চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

২৯ নভেম্বর, ২০২১ | ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

চসিকের উদ্যোগ: কার্যকর হবে ১ ডিসেম্বর

চট্টগ্রামে পলিথিনমুক্ত হচ্ছে তিন বাজার

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকেই নগরীর তিনটি কাঁচাবাজার পলিথিনমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। প্রাথমিকভাবে চকবাজার, কাজীর দেউড়ি এবং আগ্রাবাদ চৌমুহনীর কর্ণফুলী কাঁচাবাজার পলিথিনমুক্ত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নগরীর সব কাঁচাবাজার পলিথিনমুক্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরীকে পলিথিনমুক্ত করতে চসিকের পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির পক্ষ থেকে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, মাইকিং ও ফ্রি কাপড়ের ব্যাগ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে চসিকের সিকিউরিটি গার্ডের মাধ্যমে প্রবেশপথ মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন প্রয়োগ করা হবে।

নগরীকে পলিথিনমুক্ত করার উদ্যোগটি আজ সোমবার উদ্বোধন করবেন চসিক মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী। সকাল ১০টায় চকবাজার, সাড়ে ১০টায় কাজীর দেউড়ি এবং ১১টায় কর্ণফুলী কাঁচাবাজারে আয়োজিত সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথি থাকবেন তিনি। পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন এতে অংশ নেবেন।

বাজার যেভাবে পলিথিনমুক্ত হবে:

নগরীর তিন কাঁচাবাজারে সোমবার থেকে শুরু হওয়া সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ১ সপ্তাহ ধরে চলবে। এই সময়ে একটি বাজারে ১০ হাজার করে মোট ৩০ হাজার কাপড়ের ব্যাগ ফ্রিতে ক্রেতাদের বিতরণ করা হবে। ১ ডিসেম্বর থেকে এই তিন বাজারে পলিথিন নিয়ে কেউ প্রবেশ বা বের হতে পারবেন না। বাজারের কোনো দোকানিও পলিথিন রাখতে পারবেন না।

পলিথিনমুক্ত কাঁচাবাজার বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি কাঁচাবাজারের প্রবেশ পথে সিটি কর্পোরেশনের দুইজন সিকিউরিটি গার্ড সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। তিনটি এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অডিটিং ও রেকর্ডিং চালাবেন। এছাড়া চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতিদিন বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পলিথিন যেভাবে ক্ষতি করছে:

চসিকের কর্মকর্তারা জানান- পলিথিনের ব্যপক ব্যবহারের কারণে চসিকের নালা-নর্দামাগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে নগরীতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের লাইনে কর্ণফুলীতে অতিরিক্ত পলিথিন পড়ায় ড্রেজিং করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পলিথিন পুড়িয়ে বায়ু দূষণ করা হচ্ছে। মাটিতে পুঁতে উর্বরতা নষ্ট করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিবেশের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে।

এসব বিষয় মাথায় রেখে নগরীকে পলিথিনমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় চসিকের পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায়। এ নিয়ে কমিটির সভাপতি শৈবাল দাশ সুমন বৈঠক করেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, বাজার কমিটি, এনজিও ও অংশীজনদের সঙ্গে। বৈঠকে নগরীকে পলিথিনমুক্ত করার রূপরেখা তুলে ধরে তাদের সহায়তা চান তিনি।

চাহিদা কমলে উৎপাদন বন্ধ হবে:

জানতে চাইলে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন পূর্বকোণকে বলেন, পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হওয়ার পর থেকেই আমি ‘পলিথিনমুক্ত চট্টগ্রাম’ কনসেপ্ট নিয়ে কাজ শুরু করি। তারই ধারাবাহিতকতায় চট্টগ্রামে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা প্রথমে সচেতন করবো সবাইকে। পরে কেউ না মানলে আইন প্রয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, অনেকে কারখানা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা দেখেছি- চট্টগ্রামে পলিথিনের যে চাহিদা তার মাত্র ১০ শতাংশ চট্টগ্রামের কারখানায় উৎপাদন হয়। বাকি ৯০ শতাংশ বিভিন্ন জেলা থেকে আনা হচ্ছে। তাই শুধু উৎপাদন বন্ধ করলে হবে না। ব্যবহারই বন্ধ করতে হবে। চাহিদা না থাকলে, ব্যবহার বন্ধ হলে উৎপাদন এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।

লোকদেখানো উদ্যোগ যেন না হয়:

নগরীর কাঁচাবাজার পলিথিনমুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। তারা বলছেন- সুন্দর এই উদ্যোগ যেন নিয়মিত মনিটরিংয়ে রাখা হয়। শুধু উদ্যোগেই যেন সীমিত না থাকে। এই প্রসঙ্গে বাপা চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. এবিএম আবু নোমান পূর্বকোণকে বলেন, পলিথিনমুক্ত করার উদ্যোগ অবশ্যই সাধুবাদ যোগ্য।

তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় সুন্দর সুন্দর উদ্যোগ নিই। কিছুদিন এসব উদ্যোগ নিয়ে মাতামাতিও হয়। কিন্তু পরে আর মনিটরিং করা হয় না। কাঁচাবাজার পলিথিনমুক্ত করার উদ্যোগটি যেন সেরকম না হয়। শুধু লোক দেখানো না হয়। বাজারগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। যারা আইন মানবে না ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় যেন আনা হয়।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট