চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

২৭ নভেম্বর, ২০২১ | ১:৩৭ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 

ইউপি নির্বাচন : ‘নৌকার’ ঘরের শত্রু বিভীষণ

ঘর শত্রু পিছু ছাড়ছে না আওয়ামী লীগের। দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যাও। চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি চলছে। মনোনয়ন-বঞ্চিত প্রার্থীরা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন আ. লীগ দলীয় প্রার্থীরা। তিন উপজেলায় ২৭ ইউনিয়নের মধ্যে দুটি বিনাভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। আর ১২ ইউপিতে রয়েছে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী।

গত বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন। আগামী ২৬ ডিসেম্বের চতুর্থ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ধাপে জেলার পটিয়া, কর্ণফুলী ও লোহাগাড়া উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৯৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরমধ্যে দুইজন একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ১৪ ইউপিতে আ. লীগের ২৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমান চেয়ারম্যান ও দলের স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চ পদে রয়েছেন। এতে আ. লীগ প্রার্থীদের এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

দেখা যায়, পটিয়ার আট ইউনিয়নে ১২ জন, লোহাগাড়ার তিন ইউনিয়নে ৬ জন ও কর্ণফুলীর তিন ইউনিয়নে ৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, ‘মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে সমঝোতার চেষ্টা করেছি। অনেকেই প্রত্যাহার করে নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।’ দাখিল করা মনোনয়নপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পটিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তাদের মধ্যে অনেকেই দলীয় পদ-পদবিধারী। কুসুমপুরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইব্রাহীম। বড় শো-ডাউন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর রশিদ চৌধুরী এজাজ। তিনি স্থানীয় সাংসদ হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এজাজ ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাকারিয়া ডালিমও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

কোলাগাঁও ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আহমদ নুর। মনোনয়ন জমা দেন সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সামশুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাসেম রাসেল। বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সামশুল ইসলামের সুনাম ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। চেয়ারম্যান থাকাকালীন এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। নৌকা প্রার্থীর বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সামশুল ইসলামকে নিয়ে। হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নে আ. লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন গতবারের পরাজিত দলীয় প্রার্থী ফৌজুল কবির কুমার।

এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন যুবলীগ নেতা মোজাম্মেল হক লিটন। এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মো. শফিকুল ইসলাম। হাইদগাঁও ইউনিয়নে আ. লীগের প্রার্থী যুবলীগ নেতা মুহাম্মদ ফয়সল। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বিএম জসিম। জিরি ইউনিয়নে আ. লীগের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম টিপু। বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম ভোলা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

আশিয়া ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হাশেম। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বেলাল উদ্দিন, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাইনুল হক রাশেদ। ধলঘাট ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হলেন রনবীর ঘোষ টুটুন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক শফিউল আলম বাদশাহ। জঙ্গলখাইন ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন যুবলীগ নেতা ও বর্তমান মেম্বার শাহাদাত হোসেন সবুজ।

লোহাগাড়া উপজেলার ছয় ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে বড়হাতিয়া ইউনিয়নে আ. লীগ প্রার্থী বিজয় কুমার বড়ুয়া একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। আর ৫ ইউপিতে অস্বস্তিতে রয়েছে আ. লীগের প্রার্থীরা।  পদুয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশিদ।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ ঘরনার বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জহির উদ্দীন, আকতার কামাল পারভেজ, মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ মনোনয়নপত্র জমা দেন। কলাউজান ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এমএ ওয়াহেদ। আছেন আ. লীগ ঘরনার মো. এয়াছিন ও মো. জাহাঙ্গীর আমিন। চুনতি ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন জুনু ও আওয়ামী লীগ ঘরনার মো. আনিস উল্লাহ।

কর্ণফুলী উপজেলার চার ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের ৫ বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে তিনজন বর্তমান চেয়ারম্যান।

চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান তালুকদার, বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী ও আওয়ামী লীগ ঘরানার নাছির আহমদ। শিকলবাহা ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম ফোরকান ও উপজেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। জুলধা ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজি নুরুল হক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান রফিক আহমদ, উপজেলা যুবলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মুছা।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট