চট্টগ্রাম বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ | ২:১০ অপরাহ্ণ

আবাসন খাতের ভিন্ন ধারার পরিচায়ক প্রতিষ্ঠান সিপিডিএল

এহছানুল হক

ফ্ল্যাট শুধু একটি ঘর নয়, বসবাসের সব উপকরণের সংযুক্তি মানেই ফ্ল্যাট। আবাসন খাতের এই ধারার সঙ্গে চট্টগ্রামবাসীকে পরিচয় করিয়ে দেয়া দেশের প্রথম সারির আবাসন সেবাপ্রতিষ্ঠান সিপিডিএল। সম্প্রতি এই খাত নিয়ে দৈনিক পূর্বকোণের সঙ্গে কথা বলেছেন সিপিডিএল’র প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন।

কোন বৈশিষ্ট্যে সিপিডিএলকে আলাদা ভাবা হয় এমন প্রশ্নে প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন বলেন, আমরাই প্রথম গুণগতমানের সঙ্গে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করি। স্লোগান ঠিক করি- ‘উইথ কোয়ালিটি ইন টাইম’। আমাদের স্লোগান দেখে সেই সময় অনেকে বলেছিলো- ‘এটা সম্ভব নয়। লোকজন টাকা দেবে না। সাপোর্ট পাওয়া যাবে না।’ কিন্তু আমরা করে দেখিয়েছি। সিপিডিএল অন্যদের চেয়ে ইউনিক- সেটা গ্রাহকরা বুঝেছেন। করোনা মহামারীর মধ্যেও আমরা কাজ বন্ধ করিনি। এই করোনায় গতবছর দুটি, এই বছর তিনটি প্রকল্প আমরা হস্তান্তর করছি।

সিপিডিএল তার কর্ম উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের রিয়েল এস্টেটে প্রতিনিয়ত যুগোপযোগী পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে প্রথম পূর্ণাঙ্গ কনডোমিনিয়াম নির্মাণ করেছে সিপিডিএল, তার বিলাসবহুল কনডোমিনিয়াম ক্রিমসন ক্লোভার নগরের বিত্তবানদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু সিপিডিএল ক্রিমসন করে থেমে থাকেনি। পাথরঘাটা ও ফিরিঙ্গিবাজার নির্মাণ করেছে কনসেপ্ট প্রপার্টি ডাউনটাউন সিপিডিএল। মধ্যবিত্তদের জন্য এক অনন্য সিকিউরড কমিউনিটি লিভিং। ক্রিমসনের নাগরিক সুবিধার আদলে বাচ্চাদের খেলার জায়গা, জিমনেশিয়াম, কমিউনিটি হল, ওয়াক ওয়ে,  ইনডোর গেমস, বাস্কেটবল প্যাড, অবসর কেন্দ্র, গ্রীন ল্যান্ডস্কেপিং ইত্যাদির সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে। এই প্রকল্পটিতে, যদিও একটি অত্যাধুনিক কনডোমিনিয়াম এর সকল উপাদান এতে উপস্থিত, কিন্তু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে। বিলাসবহুল লাইফ-স্টাইল প্রপার্টি নির্মাণের পরবর্তী সংস্করণ হিসেবে পাচলাইশে নির্মাণ করেছে লিভিং পোয়েট্রি ‘পার্ক রেসিডেন্স, দেব পাহাড়ে নির্মাণ করেছে গ্রিন গেইটেট কমিউনিটি’ ‘সুলতানা গার্ডেনিয়া’, ব্যতিক্রমধর্মী সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে ফয়েজ লেকে নির্মাণ করছে ‘দ্যা গ্যালেরিয়া-ইউর সেকেন্ড হোম’। আগামী দিনের সবচেয়ে হ্যাপেনিং প্রকল্প বানানোর জন্য গ্যালেরিয়া নিয়ে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে, যা নিশ্চিত ভাবেই সংশ্লিষ্টদের জন্য অভূতপূর্ব সব সেবা নিয়ে আসবে।

 

সিপিডিএলের ‘সেকেন্ড হোম’ কনসেপ্ট

চট্টগ্রামের শীর্ষ আবাসন কোম্পানি সিপিডিএল দ্যা গ্যালেরিয়া নামে সেকেন্ড হোম কনসেপ্ট প্রবর্তন করেছে। বন্দরনগরীর ফয়স লেকে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের আদলে চালু করেছে এই সেকেন্ড হোম। এতে বিনিয়োগকারীরা একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট কিনে পাঁচ তারকা হোটেলের সুবিধা নিয়ে থাকতে পারবে।

ব্যবসায়িক কাজে চট্টগ্রামে এলে এখানে থাকার সুবিধা পাবে। একইসাথে কেউ বিজনেস উদ্দেশ্যে কিনলে মাসিক ভাড়াও পাবে। মূলত মিরসরাই ইকোনমিক জোন, বে টার্মিনাল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নানাবিধ উন্নয়ন প্রকল্প আগামীতে চালু হতে যাচ্ছে। এসব প্রকল্পে অনেক বিদেশি এবং কর্পোরেট বিজনেসের প্রতিনিধিরা চট্টগ্রামে আসবে। মূলত তাদেরকে হোমলি পরিবেশে আবাসন সুবিধা দিতে সিপিডিএল নতুন ধারার এই সেকেন্ড হোম স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট চালু করেছে।

সেকেন্ড হোম কি?

