চট্টগ্রাম সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১

সর্বশেষ:

১৫ জুলাই, ২০১৯ | ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা হ কর্ণফুলী

যৌতুকের বলী ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ তানিয়া পরিবারের অভিযোগ

যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতন করে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। নিহত তানিয়া আক্তার কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের আমির বলির বাড়ির নুরুল আবছারের মেয়ে। পাঁচ মাস আগে তার সাথে পারিবারিকভাবে বান্দরবান জেলার আলীকদম থানার এক নম্বর ওয়ার্ড সিলেটি পাড়ার জসিম মাস্টারের বাড়ির আব্দুর রহমান মিনার বিয়ে হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করতে তানিয়ার পিতা গতকাল (রোববার) বান্দরবান জেলার আলীকদম থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ১০ জুলাই দুপুর একটার দিকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন ১১ জুলাই ময়নাতদন্ত শেষে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নিহত তানিয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এ বছর ২৫ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে তানিয়ার বিয়ে হয় টেইলারিংয়ের কারিগর আব্দুর রহমান মিনার সাথে। বিয়ের পর কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। বিয়ের সময় তানিয়ার পিতা ধারদেনা করে স্বামী আব্দুর রহমান মিনাকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন তার বাড়ি আলীকদমে ঘর নির্মাণ করার জন্য। পরে তানিয়াকে নিয়ে স্বামী মিনা শিকলবাহার বাসা ছেড়ে আলিকদমে চলে যান। কিন্তু এরপর থেকে স্বামী মিনা আরও টাকা দাবি করতে থাকেন। এরপর বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তানিয়াকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতো শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিন্তু স্বল্প বেতনে চাকরি করা তানিয়ার পিতার পক্ষে আর টাকা দেয়া সম্ভব হয়নি।
নিহতের চাচা আমির আহমেদ জানান, নির্যাতনে অসুস্থ তানিয়াকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আলীকদম থেকে হানিফ পরিবহনের একটি গাড়িতে তুলে দেয় একা। মোবাইলে তারা তানিয়ার বাবাকে মেয়েকে চট্টগ্রামের মইজ্জারটেক এলাকা থেকে নেওয়ার জন্য জানায়। ওই গাড়ি থেকে মেয়েকে নেওয়ার সময় দেখা যায়, তানিয়ার গায়ে জ্বর, কাশি। সেই সঙ্গে পুরো শরীরে ব্যাথা। এ সময় তানিয়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের কথা জানান পরিবারকে। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা তানিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ৯ জুলাই রাতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরদিন দুপুর একটার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় রোববার রাত পর্যন্ত নিহত তানিয়ার পিতা নুরুল আবছার আলীকদম পৌঁছাতে পারেননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ শাসসুল তাবরীজ দৈনিক পূর্বকোণকে জানান, যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতনে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় মামলার বিষয়ে স্থানীয়রা আমার সাহায্য কামনা করলে আমি ফোনে আলীকদম উপজেলার ইউএনও ও থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 761 People

সম্পর্কিত পোস্ট