চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সর্বশেষ:

২৬ জুলাই, ২০১৯ | ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে হয় যেভাবে

ইসলামের প্রাথমিক যুগে ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে মহান আল্লাহ তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেন। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি রাতের কিছু অংশ ছাড়া সারারাত জেগে তাহাজ্জুদ আদায়ের নির্দেশ ছিল। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন ‘হে চাদর আবৃত, কিছু অংশ ছাড়া রাতের সালাতে দাঁড়াও।’ (সুরা মুজাম্মিল : আয়াত ১-২)।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ফরজ নামাজের পর তাহাজ্জুদ নামাজ তথা রাতের নামাজ হলো সব নফল নামাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ)

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে পারবেন, তাদের মধ্যে একশ্রেণির মানুষ হলেন তারা, যারা যত্নের সঙ্গে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। এ নামাজের প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন সুরায়। তাই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীসহ সব যুগের ওলি ও বিদ্বানরা তাহাজ্জুদ নামাজে রাত কাটিয়ে দিয়েছেন।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময়:

ইশার নামাজ আদায়ের পর থেকে সুবহে সাদেকের আগ পর্যন্ত সালাতুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যায়। তবে মধ্যরাতের পর থেকে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া ভালো। শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা সর্বোত্তম।

২ থেকে ১২ রাকাত পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার বর্ণনা পাওয়া যায়। সর্বনিম্ন ২ রাকাত আর সর্বোচ্চ ১২ রাকাত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন। তাই ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়াই ভালো। তবে এটা পড়া অত্যাবশ্যক নয়।

সম্ভব হলে ১২ রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করা। তবে ৮ রাকাত আদায় করা উত্তম। তাও সম্ভব না হলে ৪ রাকাত আদায় করা। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে ২ রাকাত হলেও তাহাজ্জুদ আদায় করা ভালো। তবে কোনো কাজা তাহাজ্জুদ নামাজের নেই।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত:

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ رَكَعَتِى التَّهَجُّدِاَللهُ اَكْبَر

অর্থ : দুই রাকাআত তাহাজ্জুদের নিয়ত করছি…অতঃপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বেঁধে নামাজ পড়া।

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম:

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই রাকাত করে এ নামাজ আদায় করতেন। যে কোনো সুরা দিয়েই এ নামাজ পড়া যায়। তবে রাসুল (সাঃ) লম্বা কেরাতে নামাজ আদায় করতেন। তাই তাহাজ্জুদ লম্বা কেরাতে আদায় করা উত্তম।

তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বাঁধা। অতঃপর ছানা পড়া। সুরা ফাতেহা পড়া। সুরা মিলানো তথা কেরাত পড়া। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) অনেক লম্বা কেরাত পড়তেন। অতঃপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় রুকু, সেজদা আদায় করা। এভাবেই দ্বিতীয় রাকাআত আদায় করে তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া মাছুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা। এভাবে দুই দুই রাকাত করে ৮ রাকাআত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা উত্তম।

 

 

 

পূর্বকোণ/রাশেদ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 1229 People

সম্পর্কিত পোস্ট