এটি মূলত স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টকেন্দ্রিক একটি ডায়নামিক হোম সলিউশন যা ওকেশনাল হোম বা ওয়ার্কিং হোম হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি জনপ্রিয় এবং সুপরিচিত হলেও চট্টগ্রামের জন্য এটি সম্পূর্ণ নতুন। অভিজাত এলাকা খুলশীর জাকির হোসেন রোডে ইউএসটিসির বিপরীত পাশে ফয়’স লেক এলাকায় প্রায় ২১ কাঠা আয়তনের ভূমিতে পরিকল্পিত হয়েছে প্রকল্পটি। ১৮ তলাবিশিষ্ট অভিনব ধারার এই প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। প্রস্তুতি চলছে ফিনিশিং ও ফার্নিশিং পর্যায়ের কাজের।

দ্যা গ্যালেরিয়া’র সমগ্র সেকেন্ড হোম কনসেপ্টটি মূলতঃ দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত। একটি হচ্ছে স্টুডিও এন্ড স্যুইটস এবং এন্টারটেইনমেন্ট হাব। ১০০টি স্টুডিও অ্যান্ড স্যুইটস অবস্থান করছে পঞ্চম থেকে পঞ্চদশ লেভেলজুড়ে। ফুল ফার্নিশড এই স্টুডিওসমূহ ৩৭৫ হতে ১৩৭৫ বর্গফুট আকারে পাওয়া যাবে।

স্টুডিও’র ক্রেতা-গ্রাহকদের রুচি, চাহিদা এবং বাজেটের প্রেক্ষিতসমূহ বিবেচনায় নিয়ে স্টুডিও এন্ড স্যুইটসসমূহ অসাধারণ সব ফিচার এমেনিটিজ নিয়ে পরিকল্পিত হয়েছে। এর আওতায় প্রকল্পটির প্রথম লেভেলে থাকছে রিসেপশন, ওয়েটিং লাউঞ্জ, বিজনেস সেন্টার, কফি কর্নার ইত্যাদি, যা অভ্যাগতদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

গ্রাহকদের বিনোদন ও অবসর আনন্দময় করতে চতুর্থ লেভেলে থাকছে একটি ক্লাব হাউজ যার সাথে থাকবে একটি কিডস প্লে জোন। অধিবাসীদের ওয়েলনেস নিশ্চিত করতে লেভেল ষোল’তে থাকবে ফুল ইকুইপড জিমনেশিয়াম যা লেভেল সতেরোতে অবস্থিত ইনফিনিটি সুইমিং পুল ও জাকুজি’র সাথে সংযুক্ত। এত উচ্চতায় জিম ও সুইমিংপুলের সম্মিলন চট্টগ্রামে এই প্রথম।

 

স্যাটেলাইট সিটির সাথেও সিপিডিএল

সিপিডিএল কর্ণফুলীর ওপারে আনোয়ারাতে নির্মান করছে স্যাটেলাইট সিটি। চট্টগ্রামের ডেভেলপারগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্যাটেলাইট সিটির কথা বলে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে লজিস্টিক সাপোর্ট ও পলিসিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে স্যাটেলাইট সিটি গড়ে উঠছে না। কিন্তু তাই বলে কি উন্নয়ন থমকে যাবে? সিপিডিএল আনোয়ারায় গড়ে তুলছে শহরের প্রথম স্যাটেলাইট সিটি ‘অনিন্দ্য নগর’।

মধ্যবিত্তদের একটি বড় অংশ ফ্ল্যাট কিনতে পারেন এমন প্রশ্নে তরুণ উদ্যোক্তা ইফতেখার হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে জমির অনেক দাম। বেশি দামে জমি নেওয়ার কারণে আমরা তাদের ফ্ল্যাট দিতে পারি না। সব জায়গায় খরচ একটু বেশি। এজন্য আমরা শহর এর কেন্দ্র থেকে একটু দূরে যাচ্ছি। যেখানে জমির দাম একটু কম। আমরা ওখানে ৩০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট দিচ্ছি। আনোয়ারাতো খুব দূরে না। ঢাকার একমাথা থেকে উত্তরাও আরো অনেক দূরে। আমরা শহরের একটু দূরে জায়গাগুলোকে আস্তে আস্তে ডেভেলাপ করছি। ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকার মধ্যে আমরা ফ্ল্যাট নিয়ে আসতেছি। আমাদের ৯শ থেকে এক হাজার স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটও আছে। তবে সরকার যদি দীর্ঘমেয়াদি লোন দিত বা ৩০ বছরের জন্য লোন দিত তাহলে মধ্যবিত্তরা ভাড়ার টাকায় বাড়ি কিনত।

সবশেষে আবাসন শুধু আবাসন নয় তা সিপিডিএল দেখিয়ে দিচ্ছে। শুধু ফ্ল্যাট তৈরি নয়, মানুষের জীবন মান উন্নয়ন এবং একটি নগরীকে আপগ্রেডেশন করতে অক্লান্তভাবে কাজ করছে। একইসঙ্গে নতুন শহর গড়ে তুলতেও এগিয়ে আসছে সিপিডিএল।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট