চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৫ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

২৫ জুলাই, ২০১৯ | ২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নতুন ৪ গ্যান্ট্রি ক্রেন নিয়ে বন্দরে জাহাজ

চীন থেকে আরও চারটি নতুন ‘কি গ্যান্ট্রি ক্রেন’ বা ‘কিউজিসি’ নিয়ে আসা জাহাজ ‘এমভি ডিবু-৩’ চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ১ ও ২ নম্বর জেটির মাঝামাঝিতে ভিড়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে বিশেষায়িত জাহাজটি বহির্নোঙর থেকে জেটিতে আনা হয়।-বাংলানিউজ
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২২ জুলাই জাহাজটি বহির্নোঙরে পৌঁছে। জেটিতে আনার আগে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কর্ণফুলী চ্যানেলে। বন্দরের অভিজ্ঞ দুইজন পাইলটের তত্ত্বাবধানে বহির্নোঙর থেকে জাহাজটি আনা হয়। এ সময় ব্যবহার করা হয় শক্তিশালী ৪টি টাগবোট। বন্দরের জেটিতে সব জাহাজের আসা-যাওয়া শেষে কিউজিসি নিয়ে আসা জাহাজটি বহির্নোঙর থেকে আনা হয়। এর ফলে বার্থিংয়ে আসা বা বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজের কোনো গন্তব্যে যেতে দেরি হয়নি। জাহাজটি জেটিতে আনার সময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে জাহাজ আশপাশের ছোট ছোট নৌযান ও লাইটার জাহাজগুলো সরিয়ে দেয়। কিউজিসিগুলো নিয়ে আসা জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট সাইফ মেরিটাইম লিমিটেড।
গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো অপারেট করবে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানের চিফ অপারেটিং অফিসার ক্যাপ্টেন তানভীর হোসেন জানান, এর আগে বন্দরে যে কিউজিসি ছিল সেগুলো ১৩ অ্যাক্রসের। এ চারটি ১৫ অ্যাক্রসের। ফলে বড় জাহাজের কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। জাহাজ থেকে রোল অনের (রেললাইনের ওপর দিয়ে) জেটিতে নামানো হবে কিউজিসিগুলো। এগুলোর কমিশনিং, ইনস্টলেশন, পরীক্ষামূলক পরিচালনা শেষে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে অপারেশন শুরু করা সম্ভব হবে আশা করা যায়।
তিনি জানান, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে গিয়ারলেস (ক্রেনবিহীন) জাহাজের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের আধুনিক ইক্যুইপমেন্ট কিউজিসি ছিল ১০টি। এর মধ্যে প্রথমে সিসিটিতে যুক্ত হয়েছিল ৪টি। এরপর এনসিটিতে যুক্ত হয় দুই দফায় ৩টি করে ৬টি। নতুন ৪টি কিউজিসি এনসিটি-১ ও ২ নম্বর জেটিতে যুক্ত করা হবে ২টি করে।
শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি ও বন্দরের শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন জানান, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও শিপিং এজেন্টদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এনসিটিতে আরও কিউজিসি যুক্ত করার। সরকার, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে চলতি জুলাইয়ের মধ্যে ৩টি করে দুই দফায় ৬টি এবং সর্বশেষ আরও ৪টি কিউজিসি যুক্ত করলো। এর ফলে এনসিটির প্রডাক্টিভিটি ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে যাবে। ফলে জেটিতে ও বহির্নোঙরে জাহাজের গড় অবস্থান সময় কমে আসবে। আমদানি-রপ্তানিকারকদের অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে। দেশের অর্থনীতি গতিশীল হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন নতুন কি গ্যান্ট্রি ক্রেন, রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ আধুনিক সব হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল চারটি নতুন গ্যান্ট্রি ক্রেন বন্দরে পৌঁছেছে। যত দ্রুত সম্ভব এগুলো ফিটিং, ট্রায়াল শেষে অপারেশনে যুক্ত হবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 398 People

সম্পর্কিত পোস্ট