চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৫ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

২৮ জুলাই, ২০১৯ | ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গাদের ‘শর্ত সাপেক্ষে’ নাগরিকত্ব দিতে রাজি মিয়ানমার

শর্ত সাপেক্ষে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে রাজি মিয়ামার বলে মন্তব্য করেছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে। আজ রবিবার (২৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটি আজ রবিবার সকালে কুতুপালং ৪ নম্বর ক্যাম্পে যান। যেখানে গতকালের বৈঠকে অংশ নেওয়া ৪০ সদস্যের রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৃতীয় দফায় বৈঠক করেন। টানা দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠকে রোহিঙ্গারা নিজেদের নানা দাবির কথা জানান মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের কাছে।

এ সময় মিন্ট থোয়ে জানান, আমরা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে প্রস্তুত। তবে ১৯৮২ সালের মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী প্রত্যেককে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। এছাড়াও যারা ‘দাদা, মা ও সন্তান’ এই তিনজনের অবস্থানের প্রমাণ দিতে পারবে তাদের দেয়া হবে নাগরিকত্ব। একইভাবে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) অনুযায়ী কাগজপত্র দেখাতে পারবে তাদেরও নাগরিকত্ব দেয়া হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ঢাকায় ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও এ সংক্রান্ত বৈঠক হবে।

রোহিঙ্গারা জানান, নাগরিকত্ব ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার নিরাপত্তা প্রদান করলে তারা স্বদেশে ফেরত যাবেন। মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা তাদের কথা শোনেন ও রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত যাওয়ার আহ্বান জানান। ফেরত গেলে তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তারা।

দুপুরে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটি রোহিঙ্গা হিন্দু ক্যাম্পও পরিদর্শনে যান। সেখানে রোহিঙ্গা হিন্দুদের সঙ্গে আলাপ করছেন। এ সময় হিন্দু রোহিঙ্গারা কোন দাবি বা শর্ত ছাড়াই মিয়ানমারে ফিরতে রাজি হয়েছেন। তবে মুসলিম রোহিঙ্গাদের মতো খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী যেসব রোহিঙ্গা রয়েছেন তারাও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলকে নানা শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের উপর রাখাইন রাজ্যে চলা হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৫ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে এসব রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় একটি চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। সব রকমের প্রস্তুতির পরও রহস্যজনক কারণে মিয়ানমার চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। পরে জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করে। চীনের ভূমিকা অস্পষ্ট থাকলেও সম্প্রতি তারাও সবুজ সংকেত দিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো মিয়ানমারের উচ্চপর্যায়ের এ প্রতিনিধি দলের আগমন। আজ বিকেলেই ঢাকায় ফিরে গেছেন প্রতিনিধিদলটি।

পূর্বকোণ/রাশেদ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 396 People

সম্পর্কিত পোস্ট