চট্টগ্রাম সোমবার, ০১ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

২৬ জুলাই, ২০১৯ | ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাত উপজেলার ছয়টির মেয়াদ নেই

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাত উপজেলা কমিটির মধ্যে ছয়টির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। শুধুমাত্র ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ এখনো আছে। আগামী শনিবার থেকে উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হচ্ছে। প্রথম সম্মেলন করবে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। সম্মেলন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল করার কৌশল নির্ধারণে আজ শুক্রবার জেলা নির্বাহি কমিটি বৈঠক। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সাত বছর পর ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সমস্ত ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন সম্মেলন সম্পন্ন করে। রাউজান উপজেলায় সব ইউনিয়নের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। রাউজানে সভাপতি বেবী চৌধুরীর মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমদও মৃত্যুবরণ করেন। আনোয়ারুল ইসলামকে নিয়ে সংগঠনটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ সম্পাদকও এলাকায় থাকেন না। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাটহাজারী আওয়ামী লীগে চরম বিরোধ রয়েছে। সভাপতি অধ্যক্ষ ইসমাইলের মৃত্যুর পর হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগ অনেকটা হ য ব র ল অবস্থা। অনেকটা সাধারণ সম্পাদক নির্ভর এই সংগঠনটি চলছিল। এই উপজেলাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকে নিজের এলাকা। তবে ইতিমধ্যে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত ইউনিয়নের সম্মেলন সম্পন্ন করার। মিরসরাইয়ে সাংগঠনিক অবস্থা কিছুটা ভাল বলা যায়। সেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের মধ্যে বিরোধ আছে। তবে এখানে আওয়ামী লীগের কমিটি অনেকটা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অনুসারী। সন্দ্বীপে উপজেলা আওয়ামী লীগ অনেকটা এমপি নির্ভর। এই উপজেলা কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। সীতাকু-ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাশেম মাস্টারের মৃত্যুর পর আর কোন সম্মেলন হয়নি। আবদুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া সাধারণ সম্পাদক। ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রথম সহসভাপতি মো. ইসহাক। অতীতে বিরোধ থাকলেও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় এমপি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠে। তবে বাকের ভুঁইয়ার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের আরেকটি বলয় তৈরি হয়েছে। জেলা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সীতাকু-ে সম্মেলেনের পরিবেশ নেই বলে একাধিক নেতা কর্মীর সাথে আলাপকালে জানা গেছে।
ফটিকছড়িতে নির্বাচিত কমিটি মুজিবুল হক এবং নাজিম উদ্দিন মুহুরির নেতৃত্ব রয়েছে। অপরদিকে আওয়ামী পরিবার নিয়ে আরেকটি গ্রুপ সক্রিয় আছে। তবে এখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে না।
দলীয় নেতাদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আজ উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহি কমিটির সভায় তৃণমূলের যেসব ইউনিট এবং ওয়ার্ডের সম্মেলন বাকি রয়েছে তা দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা আসতে পারে। মূলতঃ এটা জেলা সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই তৃণমূলকে গোছানো হচ্ছে।
জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম পূর্বকোণকে বলেন, শনিবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। আজ শুক্রবার জেলা কমিটির যে সভা ডাকা হয়েছে তাতেও সম্মেলনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনা হবে। তাছাড়া শোকের মাসের কর্মসূচির বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্মেলন করতে গেলে ছোটখাটো বিরোধ থাকে। এটা স্বাভাবিক। এটা মূলত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। এটা কোন সমস্য নয়। যেখানে সমস্যা হবে জেলার পক্ষ থেকে সেখানে হস্তক্ষেপ করে সমাধান করা হবে। তবে শোকের মাস আগস্টে কোন সম্মেলন হবে না। মূলত সেপ্টেম্বরেই সম্মেলন হবে। এরপর দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে।
জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার পূর্বকোণকে বলেন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ আছে। মূলত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালামের নেতৃত্বে উত্তর জেলা ঐক্যবদ্ধ আছে। সীতাকু-সহ যেসব উপজেলায় ছোটখাটো সমস্যা আছে তা জেলা আওয়ামী লীগ নিরসনের উদ্যোগ নিচ্ছে। উপজেলায় সাংগঠনিক সফর হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 342 People

সম্পর্কিত পোস্ট