চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ মে, ২০২২

১৪ মে, ২০২২ | ৭:১১ অপরাহ্ণ

বোরোর দুঃস্বপ্ন এবার ব্লাস্ট রোগ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

ক্ষেত থেকে ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে বাগড়া দিল ‘বৃষ্টি’। ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে পাকা-কাঁচা, পাকা ধান ন্যুয়ে পড়েছে। এরসঙ্গে ‘ব্লাস্ট রোগ’ মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। এর ফলে বোরোর বাম্পার ফলনের পরও মলিন হয়ে পড়েছে কৃষকের স্বপ্ন। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, ধানে পোকা আসেনি। বৃষ্টিতেও ধানের ক্ষতি হয়নি।

বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া এলাকার কৃষক এম এ মন্নান বলেন, আড়াই কানি জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। এরমধ্যে বৃষ্টিতে ৭ গণ্ডা জমির ধান ন্যুয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু শেষমুহূর্তে বৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, আমুচিয়া ও কড়লডেঙ্গায় প্রচুর ধান ন্যুয়ে পড়েছে। এতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কৃষক মন্নান বলেন, বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ধানের ক্ষতির সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে পোকার আক্রমণে ক্ষেতের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন স্থানে পোকার কারণে ক্ষেতের ফসল মরে সাদা হয়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, ধানে পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি ছিল না। কয়েক স্থানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তপন কান্তি দে বলেন, ‘ধানে পোকা আসেনি। এটা ব্লাস্ট রোগ। এ রোগের আক্রমণে ধান হেলে পড়ে।’

ব্লাস্ট রোগে ধান গাছের শীষ ভেঙে যায়। ধান শুকিয়ে চিটা হয়ে যায়। শুকিয়ে যায় ধানগাছের পাতাও। তবে আমলে নেয়নি কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ প্রথমে তা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। জেলা কৃষি বিভাগকেও তা অবহিত করেনি।

তপন কান্তি দে প্রথমদিকে ধানগাছে পোকা-মাড়কের আক্রমণের কথা চাপিয়ে রাখেন। এ প্রতিবেদক এলাকার নাম উল্লেখ করে বলার পর তিনি বলেন, ‘ধানে পোকা-মাড়কের আক্রমণ নেই। এটা ব্লাস্ট রোগ। এ বিষয়ে প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষক তা আমলে না নিলে বা ওষুধপত্র না ছিটালে আমাদের করার কী আছে?’

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৬২ হাজার ৭৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষাবাদ হয়েছে ৬৫ হাজার ৫৯৩ হেক্টর। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান পূর্বকোণকে বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে ধানের কোনো ক্ষতি হয়নি। কৃষক ধান কেটে ফেলেছে।’ এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও পোকা-মাকড়ের আক্রমণের বিষয়ে তার জানা নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রম চলছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো বৃষ্টির কারণে ধান কাটায় ব্যাঘাত হয়। বিভিন্ন স্থানে পাকা ও আধা পাকা ধান জমিতে ন্যুয়ে পড়েছে। তবে ধান কাটার ভরমৌসুমে শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে জানান কৃষকেরা। অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না।

বাঁশখালীর উপজেলার বাণীগ্রামের আবুল বশর ও বিজয় চৌধুরী বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে ধান কাটায় শ্রমিকের বড় সংকট দেখা দেয়। দু’বেলা ভাত ও চা-নাস্তাসহ এক হাজার বা তারও বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না।’ একই কথা বললেন, বোয়ালখালীর সারোয়াতলীর কামরুল, হাসানও। তারা বললেন, ‘চা-নাস্তা ও ভাত খাওয়াসহ দিনে এক হাজার থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাসে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করেছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই পূর্বাভাস কৃষকের মনে ভয় ধরেছে। পুরোদমে ধান কাটা শুরু হওয়ার পর কালবৈশাখী বা ঝড়ো হাওয়া বইয়ে গেলে পাকা ধানের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অতিরিক্ত শ্রমিক লাগিয়ে দ্রুত ধান কাটা শেষ করার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

পূর্বকোণ/এস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট