চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৪ মে, ২০২২ | ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বার বার আসুক ফিরে এমন দিন

শিক্ষককে কাছে পেয়ে শ্রদ্ধায় নত হচ্ছেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। সতীর্থদের জড়াচ্ছেন আলিঙ্গনে। স্মৃতিচারণায় ফিরে যাচ্ছেন ফেলে আসা সেই সোনালী দিনে। আড্ডা, গান ও সেলফিতে বন্দী করছেন মধুর সব স্মৃতি। এভাবেই উৎসবের মাধ্যমে পুরো দিন কাটিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। যোগাযোগ না থাকা পুরোনো বন্ধুদের দীর্ঘদিন পর খোঁজ পেয়েছেন। পুনর্মিলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, এমন দিন ফিরে আসুক বারবার।

দুইদিন ব্যাপী চট্টগ্রাম কলেজ প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পুনর্মিলন-২০২২ এর দ্বিতীয় দিনে আয়োজন করা হয় নগরীর নেভি কনভেনশন সেন্টারে। সেখানে কলেজের আবহ আনতে প্রশাসনিক ভবন, রেড বিল্ডিংসহ বিভিন্ন ভবনের বিশাল আকারের ছবি স্থাপন করা হয়। সেসব ছবির সামনে সাবেক শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে ছবি তুলছেন, মেতেছেন আড্ডায়। এবার পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে দুই হাজার ২০০ প্রাক্তন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেন।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় পুনর্মিলনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন কলেজের সবচেয়ে বর্ষীয়ান, সাবেক শিক্ষার্থী অধ্যাপক চিত্ত প্রসাদ তালুকদার (৯৮)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী আহমদ কায়কাউস। জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর পুনর্মিলনী আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী আলী আহমদ ও সদস্য সচিব এস এম আবু তৈয়ব বক্তব্য রাখেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সমন্বয়ক একরামুল করিম। অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ স্মারক বক্তৃতা দেন চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাসান। তারপর শুরু হয় স্মৃতিচারণ পর্ব।

 

স্মৃতিচারণায় অংশ নিয়ে নিজেদের সোনালী অতীত, কলেজ ক্যাম্পাসে ফেলে আসা দিন, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের নানা বিষয়ে তুলে ধরেন কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইসমাইল খান, সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিল্পগোষ্ঠী একে খান গ্রুপের সালাউদ্দিন কাশেম খান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. আবদুল করিম, সাবেক সচিব মো. নাসির উদ্দিন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহফুজা আখতার, লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া প্রমুখ। স্মৃতিচারণায় একে খান ফাউন্ডেশনের নামে চট্টগ্রাম কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালুর ঘোষণা দেন সালাউদ্দিন কাশেম খান।

স্মৃতিচারণায় অধ্যাপক চিত্ত প্রসাদ তালুকদার বলেন, ১৯৪২ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত আমি চট্টগ্রাম কলেজে পড়েছি। আমাদের সময়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার বন্ধুদের কাউকে আজ আর দেখি না। ছাত্রদের অনেককেই আজ দেখলাম। খুব ভালো লাগছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু সিকান্দার খান, দি পূর্বকোণ লিমিটেডের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোহিত উল আলম, বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক হাসিনা জাকারিয়া বেলা, অধ্যক্ষ আনোয়ারা আলম, আইনজীবী আবুল হাশেম, ডা. শেখ শফিউল আজম প্রমুখ।

 

স্মৃতিচারণা শেষে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আবার মাতেন স্মৃতিমূলক অনুষ্ঠান, কৌতুক পরিবেশন, কুইজ প্রতিযোগিতা, কবিতা পাঠ ও গল্প বলা, কলেজ বন্ধুদের পরিবেশনায় গানের অনুষ্ঠানে। সন্ধ্যায় অতিথি শিল্পীদের সাথে গানে গলা মিলিয়ে ফিরে গেছেন ফেলে আসা দিনে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসেছেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ এসেছেন দেশের বাইরে থেকে। সঙ্গে ছিল ছেলেমেয়েরা। নিজেদের সোনালী অতীতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন সন্তানদের।

র‌্যাফেল ড্রতে দিনের আয়োজন শেষ হলেও এই শেষ যেন আরেক শুরুর বার্তা দিয়ে যায়। দিনভর আড্ডায় অনেক হারানো বন্ধুর খোঁজ মিলেছে। মনের কথা বলেছেন প্রিয় বন্ধুকে। নিয়েছেন ফোন নম্বর। আর ফেসবুক একাউন্টেও যুক্ত হয়েছেন পরস্পর। অনেকে নতুন এই সংযোগে যুক্ত হতে খুলেছেন ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও। একদিনের মিলনমেলা শেষ হলেও এই যোগাযোগ রয়ে যাবে সারাজীবন। এবারের পুনর্মিলনী তাই শুধু একদিনের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। এ যেন নতুন যাত্রার সূচনার শুভক্ষণ।

 

পূর্বকোণ/এস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট