চট্টগ্রাম শনিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২

সর্বশেষ:

৮ জানুয়ারি, ২০২২ | ১:৫২ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর 

চট্টগ্রামে টিকার বাইরে ৯৪% শিক্ষার্থী

এক ডোজ টিকা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস করতে পারবে না ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা। দেশে করোনার সংক্রমণ ফের বাড়তে থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা এলেও চট্টগ্রামে এখনও টিকার আওতায় আসেনি ৯৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় না এনেই সরকারের আলোচ্য সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।  চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলায় ১২-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৭২ জন। এরমধ্যে বিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪০ হাজার ২৩৮ জন। কলেজ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ৬১২ জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার ২২৩ জন। নগরীতে ১২-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৮ জন। এরমধ্যে বিদ্যালয় শিক্ষার্থী ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭১৬ জন, কলেজ শিক্ষার্থী ৫৫ হাজার ৯৯৭ জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ১৭ হাজার ১৮৫ জন।

গত বছরের ১৬ নভেম্বর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। নগরীর বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে প্রথমদিনে মোট ১ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থীকে ফাইজারের টিকার (ভ্যাকসিন) প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। টিকা কার্যক্রম শুরুর এক মাস ২০ দিন পার হলেও নগরীতে টিকার আওতায় এসেছে মাত্র ৫৩ হাজার শিক্ষার্থী। যা চট্টগ্রামের মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। এদের মধ্যে সরকারি স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী টিকা পেলেও অধিকাংশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টিকা পায়নি। এমনকি উপজেলাগুলোর কোনো শিক্ষার্থীকে এখনো টিকার আওতায় আনতে পারেনি সরকার। যা নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ সম্পর্কে নগরীর একাধিক কলেজ ও বেসরকারি কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস করা জরুরি। একইভাবে সব শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা আরো বেশি জরুরি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরুর ৫০ দিন পার হলেও এখনো নগরীর অনেক শিক্ষার্থী টিকার আওতায় আসেনি। উপজেলার শিক্ষার্থীদের কথা তো অনেক দূরের কথা।

অভিভাবকগণ আরও বলেন, এক ডোজ টিকা নেয়া ছাড়া সশরীরে ক্লাস করতে পারবে না, সরকার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গেলে সিংহভাগ শিক্ষার্থীই সশরীরে ক্লাস করতে পারবে না। তাই সব শিক্ষার্থীকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার পর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে সেটি সফল হবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার ফরিদুল আলম হোসাইনী বলেন, এ পর্যন্ত মহানগরীতে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষাথীদের মধ্যে ৫৩ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজ টিকা দিয়েছি। এছাড়া প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আমরা দ্বিতীয় ডোজ দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, শনিবার (আজ) থেকে উপজেলাগুলোতে ১২-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। সেখানে বড় পরিসরে টিকাদানের চেষ্টা করছি আমরা। দৈনিক ৮ থেকে ১০ হাজার শিক্ষার্থী যাতে টিকা নিতে পারে, আমরা সেভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 338 People

সম্পর্কিত পোস্ট