চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ | ১:৪১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নান্দনিক ও পরিকল্পিত নগরী গড়তে কাজ করছে রিহ্যাব

চট্টগ্রামবাসীর আবাসনের পাশাপাশি চট্টগ্রামে আসা পর্যটকদের আবাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। চট্টগ্রাম এলাকার আবাসন ব্যবসায়ীদের সর্বোপরি চট্টগ্রাম অঞ্চলের আবাসন খাতকে পরিপূর্ণরূপে সহায়তা দিতে ২০০৬ সালের অক্টোবরে কার্যক্রম শুরু হয় চট্টগ্রাম রিহ্যাব জোনাল অফিসের। এরপর থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামবাসীর জন্য নান্দনিক ও পরিকল্পিত নগরায়ণ রূপান্তরের পাশাপাশি নিরাপদ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে রিহ্যাব।

আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাপকাঠিতে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পায়রা বন্দর, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল লাইনসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প।  বাংলাদেশ আজ অবকাঠামোগত দিক দিয়েও সমৃদ্ধির পথে। আর অবকাঠামোগত সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের সাথে বড় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে আবাসন শিল্পের একমাত্র প্রতিষ্ঠান রিহ্যাব। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলাই হচ্ছে রিহ্যাবের অন্যতম লক্ষ্য। প্রকৃতি কন্যা চট্টগ্রামকে সবুজ নিরাপদ পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সবসময়ই দৃঢ় প্রত্যয়ী।

আমাদের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হচ্ছে আবাসন। আর এই আবাসনের চাহিদা পূরণ করার নৈতিক দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সীমিত সম্পদের এই দেশে সরকারের একার পক্ষে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে দেশের আবাসন সমস্যা সমাধানে রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর ৯০৮টি সদস্য ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রিহ্যাব এর বিপুল কার্যক্রমে গত কয়েক দশক সহজে আবাসনের মালিকানা সৃষ্টি মানুষের মনে আত্মনির্ভরতার সৃষ্টি করেছে। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান, রড, সিমেন্ট, টাইলসসহ বিভিন্ন প্রকার লিংকেজ শিল্প প্রসারের মাধ্যমে সমগ্র নির্মাণখাত জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সমগ্র নির্মাণ খাতের অবদান প্রায় ১৫%। বাংলাদেশের আবাসন সংশ্লিষ্ট শিল্প শুধু আবাসনই সরবরাহ করছে না, একই সাথে ৪০ লক্ষ শ্রমিকের উপর নির্ভরশীল ২ কোটি লোকের অন্নের জোগান দিয়েছে। আবাসন খাত নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের সৃষ্টি করছে, যা দেশের উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে। রিহ্যাব সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই আজ শহরগুলোতে স্কাই লাইনের পরিবর্তন হয়েছে।

নীতিনির্ধারণী কিছু সমস্যা সমাধান করে যখন আবাসন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল তখন আবার আঘাত হানে করোনা সংকট। অন্যান্য খাতের মত করোনা এই খাতে সংকট তৈরি করে। তবে আমাদের দাবির মুখে আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগে এই খাত সংকটের হাত থেকে রক্ষা পায়।  কিন্তু নতুন করে প্রস্তাবিত খসড়া ড্যাপ আবার আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রস্তাবিত ড্যাপ (২০১৬-৩৫) এবং সংশ্লিষ্ট খসড়া ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০২১ পর্যালোচনাকালে আমাদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে- প্রস্তাবিত বিধিমালাটি অনুমোদন হলে স্পষ্টতভাবে পরিলক্ষিত হয়, কেন্দ্রীয় ঢাকা শহর, বহিঃস্থনগর ও অন্যান্য নগর সমূহে চলমান বিধিমালা ২০০৮ মোতাবেক নির্মাণযোগ্য ভবনের আয়তন বর্তমানে যা অনুমোদন হচ্ছে তা থেকে ন্যূনতম ৩৩-৫৩% আয়তন হ্রাস পাবে। যা একটি অস্থিতিশীল ও অকার্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

উদাহরণ স্বরূপ দেখা যায় পূর্বে ঢাকা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ মোতাবেক ২০ ফিট রাস্তা সংলগ্ন ৫ কাঠা জমিতে সর্বনিম্ন গ্রাউন্ডফ্লোরসহ ৮ তলা ফ্লোর বিশিষ্ট ভবনে মোট ১৩ হাজার ৫০০ বর্গফুট নির্মাণের অনুমতি পাওয়া যেত। প্রস্তাবিত বিধিমালা মোতাবেক ৫ তলা ফ্লোর বিশিষ্ট মোট ৯ হাজার বর্গফুট ভবন নির্মাণ এর অনুমতি পাওয়া যাবে। ২০ ফুট এর চেয়ে ছোট রাস্তার ক্ষেত্রে নির্মিতব্য ভবনের উচ্চতা ৩/৪ তলার বেশি হবে না এবং আয়তন উদ্বেগজনক ভাবে হ্রাস পায়। এরূপ চিত্র প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই।

প্রস্তাবিত ড্যাপ ঢাকায় বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব পড়বে চট্টগ্রামেও। কারণ ড্যাপের অনেক নিয়মকানুন পরবর্তীতে চউক, কউকসহ অন্যারা ফলো করবে। আমাদের দাবি, অবিলম্বে কর্তৃপক্ষসহ নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী ও স্টেক হোল্ডারদের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০১৬-২০৩৫ ও  ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০২১ চূড়ান্ত অনুমোদনের পূর্বে বিভিন্ন বিধি-বিধান, মান-সূচক, তত্ত্বীয় ও কারিগরি দিকসমূহ যথাযথ চর্চা ও বাস্তবসম্মত মতামতের ভিত্তিতে সুপারিশের সমন্বয়ে চূড়ান্তকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

নীতিনির্ধারণী কিছু সমস্যার কারণে আবাসন খাত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সংকটময় অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে এই খাত বেরিয়ে আসছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ভতুর্র্কি দিয়ে ৫ শতাংশ সুদের গৃহঋণ চালু করার পর এই খাত স্থবিরতা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় রয়েছে। কিছু দিন আগে এই খাতের নিবন্ধন ব্যয় ২ শতাংশ কমানো হয়েছে। রিহ্যাব এর পক্ষ থেকে আরো ৪ শতাংশ নিবন্ধন ব্যয় কমানোর জন্য জোর তৎপরতা চলছে। এছাড়া গত মাসে ফ্ল্যাট কেনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ দেয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যেটা আগে এক কোটি বিশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছিল। এটা অবশ্যই আবাসন খাতের জন্য ইতিবাচক। এই ব্যবস্থায় ক্রেতারা লাভবান হবেন। তবে এখনও সকল নাগরিকের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা না থাকা এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ হার এই খাতের বড় প্রতিবন্ধকতা। জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে প্রায় ১৫% ভূমিকা রাখা আবাসন শিল্পে নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে ৬-৭ শতাংশে নিয়ে আসলে এ খাত অর্থনীতিতে আরো অবদান রাখতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আবাসন খাত এগিয়ে গেলে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা “বাসস্থান” পূরণের পাশাপাশি শিল্প-কারখানা বিকশিত হবে ফলশ্রুতিতে সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতি।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন