চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২১

সর্বশেষ:

১৮ অক্টোবর, ২০২১ | ১:৫৫ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

তিন উপজেলায় বিদ্রোহীর ছড়াছড়ি

দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের তিন উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহী ফটিকছড়িতে। এখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরির বড় ভাই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে গতকাল ফরম জমা দিয়েছেন। এছাড়া মিরসরাই উপজেলার ৭টি এবং সীতাকুণ্ডের তিনটি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। কোনো কোনো ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদেও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ থাকলেও সাধারণ সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে দলীয় প্রতীক নেই। দল থেকে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন না থাকলেও অনানুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের সমর্থন কারা পাচ্ছেন তা-ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগ নির্ধারণ করে দেয়। এক্ষেত্রে অধিকাংশ ওয়ার্ডে যারা দলের সমর্থন পাননি, সেসব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মেম্বার পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মূলত চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন পেয়েই মেম্বার পদে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন বারৈয়াঢালা, বাড়বকুণ্ড ও বাঁশবাড়িয়ায় স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। অপরদিকে, মিরসরাইয়ের ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২ জন, ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১ জন, ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১ জন, ৯ নম্বর মিরসরাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২ জন এবং ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে একজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
ফটিকছড়ি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী না থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সমর্থন পাবেন এমন আশায়ও অনেকে প্রার্থী হয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী একজন, দাঁতমারায় ২ জন, নারায়ণহাটে ২ জন, পাইন্দং ইউনিয়নে একজন, রোসাংগিরী ইউনিয়নে একজন, জাফতনগর ইউনিয়নে একজন, বখতপুর ইউনিয়নে একজন, আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে ২ জন, লেলাং ইউনিয়নে একজন, সমিতিরহাট ইউনিয়নে ২ জন, ধর্মপুর ইউনিয়নে একজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। ফটিকছড়ির ১১ ইউনিয়নে ১৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
ফটিকছড়িতে বিদ্রোহী প্রার্থী বেশি হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এটিএম পেয়ারুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, তারা চেষ্টা করছেন বিদ্রোহীদের নিভৃত করতে। আশা করছেন মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন বিদ্রোহীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ফটিকছড়ি আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে তিনি জানান।
বিদ্রোহী প্রার্থী প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম পূর্বকোণকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তাদেরকে জননেত্রী শেখ হাসিনাই মনোনয়ন দিয়েছেন। কোনো দলীয় নেতাকর্মীর পক্ষে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার সুযোগ নেই। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ প্রার্থী হলে তা সরাসরি সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য হবে। তাদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে।

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 873 People

সম্পর্কিত পোস্ট