চট্টগ্রাম সোমবার, ০৮ মার্চ, ২০২১

২৫ জুলাই, ২০১৯ | ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

শান্তনু বিশ^াস আপন আলোয় উদ্ভাসিত একজন নাট্যব্যক্তিত্ব

আপন প্রতিভার আলোয় আলোকিত। সংস্কৃতির প্রতিটি অঙ্গনে ছিল তাঁর অবাধ পদচারণা। তিনি একাধারে নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও নাট্য অভিনেতা। এমন প্রতিভার অধিকারি খুব কম মানুষই হয়। প্রয়াত শান্তনু বিশ্বাসের স্মরণ সভায় অতিথিরা এ কথা বলেন।
গতকাল সন্ধ্যা সাতটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শান্তনু বিশ্বাসের প্রয়াণ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান ও চট্টগ্রাম গ্রুপ থিয়েটার ফোরামের যৌথ উদ্যোগে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণ সভার আয়োজন করে। চট্টগ্রাম গ্রুপ থিয়েটার ফোরামের সভাপতি খালেদ হেলালের সভাপতিত্বে ও শিল্পকলা একাডেমির সাধারন সম্পাদক সাইফুল আলম বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য রাখেন কবি ও সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক এজাজ ইউসুফী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজিদ, নাট্যজন মুনির হেলাল, ম. সাইফুল আলম চৌধুরী, সনজীব চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক ড. কুন্তল বড়–য়া, শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী সদস্য জেসমিন সুলতানা পারু, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মো. মোসলেম উদ্দিন, উদীচির ডা. চন্দন দাশ, আবৃত্তিশিল্পী অঞ্চল চৌধুরী, নাট্যকর্মী মঈন উদ্দিন কোহেল, হাসান জাহাঙ্গীর, তাপস শেখর, মনসুর মাসুদ, শামসুল কবির লিটন, দেওয়ান মাকসুদ এবং শান্তনু বিশ্বাসের পত্মী নাট্যকর্মী শুভ্রা বিশ্বাস ও তাঁর দুই কন্যা। সভা শুরু হয় শান্তনু বিশ্বাসের কথা ও সুরে ‘দেখে দেখে চোখ ভরে যায়’ সঙ্গীতটি পরিবেশন করেন শিল্পী মো. মোস্তফা কামাল ও শিল্পী অপু বর্মন। পরে আলোচনা সভায় কবি ও সাংবাদিক এজাজ ইউসুফী বলেন, শান্তনু বিশ্বাস একজন প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল মানুষ ছিলেন। সংস্কৃতির প্রতিটি পরতে যার ছিল অসাধারণ পদচারণা। অসাধারণ এক সৃষ্টিক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ। বেঁচে থাকতে যেমন মানুষের মন জয় করেছে তেমনি মরে গিয়েও অমর হয়ে আছেন মানুষের কাছে। নিজের দেহদান করে সে সৃষ্টি করে গেল আরেক ইতিহাস। এসময় তিনি শান্তুনুকে নিয়ে লেখা তাঁর একটি কবিতা পাঠ করে শুনান। সভায় অতিথিরা আবেগ প্রবণ হয়ে বলেন, বিশ্বাস আর ভালোবাসার আরেক নাম শান্তনু বিশ্বাস। যে নিজ আলোয় আলোকিত একজন মানুষ। করে তাঁর স্মৃতি অক্ষণ রাখবে বলে আমরা আশা করি। এতো অল্প সময়ের মধ্যে যে তিনি আমাদের ছেড়ে যাবে তা আমরা কেউই ভাবতে পারিনি। তাই তাঁর অসম্পূর্ণ কাজ আমাদের শেষ করতে হবে। এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন নাট্য সংগঠন গণায়ন নাট্য সম্প্রদায়, অঙ্গন থিয়েটার ইউনিট, তির্যক নাট্য গোষ্ঠী, অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায়, সমীকরণ থিয়েটার, নান্দীমুখ, প্রতিনিধি নাট্য সম্প্রদায়, কথক থিয়েটার, উত্তরাধিকার, থিয়েটার ওয়ার্কশপ চট্টগ্রাম, নাট্যাধার, এঁভাগার্ড, লোক থিয়েটার ও কালপুরুষ নাট্য সম্প্রদায়ের সদস্যরা। সর্বশেষ কালপুরুষ নাট্য সম্প্রদায় তাঁর রচিত নাটকের শ্রুতি পাঠ করেন। উপস্থিত সকলে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে স্মরণ সভার শেষ হয়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 217 People

সম্পর্কিত পোস্ট