চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২১ মে, ২০২২ | ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিকল্পিতভাবে চালের দাম বৃদ্ধি সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র: সুজন

পরিকল্পিতভাবে চালের দাম বৃদ্ধি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

আজ শনিবার (২১ মে ২০২২ইং) সকালে পাহাড়তলী বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে এ অভিযোগ করেন সুজন।

মতবিনিময়ের শুরুতে পাহাড়তলী বাজারের চালের পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে চালের দাম বৃদ্ধির বিবরণ সুজনের নিকট উপস্থাপন করেন। তারা কিভাবে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা পেশ করেন।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, উত্তরবঙ্গের চালের মোকামরা আজ সকালে তাদের প্রতিনিধিদের চাল বিক্রি না করার নির্দেশনা প্রদান করেন। এতে করে চালের বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নেতৃবৃন্দ সুজনের দৃষ্টি আকর্ষন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের অনুরোধ জানান।

এসময় সুজন বলেন, কোন কারণ ছাড়াই চালের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বর্তমানে কৃষকের ঘরে বোরো এবং ইরি মৌসুমের ধান উঠেছে। এমন ভরা মৌসুমে কি কারণে চালের দাম বাড়ছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি উত্তরবঙ্গের চালের মোকাম থেকেই চালের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

এছাড়া বড় মিল মালিকের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ চাল মজুত করার কাজে নেমেছে। শিল্পগ্রুপগুলো পণ্য উৎপাদনের দিকে না ঝুঁকে বর্তমানে চালসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তারা অগ্রিম দাঁদন দিয়ে উৎপাদিত ধান, চাল তাদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। ফলত গত দুইদিনে ৫০ কেজি প্রতি বস্তা চালের দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা চালের সংকট হবে মর্মে গুজব সৃষ্টি করে চালের মজুত করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

আবার চালের দাম বাড়লে কৃষকের উপকার হবে বলে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করার পাঁয়তারাতে লিপ্ত রয়েছে। মূলত চালের দাম বৃদ্ধির পুরো টাকাটাই চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। আর কষ্ট ভোগ করছে সাধারণ ক্রেতাগণ। এরা একেক সময় একেক গুজব সৃষ্টি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে। সম্প্রতি তেল, আটা, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করেছে এসব অসাধু ব্যবসায়ি সিন্ডিকেট। আমরা মনে করি অনেকটা পরিকল্পিতভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র করছে ঐ শিল্পগ্রুপ সিন্ডিকেটটি।

এদের মধ্যে কিছু শিল্পগ্রুপ অতীতে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল। তারা কৌশলে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। এরা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

যদি ঐ সিন্ডিকেট দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অপতৎপরতা বন্ধ না করে তাহলে জনগনকে সাথে নিয়ে ঐসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেন সুজন। তিনি ভোক্তাদেরও গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দাম বাড়বে ভেবে বাজারে সংকট সৃষ্টি না করার আহবান জানান। তিনি কোন অবস্থাতেই কোন পণ্য যাতে মজুতদারীরা মজুত করতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান এবং এ বিষয়ে কোন সংবাদ পেলে সাথে সাথে ভোক্তা অধিকারসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর নিকট জানানোর আহবান জানান।

 

পূর্বকোণ/মামুন/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট