চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ | ১:৫৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আবাসনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায়ও ভূমিকা রাখছে এপিক প্রপার্টিজ

দীর্ঘ ১৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে আবাসন শিল্প খাতে অনবদ্য ভূমিকা রেখে চলেছে এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেড। চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে এপিকের শিল্প বিস্তৃতি ঘটেছে রাজধানী ঢাকাতেও। বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো এবং আবাসিক স্থাপনায় নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তুলতে আকাশ ছোঁয়া সাফল্য এপিক প্রপার্টিজের। এপিকে বর্তমান বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহে নতুন নতুন আধুনিক সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আবাসন প্রকল্পের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য ভূমিকা রাখছে এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেড। দৈনিক পূর্বকোণের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানান এপিক প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এস এম লোকমান কবির।

আলাপকালে তিনি বলেন, এপিক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে সুনাম অর্জন করতে থাকে। এপিকের কর্ণধার হিসেবে শুরু থেকেই আমরা তিনজন ছিলাম। আমরা তিনজনই প্রকৌশলী। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে আছি। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন প্রকৌশলী এস এম আবু সুফিয়ান এবং পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন। এপিক প্রপার্টিজ সব সময় সবশ্রেণির মানুষের কাছে একটি বিশ্বাস এবং আস্থার নাম। গ্রাহকদের বিশ্বাস এবং আস্থার নির্ভরতায় চট্টগ্রামে বাস্তবায়ন করেছে কয়েকশ আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্প। আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি রেডিমিক্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্য, নির্মাণ কনসাল্টিং-এ নিজেদের দক্ষতা এবং শৈল্পিকতার প্রকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে এপিক।

চট্টগ্রাম শহরে প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসার মধ্যে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। গত সাত থেকে আট বছর ধরে ঢাকায়ও আমাদের কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রামে আমাদের প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি প্রকল্প চালু রয়েছে। সাধারণ মানুষ ছাড়াও চট্টগ্রামের অনেক নামকরা প্রকৌশলীর প্রকল্প আমরা তৈরি করছি।

সব মানুষই নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা চান। বর্তমানে দ্রব্যমূল্য নির্মাণ সামগ্রীর যে দাম, সে হিসেবে বড় ফ্ল্যাটের চাহিদাও কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে, প্রবাসী ও দেশের ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা নিজে জায়গা কিনে ভবন তৈরি করে জটিলতায় যেতে চায় না। তাই তারা ফ্ল্যাটের উপর নির্ভর থাকে। তাদের হিসেব করলে সেক্ষেত্রে কিছু বড় ফ্ল্যাটের চাহিদা রয়েছে। লোকেশন এবং চাহিদার উপর নির্ভর করে আমরা ছোটবড় সব ফ্ল্যাট নির্মাণ করি।

জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়, কোন প্রকল্পের কাজের শুরুতে এমনকি প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসেও অনেক সময় জায়গার মালিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। জায়গার প্রকৃত মালিকের আত্মীয়-স্বজন জায়গার মালিকানা দাবি করে বসে থাকেন।

আমাদের প্রতিটি প্রকল্পের ডিজাইনে সিডিএ’র বিধিমালা অনুযায়ী সবুজায়নের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি ধারণ করার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। শহরে যেহেতু মানুষের হাঁটার জায়গা, বাচ্চাদের খেলার জায়গার অভাব রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে আমরা বাচ্চাদের খেলার জায়গা এবং হাঁটার জায়গা রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।

একদিকে নির্মাণ সামগ্রীর দাম লাগামহীন। অন্যদিকে, নির্মাণ শ্রমিকদেরও সংকট রয়েছে। নির্মাণ শ্রমিকরা বিভিন্ন কাজ করেন। ধানের মৌসুম এলে তারা ধান কাটতে চলে যান। দুই ঈদে গ্রামে গেলে অন্য কাজে যুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন গ্রামে থেকে যাওয়ার প্রবণতা তাদের মাঝে রয়েছে। তাই এই সেক্টরে খুব একটা দক্ষ শ্রমিক তৈরি হচ্ছে না।

আবাসন ব্যবসায় সমস্যা হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে- যাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই বা এ কাজ পারবে না, তারাও আবাসন ব্যবসায়ে যুক্ত হয়েছে। আবার অনেকেই পুঁজি ছাড়া আবাসন ব্যবসায়ে যুক্ত হয়ে বছরের পর বছর প্রকল্প ঝুলিয়ে রেখেছে। যার ফলে আবাসন সেক্টরের প্রতি মানুষের এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।

আবার কিছু ভূমি মালিক আছে, কিছু বেশি টাকা পেয়ে যাকে তাকে ভবন নির্মাণের জন্য দিয়ে দিচ্ছে। তারা যাচাই করছে না, আসলেই ওই কোম্পানি ভবন নির্মাণ করতে পারবে কিনা বা যথা সময়ে কাজ শেষ করতে পারবে কিনা। আবার এই সুযোগে অনেকেই কাজ নেয়ার জন্য আবাসন ব্যবসায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসব কারণে অনেক প্রকল্প সম্পন্ন হয়নি, কারো প্রকল্প অর্ধেক শেষে ঝুলে আছে। আবার কারো কারো প্রকল্প বছরের পর বছর শেষেও গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করতে পারছে না। এসব কারণে ভালো আবাসন ব্যবসায়ীদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

আবাসন প্রকল্পের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য ভূমিকা রাখছে এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেড। ল্যাব, রেডিওলোজি ইমেজিং থেকে শুরু করে সকল প্রকার ডায়াগনস্টিক সেবা একই ছাদের নিচে দিচ্ছে এপিক। প্যাথলজির অনেক টেস্ট ঢাকা ও দেশের বাইরে পাঠাতে হয়। এরফলে চিকিৎসা পেতে একদিকে রোগীদের সময়ক্ষেপণ হচ্ছেন, অন্যদিকে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ প্রেক্ষিতে এপিক ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিজস্ব ল্যাব এ শুরু করে। ফলে রোগী রোগী দ্রুত সময়ে ডায়াগনোসিস এবং চিকিৎসা গ্রহণে সুবিধা পাবেন।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন