চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২১ মে, ২০২২ | ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অটোমেশনে যাচ্ছে গ্যাস বিতরণ

গ্যাসের অপচয় এবং চুরি ঠেকাতে গ্যাস খাতকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনতে চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা পেট্রোবাংলা। মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেলে এ নিয়ে কাজ শুরু করতে চায় সংস্থাটি। গ্যাস খাতকে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই পুরো গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকি করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডসহ দেশে ৬টি গ্যাস বিপণন কোম্পানি রয়েছে। পেট্রোবাংলার দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৯ মে) এই ৬টি গ্যাস বিপণন কোম্পানিতে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২ হাজার ৯৭৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এরমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিস্টেম লসের কারণে চুরি হচ্ছে বলে পেট্রোবাংলার ধারণা।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডসহ ৫টি গ্যাস কোম্পানি ১১৩টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করে। খনি থেকে গ্যাস তোলার পর তা জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হয়। জাতীয় গ্রিড থেকে বিতরণ কোম্পানির লাইনে দেওয়া হয়। লাইন থেকে বিতরণ কোম্পানি গ্রাহকের কাছে গ্যাস পৌঁছে দিয়ে বিল আদায় করে। তবে চট্টগ্রামসহ দেশের অনেক বিতরণ এলাকায় মিটার না থাকায় বিলের আকার থেকে ওই এলাকার গ্যাসের ব্যবহার নির্ধারণ করা হয়। ফলে কোন এলাকায় কী পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে জানা সম্ভব হয় না। এসব এলাকায় সরবরাহ করা গ্যাসের পরিমাণের চেয়ে গ্যাস বিক্রির পরিমাণ বেশি হয়ে যায়! এতে গ্যাস চুরি করা সহজ হয়।
বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা পূর্বকোণকে জানান, দুই চুলার গ্যাসের ক্ষেত্রে ৯৭৫ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু কিছু এলাকায় প্রিপেইড মিটার দেওয়ার পর আমরা হিসাব করে দেখেছি দুই চুলার ক্ষেত্রে গড়ে ৬০০ টাকার বেশি গ্যাস ব্যবহার হয় না। ৬০০ টাকার গ্যাস দিয়ে যখন ৯৭৫ টাকা আদায় করা হয়, তখন ৩৭৫ টাকার গ্যাস চুরি করা সহজ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হলে আবাসিক, শিল্প থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে কোথায় কী পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসেই দেখা যাবে। ফলে বৈধ গ্রাহক এবং তাদের গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে। গ্যাস চুরির বিষয়টি ধরা পড়বে। বিতরণ কোম্পানিগুলো অবৈধ গ্রাহককে নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করতেও সক্ষম হবে।
এছাড়া স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হলে গ্যাস ব্যবহার এবং বিল আদায়ের চিত্র কোম্পানির এক্সিকিউটিভ সব সময় তার স্ক্রিনে দেখতে পাবেন। ফলে তিনি বুঝতে পারবেন কী পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে আর কী পরিমাণ বিল পাচ্ছেন। এতে করে গ্যাসের ঘাটতির অবস্থাও বুঝতে সহজ হবে। সিস্টেম লস কমিয়ে গ্যাসের অপচয় রোধ করা যাবে।
পেট্রোবাংলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্যাস খাতকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে গ্যাস খাতকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে।

পূর্বকোণ/এস 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট