার স্বামী আমির হোছনকে জাপটে ধরে হাত বেঁধে টেনেহিঁচড়া করে। এক পর্যায়ে আবদুর রহমান ও সালাহউদ্দিনসহ অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে।

এসময় ওখানে উপস্থিত থাকা ইউপি চেয়ারম্যান আদরকে বলতে শোনা যায় ‘শালাকে একেবারে মেরে ফেল’। আহতবস্থায় আমির হোছন পালাতে চেষ্টা করলে গুলি করা হয়। এতে আমির হোছন মারা যায়।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদরের পক্ষে ভোট না করায় আমার স্বামী আমির হোছনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী পূর্বকোণকে বলেন, বুধবার দুপুরে নিহত আমির হোছনের স্ত্রী ছকিনা ইয়াছমিন বাদি হয়ে হত্যার ঘটনায় একটি এজাহার দেন। ওই এজাহারটি তদন্ত করে মামলা হিসেবে এন্ট্রি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে সিভিল ও পোশাক পরিহিত পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। আশা করছি যেকোন মুহূর্তে আসামি গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।

পূর্বকোণ/জাহেদ/মামুন/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট