চট্টগ্রাম বুধবার, ১৮ মে, ২০২২

১৪ মে, ২০২২ | ১:৪১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় আছে চট্টগ্রামে কেন নেই হৃদরোগ হাসপাতাল

চট্টগ্রামে হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণ করতে চান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে উন্নতমানের বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতালে নেই। ঢাকায় থাকলে চট্টগ্রামে কেন থাকবে না? চট্টগ্রাম থেকে প্রচুর লোক চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটেন। অথচ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর নগরী চট্টগ্রামে বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই। চট্টগ্রামে হৃদরোগ হাসপাতালের বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠানোর জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালককে নির্দেশনা দেন তিনি। এছাড়াও চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রফেসর না থাকার কারণও জানতে চান মুখ্য সচিব।

গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুধীজনের সাথে চট্টগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বহদ্দারহাট থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত বারৈপাড়া খাল খনন কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরও কেন কাজ শুরু করা হচ্ছে না প্রকল্প পরিচালকের কাছে জানতে চান তিনি। ভূমি অধিগ্রহণে ধীরগতি ও জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু করাতে দেরি হচ্ছে বলে জানান প্রকল্প কর্মকর্তা। তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান ২-৩ মাসের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানান।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চেয়েছেন মুখ্য সচিব। চলতি বর্ষায় জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে কিনা জানতে চান তিনি। জবাবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল শাহ আলী জলাবদ্ধতা নিরসনের নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। তবে আগে চেয়ে সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে জানান।
জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড রেগুলেটর বসানোর কাজ করছে। এ দুটি সংস্থা ৪০টি রেগুলেটর বসাবে। নির্মাণের পর লেগুলেটরগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও সভায় উত্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কায়কাউস এ বিষয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে ঢাকায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ এ প্রকল্পের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্তসহ একাধিক মন্ত্রণালয় যুক্ত রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে তা নিরসন করতে হবে।’ সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো উন্নয়ন প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মুসলিম হক ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশনা দেন। নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নত, পরিবর্তন ও দ্রুত করার নির্দেশনা দেন তিনি। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল এম শাহজাহান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুস সালাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাসান শাহরিয়ার কবীর, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, ভারপ্রাপ্ত মেয়র গিয়াস উদ্দিন ছাড়াও চট্টগ্রামের প্রতিটি দপ্তর, সংস্থার প্রধান ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালকেরা স্ব স্ব বিভাগের প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরেন।

পূর্বকোণ/এস 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট