চট্টগ্রাম সোমবার, ০১ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

২৫ জুলাই, ২০১৯ | ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, সন্দ্বীপ

৬৫ দিনের অপেক্ষার অবসান

সন্দ্বীপের জেলেরাও রূপালী ইলিশ শিকারে ব্যস্ত

৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল ২৪ জুলাই থেকে সাগরে মাছ শিকারে নদীতে নেমেছে উপকূলের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সন্দ্বীপের জেলেরাও। বন্ধের মধ্যে মাছ ধরার পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মৎসজীবীরা। ইলিশের মৌসুমে দীর্ঘসময় মাছ ধরা বন্ধের পর আবারো নতুন করে সাগরে জাল ফেলার প্রস্তুতি জেলে পাড়াগুলোতে উৎসবে পরিণত হয়েছে। নৌকা মেরামত, জাল বুনন ও মেরামতের কাজ নিয়ে হৈচৈ চলছে জেলেপাড়ায়। সাধ্য অনুযায়ী কেউ দুই-তিন মাস আগ থেকে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কেউ আবার দাদন নিয়ে কাজ শুরু করেছে মাত্র।
ভৌগোলিক অবস্থানে সন্দ্বীপের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের এবং পশ্চিমে মেঘনার মোহনা পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেল এবং উত্তরে বামনী নদী অবস্থিত। চারপাশে নদী আর সাগরের মোহনা থাকায় সবদিকেই চলে ইলিশ শিকার। এর মধ্যে দক্ষিণ ও পশ্চিম দক্ষিণে ধরা পড়ে বড় ইলিশগুলো। সন্দ্বীপ চ্যানেলে কমবেশি ইলিশ ধরা পড়লেও স্বাদ ও গন্ধে সাগর ও মেঘনার মাছ তুলনাহীন।
লাভজনক পেশা হওয়ায় সন্দ্বীপে নিয়মিত জেলেদের পাশাপাশি মৌসুমে ইলিশ শিকারের জন্য অনেক ব্যবসায়ী রয়েছে। স্থানীয় ভাষায় এদের কোম্পানি বলা হয়। কোম্পানিগুলো বড় ফিশিং ট্রলার দিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করে। বড় ইলিশ মাছ ধরার বিশেষ ধরনের লাল জাল, খাবার, জ্বালানি তেল ও বরফ নিয়ে বড় বোটগুলো সাগরে নামে। চাহিদা অনুযায়ী মাছ শিকার করার অপেক্ষায় প্রতিবারে ১০ থেকে ২০ দিন সাগরে অবস্থান করে। বোটের কোল্ড স্টোরের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী ১০ থেকে ৩০ হাজার মাছ শিকারের টার্গেট থাকে তাদের। মাছগুলো বিক্রি হয় চট্টগ্রামের ফিশারী ঘাটের মাছের আড়তে। মাইটভাঙ্গার সুজন কোম্পানি জানায়, প্রতিটি বড় বোটে জালসহ এক থেকে দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সাগরে নামতে হয়। আশা অনুযায়ী মাছ পড়লে দুই এক মৌসুমে চালান উঠে যায়। আর সাগরে না চাইলে প্রথম দিনেই ফকির হতে হয়।
মাঝারি সাইজের নৌকা নিয়ে জেলে ও ছোট কোম্পানিগুলো মাছ শিকারে নামে। নতুন অবস্থায় বোট ও জালসহ ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে নদীতে নামে তারা। এরা সাধারণত মেঘনার মোহনা ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জাল ফেলে। দিনের দুইবার জোয়ারে জাল ফেলে আবার কূলে ফিরে। ছোট জেলে নৌকাগুলো সন্দ্বীপ চ্যানেল, মেঘনার মোহনা ও বামনী নদীতে মাছ ধরে। প্রতি জোয়ারে মাছ ধরে তা ঘাটে নিয়ে আসে। ছোট জাল দিয়ে মাছ শিকার করে তারা। মাঝারি ও ছোট সাইজের মাছ ধরা পড়ে তাদের জালে। তাদের শিকার করা মাছ নিয়ে গড়ে উঠে মাছের রাজনীতি। মৌসুমের শুরুতে জেলেদের কেউ অভাবে আর কেউ বাধ্য হয়ে প্রভাবশালী ঘাট ইজারাদারদের থেকে দাদন নিতে হয়। দাদনের কারণে বাধ্য হয়ে প্রভাবশালী দাদনদারের কাছে তুলনামূলক কম দামে ইজারাদারের ঘাটে মাছ বিক্রি করতে হয়। সেখান থেকে কিছু মাছ সন্দ্বীপের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয়। বাকি মাছগুলো চলে আসে কুমিরা ঘাটের ও পাহাড়তলী বাজারের কয়েকজন আড়তদারের কাছে। কেউ আবার মাছ কেটে লবণ দিয়ে ঢাকা ও কুমিল্লায় পাইকারি ব্যবসায়ীদের গদিতে বিক্রি করে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 260 People

সম্পর্কিত পোস্ট