চট্টগ্রাম শনিবার, ০৬ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

২৪ জুলাই, ২০১৯ | ২:০৩ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও রাউজান

বন্যায় ক্ষতি ৭ লাখ লোকের

জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় চট্টগ্রামের সাত লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ঘরবাড়ি, মারা গেছে ১০ হাজার হাঁস-মুরগি। বন্যার পানি ঢুকেছে ১৫ হাজার নলকূপে। এছাড়াও রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, বেড়িবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও রাউজান উপজেলায়। কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায়। বন্যা-দুর্গত এলাকার জন্য সরকার ৯শ মে. টন চাল, নগদ ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বরাদ্দে অনুকূলে ৬৯৬ মে. টন চাল ও ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ৬ হাজার ৪৪০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। মজুদ রয়েছে আরও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার। চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ পূর্বকোণকে বলেন, প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তালিকা আসতে পারে। তিনি আরও বলেন, দুর্গত এলাকার সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পর সরকারিভাবে ঘর মেরামতের জন্য নগদ টাকা, ঢেউটিন ও অন্যান্য সামগ্রী প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যেই ফটিকছড়িতে একশ বান্ডিল ঢেউটিন পাঠানো হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৪ উপজেলার ৭৯৪টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১৪ লাখ এক হাজার ৭৩০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩৪ হাজার ৫৫৪ টি ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। এরমধ্যে প্রায় ১৫শ ঘর সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলায়। প্রায় দুই লাখ মানুষের ক্ষতি হয়েছে। ১৯শ ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। এরমধ্যে আড়াই শ ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। মারা গেছে ৬ হাজার হাঁস-মুরগি। ১৩ হাজার ৮৬১ নলকূপ, ৮৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুইশ কিলোমিটার সড়ক ও ১৯টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চন্দনাইশ উপজেলায় এক লাখ ৬০ লোকের ১৫
। ১১ পৃষ্ঠার ৫ম ক.

হাজার ৮শ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৭৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চার শ নলকূপ, ৩৮ কিলোমিটার রাস্তা, ১০টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতি হয়েছে। রাউজানে এক লাখ ২০ হাজার মানুষের ১৮০ বাড়িঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারা গেছে চার হাজার ১৫০ হাঁস-মুরগি। ৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৮৭ কি. মি রাস্তা, ২৫ সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফটিকছড়িতে ৭৬ হাজার ৩৬৫ জন লোকের ১৩ হাজার ৫৫৩ ঘরবাড়ি ভেঙেছে। হাটহাজারীতে ৬৫ হাজার লোকের ৩৫০ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায়। বোয়ালখালীতে ১২৩০ লোকের ৩৪০ ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২২২ কি. মি সড়ক ছাড়া বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আনোয়ারায় এক হাজার মানুষের দুই শ ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষতি, তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, একশ নলকূপ ছাড়া বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কর্ণফুলী উপজেলার ৮ শ লোকের ১৬০ ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 302 People

সম্পর্কিত পোস্ট