চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

২৩ জুলাই, ২০১৯ | ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

চারবছর পূর্তির প্রাক্কালে মেয়র আ জ ম নাছির

দাবি করবো না শতভাগ সফল তবে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, আমি দাবি করবো না চার বছরে শতভাগ সফল হয়েছি। কিন্তু একথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি সেবা এবং উন্নয়নের সূচক অতীতের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রগতি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামগ্রিক ক্ষেত্রে একটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। তাই বলছি, যৌক্তিক সময়ের পর এই নগর শতভাগ শৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন এবং আধুনিক নগরে রূপ নিবে। আগামীতে সিটি কর্পোরেশন নিয়ে তার প্রত্যাশা আকাশচুম্বী উল্লেখ করে বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই রাজনীতি করে আসছি। নির্বাচনও আমার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।
চসিক মেয়রের দায়িত্বগ্রহণের চারবছর পূর্তি উপলক্ষে গত রবিবার বিকালে নগর ভবনে দৈনিক পূর্বকোণের সাথে বিশেষ সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬১ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। এরপর শপথ নেন ৬ মে। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওই বছরের ২৬ জুলাই। নির্বাচনে মেয়র জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ক্লিন ও গ্রিন সিটি নির্মাণসহ ৩৬ দফা প্রতিশ্রুতি সম্বলিত ইশতেহার প্রকাশ করেছিলেন।
চার বছরে সফলতা-ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিয়মের মধ্যে থেকে আমি প্রতিটি কাজই করতে সচেষ্ট ছিলাম এবং এখনো আছি। নগরীর আলোচিত ইস্যু জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন, ‘২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। এর অংশ হিসাবে চায়না পাওয়ার লিমিটেডের একটি বিশেষজ্ঞ টিম পুরো শহরে জরিপ করে জলাবদ্ধতা নিরসনের চূড়ান্ত একটি রূপরেখা তৈরি করে। এ কাজে প্রতিষ্ঠানটি ৪৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এ রূপরেখা মতে আমরা প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) পর্যন্ত গিয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প অনুমোদন পায়। একই বিষয়ে দুটি প্রকল্প রাখার যৌক্তিকতা না থাকায় চউক এ কাজটি করছে।
প্রকল্প পেলে চসিক জলাবদ্ধতা নিরসনে কতটুকু সফল হত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই। কারণ এ কাজে উপকরণ ও জনবলসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধাই রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের। তাই চসিকের পক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হবে। জলাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা চট্টগ্রামে একমাত্র সিটি কর্পোরেশনেরই আছে। সিটি কর্পোরেশন এই কাজটি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। সবচেয়ে বড় কথা হল সিটি কর্পোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনে যে প্রকল্পটি গ্রহণ করেছিল তার আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছিল। অর্থাৎ কোন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কি কাজ করতে হবে, তা কিভাবে করতে হবে সব পরিকল্পনাই প্রকল্পের মধ্যে ছিল। কিন্তু বর্তমানে সিডিএ প্রকল্পটি যেভাবে বাস্তবায়ন করছে, প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর পার হয়ে গেল, কাজের ধরন এবং অগ্রগতি দেখে মনে হচ্ছে কোনো রকমের স্টাডি ছাড়াই তারা প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। কারণ এখনও পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিয়ে তারা কোনো নকশা দিতে পারেনি। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কোন সম্ভাবনাও দেখছেন না মেয়র। কারণে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রকল্পের টাকাও ব্যয় করতে পারেনি চউক।
এক প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমি সফলভাবে কাজ করতে প্রচেষ্ট ছিলাম। তাই বলব, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমি সফল। চসিকের আইন প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট প্রতিটি দায়িত্ব আমি যথাযথ পালন করেছি। অতীত সময়ের সঙ্গে আমার কাজের তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ করলে আমার গ্রাফটা অনেক উপরে থাকবে। যেমন বলা যায়, আগে যা পাকা রাস্তা ছিল এখন তার দ্বিগুণ হয়েছে। একইভাবে কাঁচা সড়ক পাকা করা, নষ্ট সড়ক মেরামত করা, পানি নিস্কাশনে ড্রেনে-নালার সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন সড়ক নির্মাণ করা, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করাসহ নানা ক্ষেত্রে আমি সফলভাবে কাজ করেছি।
নগরপিতা বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন আইন মতে-সড়ক আলোকায়ন, বর্জ্য অপসারণ ও সড়ক মেরামত আমাদের অন্যতম কাজ। এসব কাজ আমি শতভাগ স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্নভাবে করছি। বর্তমানে নগরের ৫০ শতাংশ সড়কে আলোকায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। কিছুদিন আগে ২৬০ কোটি ব্যয়ে ৪৬৬ কিলোমিটার সড়কে বাতি দেওয়ার প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগর শতভাগ আলোকায়ন হবে।
সিটি মেয়র বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মতে ডোর টু ডোর পদ্ধতিতে বর্জ্য অপসারণ করে গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়তে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। যার ফলে নগরীতে উন্মুক্ত স্থানে ডাস্টবিনের সংখ্যা কমেছে। একসময় নগরীতে একটি ডাস্টবিনও থাকবে না উল্লেখ করে বলেন, অতীতে নগরীতে ১৩৫০টি ডাস্টবিন ছিল। এখন আছে মাত্র ৬০০টি। পর্যায়ক্রমে এগুলোও অপসারণ করা হবে। ফলে নগরে আর কোনো খোলা ডাস্টবিন থাকবে না। অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আবর্জনা পড়ে থাকলেও এখন আর থাকছে না। তিনি দাবি করেন, অতীতে অন্তত ২০টি সড়ক ও মোড়ে খোলামেলাভাবে আবর্জনা পড়ে থাকলেও এখন আর তা নেই। তাছাড়া পরিবেশ দূষণ রোধ, জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় গত তিন বছর ধরে রাতেই বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 372 People

সম্পর্কিত পোস্ট