চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

২০ মে, ২০২২ | ১২:২৮ অপরাহ্ণ

দেড় বছরেও আলোর মুখ দেখেনি ই-অকশন

সারোয়ার আহমদ 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম ব্যবস্থাকে যুগোপুযোগী করতে ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর চালু হয়েছিল অনলাইনভিত্তিক ই-অকশন কার্যক্রম। অথচ উদ্বোধনের পর থেকে গত দেড় বছরে ই-অকশন হয়েছে মাত্র তিনটি। এছাড়া গত বছরের ৪ নভেম্বরের পর থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে ১১টি প্রচলিত সাধারণ নিলাম অনুষ্ঠিত হলেও অনলাইন ভিত্তিক ই-অকশন হয়নি একটিও। অর্থাৎ যে সুদূর প্রসারী চিন্তা থেকে ই-অকশন চালু করা হয়েছিল তা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। চট্টগ্রাম কাস্টমসের ই-অকশন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, উদ্বোধনের পর ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবরের প্রথম ই-অকশনের লট ছিল ১৬টি। সেই ১৬ লটের মধ্যে ৮টিতে দরপত্র জমা পড়েছে ৩৮টি।

পরবর্তী ই-অকশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি। সেই নিলামে ২০ লটের সবগুলোতেই ছিল পেঁয়াজ। তার একটিতে ছাড়া বাকি ১৯টি লটে দরপত্র জমা পড়েছিল ৯১টি।
এছাড়া সর্বশেষ ই-অকশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিলাসবহুল কার্নেট গাড়ির। গত বছরের নভেম্বরের ১১ তারিখ ওই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ১১২টি লটে ১১২টি বিলাসবহুল কার্নেট গাড়ির নিলামে তোলা হয়েছিল। ওই নিলামে দুটি ছাড়া ১১০টি লটে ১৬৮ টি দরপত্র জমা পড়েছিল।

এদিকে ই-অকশন কার্যক্রম নিয়মিত না হওয়ার প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার মো. আল আমিন পূর্বকোণকে বলেন, ই-অকশনের সুফল এখনো পুরোপুরি পাওয়া যায়নি করেকটি কারণে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নিয়মিত যারা প্রচলিত নিলামে অংশগ্রহণ করেন তারা অনলাইনে এখনো পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেনি। এছাড়া অনলাইনে নিলামে অংশগ্রহণ করলেও বিডারদের জামানত জমা ও ব্যাংকিং কাজে নিলাম শাখায় আসতে হয়। এর বাইরে অন্যতম কারণ হলো, যদিও অনলাইন নিলামে পণ্যের ছবি দেওয়া হয়, তারপরও কেউই চায়না একটি পণ্য না দেখে কিনতে। এটি একটি সাধারণ বিষয়। উচ্চ মূল্য দিয়ে কেউ পণ্য কিনতে আসলে সে নিজ চোখে না দেখে কেউই কিনতে চাইবে না। এসব কারণে ই-অকশন এখনো জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি।
তিনি আরো বলেন, ই-অকশনের সুফল পেতে এই কার্যক্রমের দেশব্যাপী প্রচার ও প্রসারের প্রয়োজন আছে। এই পদ্বতিতে যে কোনো স্থান থেকেই আগ্রহীরা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে নিলামে অংশ নিতে পারবেন। ফলে একদিকে সময় বাঁচবে সময়, অন্যদিকে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

উল্লেখ্য, ই-অকশন প্রক্রিয়ায় নিলামে অংশগ্রহণকারীরা পণ্যের দর, তালিকা, পণ্যের ছবি দেখতে পায়। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পূরণ করে ঘরে বসেই নিলামে অংশ নেয়া যায়। একইভাবে ঘরে বসেই দেখতে পারবেন, কোন ক্যাটালগের সর্বোচ্চ বিডার কে হয়েছেন। এতে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই নিলাম কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
প্রসঙ্গত, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে খালাস না নিলে আমদানিকারককে নোটিশ দেয় কাস্টম কর্তৃপক্ষ। এর ১৫ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টম। এ ছাড়া মিথ্যা ঘোষণা এবং ঘোষণার বেশি আনা জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা যায়। আবার মামলাসহ নানা জটিলতায় বন্দর ইয়ার্ডে বাড়ে কনটেইনারের সারি। তৈরি হয় কনটেইনার জট। দিনের পর দিন কনটেইনার পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ চার্জ পায় না।

পূর্বকোণ/এস 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট