চট্টগ্রাম শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১

১৩ অক্টোবর, ২০২১ | ১:০৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রপ্তানি কনটেইনারের ওজন নির্ধারণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে

রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে বোঝাই করার পূর্বে এর ওজন নির্ধারণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। মূলত কনটেইনারবাহী জাহাজের ভারসাম্য রক্ষা ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এই নিয়ম আন্তর্জাতিকভাবে আগেই চালু করা হয়েছিল।

কিন্তু ব্যবহারিক পর্যায়ে কোন কোন ক্ষেত্রে এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় এখন এটি বাধ্যতামূলক করছে চট্টগ্রাম বন্দর। এ নিয়ম যথাযথভাবে পালন করতে শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনকে গত ৩ অক্টোবর চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী একজন রপ্তানিকারককে পণ্য জাহাজে বোঝাই করার পূর্বে তার পণ্য বোঝাই কনটেইনারের ওজন নির্ধারণ করে নিতে হয়। দুই উপায়ে তারা এই কাজটি করে থাকে। প্রথমটি হলো- সব পণ্য কনটেইনারে বোঝাই করে পণ্যসহ পুরো কনটেইনারের ওজন করে নেওয়া।

দ্বিতীয়টি হলো, আলাদাভাবে কনটেইনারের ওজন, পণ্যের ওজন ও প্যাকিং ম্যাটেরিয়ালের ওজন করে একত্রে সবগুলো যোগ করা। তাদের তৃতীয় পক্ষীয় কোন ওজন নির্ধারণকারী সংস্থাকে দিয়ে এ কাজ করে নিতে হয়। ওজন নির্ধারণের পর ভেরিফাইড গ্রস মাস (ভিজিএম) কমপ্লাইন্স সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। সেটি তারা ফ্রেইট ফরোওয়ার্ডার্স ও শিপিং এজেন্টদের প্রদান করে।

শিপিং এজেন্ট ওই ভিজিএম রিপোর্ট দাখিল করে জাহাজের ক্যাপ্টেন ও কনটেইনার জাহাজীকরণে নিয়োজিত টার্মিনাল অপারেটরকে। রিপোর্ট দেখেই জাহাজে কনটেইনার বোঝাই করা হয় এবং ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। এসব নিয়ম চালু থাকার পরেও সম্প্রতি কোন কোন ক্ষেত্রে এই ভিজিএম দাখিল করছে না অনেক রপ্তানিকারক। তাই এটি বাধ্যতামূলক করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের ১১ নম্বর জেটিতে পানামা পতাকাবাহী এমভি ওইএল হিন্দ নামের একটি কনটেইনার জাহাজ থেকে আমদানি কনটেইনার নামিয়ে রপ্তানি কনটেইনার বোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে জাহাজটি একদিকে কাত হয়ে যায়। পরে ওই জাহাজের যাত্রা বাতিল করে সতর্কতার সাথে সব কনটেইনার নামিয়ে পুনরায় ভিজিএম অনুযায়ী ভারসাম্য রক্ষা করে কনটেইনার জাহাজে বোঝাই করা হয়। পরে সার্ভে করার পর জাহাজটি পুনরায় ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি পায়। সে সময় অতিরিক্ত ৩দিন জাহাজটি জেটিতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাই বুঝিয়ে দেয় জাহাজে কনটেইনার বোঝাইয়ের ক্ষেত্রে ভিজিএম সার্টিফিকেট কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের নভেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) এর ‘দ্য কনভেনশন ফর দ্য সেফটি অব লাইফ এট সি (সোলাস)’ আন্তর্জাতিকভাবে কনটেইনার জাহাজীকরণে ভিজিএম সিস্টেম আলোচনায় আনে। এটি বিশ্বব্যাপী ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়। বাংলাদেশ সোলাস কনভেশনের একটি স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ওই নিয়ম মানতে বাধ্য।

আন্তর্জাতিক এই নিয়ম যথাযথ পালনে কড়া অবস্থানে যাচ্ছে বন্দর। ইতিমধ্যে নৌ বাণিজ্য দপ্তর থেকেও আন্তর্জাতিক ভিজিএম সার্টিফিকেট দাখিলের ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়।

পূর্বকোণ/ এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 372 People

সম্পর্কিত পোস্ট