চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৩০ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:২৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মশার ওষুধ নিয়ে চসিকের সভায় হট্টগোল, মেয়রের অসন্তোষ

মশা নিধনের ওষুধ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। চসিকের প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি মোবারক আলীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে কাউন্সিলররা বিভক্ত হয়ে পড়েন। এতে হট্টগোল শুরু হলে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী কাউন্সিলরদের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর আন্দরকিল্লায় পুরাতন নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় এ ঘটনা ঘটেছে।

সভায় উপস্থিত কাউন্সিলরদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মশার ওষুধ কেনা নিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও চসিকের ৭ নম্বর ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী এবং উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরীর মধ্যে সম্প্রতি দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। মোবারক আলী চান, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধ ‘ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি’ কিনতে। আর মোরশেদুল আলম চান সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর ব্যবহার করা ওষুধ ‘টেমিফস’ ব্যবহার করতে। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বে মশার ওষুধ কেনা যাচ্ছে না। এতে নগরীতে মশার উৎপাত চরম আকার ধারণ করেছে।সেই দ্বন্দ্বের প্রভাব সাধারণ সভায় পড়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন কয়েকজন কাউন্সিলর।  সভায় প্রতি লিটার ৫৯০ টাকা দরে মশা মারার ওষুধ কেনার প্রস্তাব করেন উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী। প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটন সরাসরি এর বিরোধিতা করেন। তিনি নিজের কারখানায় মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধ ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। লিটন জানান, তার গুদামে মাত্র ১৭০ টাকা দামে কেনা মশা মারার কীটনাশক রয়েছে। যেটি ব্যবহার করলে মশার পাশাপাশি পোকামাকড়ও মারা যায়। তার কাছ থেকে বিনামূল্যে এক ড্রাম নিয়ে সিটি করপোরেশনকে সেটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। যদি কার্যকরিতা পাওয়া যায় সরকারি নিয়ম মেনে দোকান থেকে সেটি কেনার প্রস্তাব করেন।

প্যানেল মেয়রের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন কাউন্সিলর মোবারক আলী। তিনি বলেন, চাইলেই যে কোনো ওষুধ সিটি করপোরেশন কিনতে পারে না। মশার ওষুধ কিনতে গেলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ (আইইডিসিআর) বিভিন্ন সংস্থার ছাড়পত্র লাগে। জাতীয় মশক নিধন নির্দেশিকা আছে, সেটি মেনে চলতে হয়। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়।মোবারক আলীর বক্তব্যের মধ্যেই লিটন দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এসময় কাউন্সিলরদের অধিকাংশ বিভক্ত হয়ে পড়েন। সভায় হট্টগোল শুরু হয়। কয়েকজন কাউন্সিলর মেয়রের হস্তক্ষেপ চেয়ে বলতে থাকেন, ‘মাননীয় মেয়র, আমরা ঝগড়া চাই না। আপনি সমাধান করেন। দ্রুত মশার ওষুধ প্রয়োগের ব্যবস্থা করেন। নগরবাসী মশার যন্ত্রণায় অতীষ্ঠ।’এর মধ্যেই মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী মাইক নিয়ে সবাইকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি একজনের বক্তব্য চলাকালীন আরেকজনকে দাঁড়িয়ে কথা না বলার অনুরোধ করেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়। সূত্র:সারাবাংলা

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট