চট্টগ্রাম সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২

২৯ নভেম্বর, ২০২১ | ১:২৫ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর 

কারিগরি শিক্ষাই গড়বে আগামী

উন্নত দেশের শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী হলেও এখনো উল্টো পথেই হাঁটছেন আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা। মেধাবীরা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে আর তুলনামূলক কম মেধাবীরা পড়বে কারিগরি শিক্ষায়, এমন চিন্তাধারায়ই আটকে আছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। সংশিষ্টরা বলছেন, সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দিতে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা গ্রহণকারীদের ভাল বেতনে  চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। 

কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের তথ্য মতে, বর্তমানে সারা দেশে ১০ হাজারের বেশি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। সরকার ২০২০ সালের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার হার ২০ শতাংশ (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে বর্তমানে (২০২১ সালে) এই হার মাত্র ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়। এ ছাড়া বিএম, ভোকেশনাল, কৃষি ডিপ্লোমা রয়েছে। যারা এসব কোর্স করছে, তাদের সহজেই কর্মসংস্থান হচ্ছে।

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ফারাক থাকলেও তাদের বেকার থাকতে হচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারি খাতে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও এখনো উল্লেখযোগ্য হারে শিক্ষার্থী বাড়ছে না। আমাদের দেশের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে কারিগরি শিক্ষায় পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের দেশে মধ্যম পর্যায়ের (মিড লেভেল) ইঞ্জিনিয়ার এবং টেকনিশিয়ানের চাকরির বাজার হাতছাড়া হয়ে যাবে। সেই শূন্যতা পূরণ করতে বিদেশ থেকে এই দুই খাতে লোক আমদানি করা ছাড়া উপায় থাকবে না। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। আমাদের দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য শিল্প-কলকারখানা থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 606 People

সম্পর্কিত পোস্ট