চট্টগ্রাম শনিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২

সর্বশেষ:

৩০ ডিসেম্বর, ২০২১ | ১:০৬ অপরাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

ডায়াবেটিসে ভুগছেন ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম প্রবাসী

চট্টগ্রামের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রবাসীই বিভিন্ন কারণে ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন, এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন একদল চিকিৎসক। মধ্যপ্রাচ্যসহ ৬ দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে চালানো এক গবেষণায় এমন তথ্য ওঠে এসেছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, শরীর চর্চায় অনীহা এবং ধূমপাণই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।
শুধু ডায়াবেটিসই নয়, এসব কারণে আলোচ্য দেশগুলোতে অবস্থান করা চট্টগ্রামের এসব প্রবাসীদের অর্ধেকের বেশি স্থূলতা ও উচ্চরক্তচাপের মতো নানান অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই প্রবাস জীবনে যাওয়ার পূর্বে এবং পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিয়মিত শরীর চর্চার ওপর জোর দিতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিআইএমসিএইচ) চিকিৎসা নেয়া একশ প্রবাসীদের মধ্যে চালানো গবেষণায় এসব তথ্য ওঠে আসে। গবেষণায় প্রবাসী ছাড়াও দেশে বসবাসরত একশ ব্যক্তির ওপর এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। তাতে দেশে বসবাসরতদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে প্রবাসীদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও উচ্চরক্তচাপজনিত অসংক্রামক রোগের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
জানা যায়, গবেষণায় অংশ নেওয়া ৩২ শতাংশ সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী। কাছাকাছিতে ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতারে বসবাসরত প্রবাসীরা। আর সবচেয়ে কম ১ শতাংশ ছিলেন ইতালি প্রবাসী ও ৫ শতাংশ ছিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী। গবেষণায় অংশ নেওয়াদের বয়স ছিল ২১ থেকে ৭১ বছর। অংশ নেওয়া প্রবাসীদের সাড়ে ৯ শতাংশ দোকানের বিক্রয়কর্মী, সাড়ে ৭ শতাংশ মেকানিক এবং ২ শতাংশ অফিসে চাকরিজীবী। এ ছাড়া নিজস্ব ব্যবসা, দৈনিক শ্রমিক, গাড়ি চালনার মতো পেশায় জড়িত রয়েছেন।
গবেষণায় দেখা যায়, ৫৯ শতাংশ প্রবাসী ডায়াবেটিস আর ৫৬ শতাংশ প্রবাসী ভুগছেন স্থূলতায় এবং ৪৬ শতাংশ প্রবাসী ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপে। গবেষণায় প্রাপ্ত উপাত্তে দেখা যায়, শতকরা ৮১ ভাগ প্রবাসীই রক্তের চর্বির সমস্যায় ভুগছেন। প্রবাসীদের তাৎক্ষণিক ইসিজি বিশ্লেষণে দেখা যায় শতকরা ১৬ ভাগ প্রবাসী হৃদরোগে আক্রান্ত বলেও গবেষণায় ওঠে আসে।
গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় গড়ে ১৫ বছর পরিবারহীন প্রবাসজীবনে ছিলেন তাঁরা। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টাকেও এ জন্য দায়ী করা হয় গবেষণায়। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা গড়ে ১১ ঘণ্টায় নিয়োজিত ছিলেন তাঁরা। আবার তাঁদের ২২ শতাংশ ধুমপায়ী এবং ৫৬ শতাংশ প্রবাসী শরীর চর্চা করেন না বলেও গবেষণায় ওঠে আসে।
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে চলা গবেষণায় অংশ নেন কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আমির হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা খানম, এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের হরমোন বিভাগের কনসালটেন্ট মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন ও একই হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের কনসালটেন্ট মোহাম্মদ আকতারুল ইসলাম চৌধুরী।
গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, প্রবাসীদের অনিয়ন্ত্রিত জীবন, বসে কাজ করা, হাঁটাহাঁটি কম করাসহ নানা কারণে এই রোগগুলো হচ্ছে বলে ধারণা করছি। চট্টগ্রামের প্রবাসী যাদের ওপর গবেষণা করা হয়েছে তারা বেশির ভাগই বসা কাজ করতেন। সবচেয়ে বেশি যেটা পাওয়া গেছে তাদের স্থূলতার ও ডায়াবেটিসের সমস্যা। এ ছাড়া রক্তে চবির পরিমাণও বেশি পাওয়া গেছে প্রবাসীদের। শুধুমাত্র এখানে বসবাসরতদের চেয়ে ইউরিক এসিডটা কম পাওয়া গেছে প্রবাসীদের। তাই প্রবাসীদের অসংক্রামক ব্যাধি থেকে সচেতন থাকার জন্য গবেষণায় কিছু সুপারিশ করা হয়। এরমধ্যে প্রবাস জীবনে যাওয়ার আগেই প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট সময় পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অন্যতম। এ ছাড়া প্রবাসীদের কর্মঘণ্টা কমানো এবং নিয়মিত শরীরচর্চার ওপর জোর দেওয়া হয়।

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 640 People

সম্পর্কিত পোস্ট