চট্টগ্রাম বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ | ২:১৩ অপরাহ্ণ

নিজাম উদ্দিন লাভলু, রামগড়

ভিনদেশি জাতের কাঁঠাল পাহাড়ে

গরিবের আমিষ খ্যাত কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। মাটি ও আবহাওয়া চাষের উপযোগী হওয়ায় দেশের সব এলাকায় কাঁঠালের আবাদ হয়। অধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ফলটি কমবেশি সকলেরই প্রিয়। আমাদের দেশের মানুষ গ্রীষ্মকালীন এ ফলটি বছরে শুধুমাত্র জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় এ দুমাস মাস খেতে পারেন।

কারণ এ সময়ই কাঁঠাল পাকে। তবে কাঁঠাল প্রেমীদের জন্য সু-সংবাদ হচ্ছে, ভিয়েতনামি সুপার আর্লী কাঁঠাল নামে ভিনদেশি জাতের কাঁঠাল আবাদ করে সারা বছরই ফলটি খাওয়া যাবে। আর বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটিতে বছরে দু’বার ফল দেয়া বিশেষ এ জাতের কাঁঠাল চাষের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন উদ্ভিদ প্রেমী ফটিকছড়ির হালদাভ্যালি ও রামগড় চা বাগানের মালিক শিল্পপতি নাদের খান।

২০১৯ সালে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা চারা রোপনের পরের বছর থেকেই কাঁঠাল ধরা শুরু হয়। রামগড় চা বাগানের এমডি বাংলো এলাকায় অনাবাদি জায়গায় ২০০টি চারা রোপন করা হয়। রোপনের পরের বছরেই মাঝারি আকারের গাছগুলোর কা-, শাখা, প্রশাখায় কাঁঠাল ধরে। কাঁঠাল পাকতে না পাকতে গাছে পুনরায় ফল আসা শুরু করে।

ফলে বারো মাসই ফল থাকে গাছে। ১০-১৫ ফুট উচ্চতার সুপার আর্লী কাঁঠাল গাছগুলোর কাণ্ডের গোড়া থেকে পুরো শাখা-প্রশাখায় ফল ধরেছে। সুমিষ্ট, খাজা অর্থাৎ কোয়া অপেক্ষাকৃত শক্ত বা কচকচে। গাছে ফল আসার পর কাঁঠাল পাকতে ১২০-১৫০ দিন সময় লাগে।

নাদের খান জানান, শখ ও কৌতুহলশত ২০১৯ সালে মোট ১৬০০টি সুপার আর্লী কাঁঠালের চারা গাছ আমদানি করেন। রামগড় চা বাগানে ২০০টি এবং হালদাভ্যালি চা বাগান ও অন্যান্য স্থানে ১৪০০ গাছ রোপণ করা হয়। কিছু গাছ নষ্ট হয়ে যায়। বেশির ভাগই বেঁচে গেছে এবং ফল ধরছে।

দেশের মাটিতে ভিনদেশি বারোমাসি কাঁঠালের প্রত্যাশিত ফলন দেখে বেশ উৎসাহবোধ করছেন। এ ব্যাপারে  বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ফল বিভাগের  মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা  ডক্টর বাবুল চন্দ্র সরকার বলেন,  আমাদের  দেশের মাটিতে সুপার আর্লী কাঁঠাল চাষে সফলতা অত্যন্ত খুশির খবর। আমাদের দেশের আবহাওয়া ও মাটি কাঁঠাল চাষের উপযোগী। আর এ কারণে যেকোনো দেশের জাত এখানে চাষ করা সম্ভব। তিনি বলেন, রামগড় চা বাগানে সুপার আর্লী কাঁঠালের বাগান পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 265 People

সম্পর্কিত পোস্ট