চট্টগ্রাম বুধবার, ০৬ জুলাই, ২০২২

সর্বশেষ:

২০ মে, ২০২২ | ১২:৫২ অপরাহ্ণ

সেবাসংস্থার আবর্জনাবাহী গাড়ির চালকরা বেপরোয়া

ইফতেখারুল ইসলাম 

সরকারি সেবা সংস্থাসমূহের ট্রাক চালকরা বেপরোয়া। গাড়িতে সরকারি সংস্থার লেভেল থাকায় কেউ তাদের কিছু বলতে সাহস করে না। এমনকি সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তা তাদের কিছু বললে তারা জোটবদ্ধ হয়ে ওই কর্মকর্তাকে বেকায়দায় ফেলে দেয়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আবর্জনার গাড়ি চালকরা বেশি বেপরোয়া। গত বুধবারও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে চসিকের আবর্জনাবাহী গাড়ির ধাক্কায় এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চসিকের বেশিরভাগ আবর্জনাবাহী গাড়ি এমনিতেই পরিবেশসম্মতভাবে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে আবর্জনা পরিবহন করে না। অনেক সময় গাড়ির পেছনে আবর্জনা ঝুলে পড়ে। আবার উপরে ঢাকা না থাকার কারণে বাতাসে আবর্জনা উড়ে। গন্ধদূষণ ছড়ায়। এসব আবর্জনার গাড়ি নিয়ে চালকরা যখন যায়, তারা ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা করে না। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায়। একে তো আবর্জনাবাহী গাড়ি, অপরদিকে বেপরোয়া চলাচল। কখন কার গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে বসে এ ভয়ে আশপাশের গাড়ির যাত্রী এবং চালকরা তটস্থ থাকে। কেউ কোন প্রতিবাদ করলেই চালকরা এমন ভাব দেখায়, যেন তারাই এই শহরের সবচেয়ে ক্ষমতাবান। তাই তাদের জন্য কোন নিয়ম কানুনের প্রয়োজন নেই। তারা সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
এক ভুক্তভোগী সালাউদ্দিন হক চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, কয়েক মাস আগে ষোলশহর দুই নম্বর গেটে তার প্রাইভেট কারে ধাক্কা দিয়েছিল সিটি কর্পোরেশনের একটি আবর্জনাবাহী ট্রাক। ওই ট্রাকটি আবর্জনা নিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী আবর্জনার ভাগাড়ে যাচ্ছিল। তিনি যাচ্ছিলেন জিইসি থেকে মুরাদপুরের দিকে। তার গাড়িটি দুই নম্বর গেট মোড় পাওয়ার হওয়ার সময় সিটি কর্পোরেশনের একটি আবর্জনার গাড়ি বেপরোয়া গতিতে এসে তার গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে তার গাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবুও সিটি কর্পোরেশনের ওই ট্রাক থামেনি। তিনি জানান, সৌভাগ্যক্রমে তিনি সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন। পরে তিনি নিজের টাকায় তার গাড়ি মেরামত করে নিয়েছিলেন।
এই ধরনের আরো একাধিক ভুক্তভোগী পূর্বকোণকে অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারি সেবা সংস্থার চালকদের শৃঙ্খলায় আনা উচিত। শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনাবাহী গাড়ি নয়, সিডিএ’র চলমান জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্পের মাটি অপসারণে নিয়োজিত গাড়ি চালকরাও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায়। সরকারি সংস্থার কাজে নিয়োজিত আবর্জনা, মাটি, বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীবাহী ট্রাক, লরিসহ সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে চালকদের বেপরোয়া মনোভাব পরিহার করার লক্ষ্যে সংস্থাসমূহের উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে ভুক্তভোগীরা মনে করেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের উপ-প্রধান কর্মকর্তা মোরশেদ আলম চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের অভিযোগ কিছুটা সত্য। কিছু চালকের বিরুদ্ধে তিনিও অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, সবসময় তাদেরকে সতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কথা বলা হয়।

পূর্বকোণ/এস 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট