চট্টগ্রাম বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১

২৫ জুলাই, ২০১৯ | ২:০৪ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

বিপর্যস্ত সাড়ে ৩৬ হাজার কৃষক

জলোচ্ছ্বাস-বন্যায় ১২ কোটি টাকা ক্ষতি
আউশের ক্ষতি : ৬,৪৯৬ হেক্টর জমিতে ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা
সবজি : ১৮২০ হেক্টর জমিতে ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা
বীজতলা : ১১০৯ হেক্টর জমিতে ১৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা

জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন ৩৬ হাজার ৫৩১ জন কৃষক। ল-ভ- হয়ে গেছে আউশের মাঠ, বীজতলা ও সবজি ক্ষেত। যার আর্থিক ক্ষতি ১২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ৩৫ হাজার ৯০২ হেক্টর আউশের মধ্যে ৬ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমির রোপা আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৯৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৬ হাজার ১৯৬ দশমিক ৫ হেক্টর। এতে ১০ হাজার ২৮৬ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিক হয়েছে ৪ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। গ্রীষ্মকালীন সবজিতে চার হাজার ৯৩৬ হেক্টর জমির মধ্যে এক হাজার ৮২০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭২ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৭৪৮ হেক্টর জমির ফসল। ১২ হাজার ৫৪২ জন কৃষকের ৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আউশের ৪ হাজার ৯২০ হেক্টর বীজতলার মধ্যে এক হাজার ১০৯ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ৭৮ দশমিক ৪ হেক্টর বীজতলা। আংশিক ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৭৯ দশমিক ৬ হেক্টর জমির বীজতলা। ১৩ হাজার ৭০৩ জন কৃষকের ১৭ লাখ ৬৭২ টাকার বীজতলা নষ্ট হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে চট্টগ্রাম বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে সাতকানিয়া ও চন্দনাইশে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, যে পরিমাণ বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা আমাদের কৃষক পুষিয়ে নিতে পারবেন। এছাড়াও কোন উপজেলা বা কোন ইউনিয়নের আউশের বীজের সংকট দেখা দিলে পাশের উপজেলা থেকে সরবরাহ করে সংকট মেটানোর জন্য কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কৃষিবিদ গিয়াস উদ্দিন আরও বলেন, এখন তো আর আউশ রোপনের সময় অনেকটা পেরিয়ে গেছে। তাই আমন রোপণের উপর জোর বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সবজির ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে এক জমিতে বছরে ৭ বারের মতো সবজি চাষ করা হয়। সবজি শেষ পর্যায়ে থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে শরৎ ও শীতকালীন সবজি চাষের উপর গুরত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে চাষীদের অনুপ্রাণিত করছে।
সবজি চাষের ক্ষতি
সবজি চাষে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও পটিয়া উপজেলায়। বন্যাদুর্গত এলাকা সাতকানিয়ায় ৩৪০ হেক্টর সবজি ক্ষেতের মধ্যে ১০৫ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ৯৫ হেক্টর জমির সবজি আংশিক ক্ষতি হয়েছে। দুই হাজার ৫৫০ জন কৃষকের এক কোটি ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বাঁশখালীতে ৬৮৫ হেক্টর সবজি ক্ষেতের মধ্যে ৩৭০ দশমিক ৩ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ৩৬০ হেক্টর জমির সবজি আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এক হাজার ৫৫০ জন কৃষকের এক কোটি ৫৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পটিয়ায় ১২২ হেক্টর সবজি ক্ষেতের মধ্যে একশ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ৯৫ হেক্টর জমির সবজি আংশিক ক্ষতি হয়েছে। দুই হাজার ১০৩ জন কৃষকের ৫৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফটিকছড়িতে ৫৪৫ হেক্টর সবজি ক্ষেতের মধ্যে ৮৫ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৫ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ৭০ হেক্টর জমির সবজি আংশিক ক্ষতি হয়েছে। দুই হাজার ৩০ জন কৃষকের এক কোটি ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। চন্দনাইশে ৩৫২ হেক্টর সবজি ক্ষেতের মধ্যে ৩৫২ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ৩৪২ হেক্টর জমির সবজি আংশিক ক্ষতি হয়েছে। দুই হাজার ৪৪০ জন কৃষকের ৭৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রোপা আউশের ক্ষতি
কৃষি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, রোপা আউশের বেশি হয়েছে সীতাকু-, পটিয়া, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলায়। সীতাকু-ে সাত হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ১৫শ হেক্টর জমির আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১০ হেক্টর জমি তলিয়ে যায়। এক হাজার ৪৯০ হেক্টর জমির আউশ আংশিক ক্ষতি হয়েছে। দুই হাজার ৭৫০ জন কৃষকের ৩৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পটিয়ায় এক হাজার ৮৫০ হেক্টর জমির মধ্যে ১২শ হেক্টর জমির আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৫০ হেক্টর জমি তলিয়ে যায়। এক হাজার ১৫০ হেক্টর জমির আউশ আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এক হাজার ৮০ জন কৃষকের ৭৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। আনোয়ারায় এক হাজার ৪২০ হেক্টর জমির মধ্যে ২শ হেক্টর জমির আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৫০ হেক্টর জমি তলিয়ে যায়। এক হাজার ১৫০ হেক্টর জমির আউশ আংশিক ক্ষতি হয়েছে। চার হাজার ২৫০ জন কৃষকের এক কোটি ১৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। চন্দনাইশে দুই হাজার ১৩০ হেক্টর জমির মধ্যে দুই হাজার ১৩০ হেক্টর জমির আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৫০ হেক্টর জমি তলিয়ে যায়। দুই হাজার ৮০ হেক্টর জমির আউশ আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ৩৫০ জন কৃষকের ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। সাতকানিয়ায় এক হাজার ১৬০ হেক্টর জমির মধ্যে ৫০ হেক্টর জমির আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০ হেক্টর জমি তলিয়ে যায়। ৩০ হেক্টর জমির আউশ আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ৫৫০ জন কৃষকের ২৩ লাখ ২৯ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বাঁশখালীতে চার হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ৭৩০ হেক্টর জমির আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৩০ হেক্টর জমি তলিয়ে যায়। ৭শ হেক্টর জমির আউশ আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ৫৮০ জন কৃষকের ৯১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 272 People

সম্পর্কিত পোস্ট